ছাত্রলীগের হামলায় ওসমানী মেডিকেলের শিক্ষার্থী নিহতের অভিযোগ

0
68
Print Friendly, PDF & Email

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের হামলায় কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম (২৬) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাওহীদুল ওসমানী মেডিকেল কলেজে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আজ বুধবার সন্ধ্যার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাওহীদুলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল প্রতিষ্ঠানটিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরের স্টেডিয়াম এলাকাসংলগ্ন মেডিকেল কলেজের আবুসিনা ছাত্রাবাসের বাসিন্দা তাওহীদুল। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাসির মেহেদী তাওহীদুলকে ছাত্রদল কর্মী বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ ওঠেছে, ছাত্রলীগের নতুন কমিটির একটি পক্ষ তাঁর (তাওহীদুল) ওপর হামলা করেছে।
রাত নয়টার দিকে যোগাযোগ করলে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনা সম্পর্কে ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসের একাধিক ছাত্র ও কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, নগরের স্টেডিয়াম এলাকাসংলগ্ন মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসের বাসিন্দা তাওহীদুল। মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৌহিদ ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা-কর্মীদের আক্রোশের মুখে পড়েন। গত প্রায় এক সপ্তাহ তাঁকে বিভিন্নভাবে শাসিয়ে আজ সন্ধ্যায় ছাত্রাবাসে গিয়ে তাঁকে ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে বাগিবতন্ডার একপর্যায়ে রামদা দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ফেলে চলে যায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রাবাসের একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, সম্প্রতি মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার পর নতুন করে প্রভাব বিস্তার নিয়ে তত্পরতা শুরু হয়। তাওহীদুলের প্রভাব ভাঙতেই তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা হতো। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির একটি পক্ষ তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। তখন তৌহিদ ছাত্রলীগকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে গালি দেন। এর জের ধরে ছাত্রলীগের ওই পক্ষটি তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এ কারণে যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলা হতে পারে—এ আশঙ্কায় তাওহীদুল কলেজ অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়ে রেখেছিলেন।
তবে আজ রাতে যোগাযোগ করলে অধ্যক্ষ এ বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কে বা কারা তাঁকে ফেলে রেখে যায়। তাঁকে তখন অচেতন অবস্থায় দেখা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আইসিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল।’
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। একজন ছাত্র খুন হয়েছেন বলে আমি পুলিশকে জানিয়েছি। কারা খুন করেছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।’
ছাত্রলীগের কারা হামলা করেছে—এ ব্যাপারে জানতে কলেজ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি সৌমেন দের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে কলটি রিসিভ হয়নি।
এদিকে শিক্ষার্থী মৃত্যুর খবর পেয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল এলাকায় যায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তান্তর সাপেক্ষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন