র্যাব কমান্ডারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার নির্দেশ আদালতের

0
248
Print Friendly, PDF & Email

জেলার নবীনগরের ব্যাবসায়ী শাহনুর আলম হত্যার ঘটনায় র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়কসহ ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা রজু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।আজ এ নিয়ে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলাটি দায়ের করার নির্দেশ দিলেন।

নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ এনে র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ জেড এম শাকিব সিদ্দিক ও আট সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল গত রবিবারই। নিহতের ভাই মেহেদী হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহারের আদালতে মামলাটি করেন। পরে মামলাটির অধিকতর শুনানি এবং আদেশের জন্য আজ চার জুন তারিখ ধার্য করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বাদী মেহেদী হাসান আর্জিতে উল্লেখ করেন, গত ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় সাদা পোশাক পরিহিত তিন ব্যক্তি বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে বাদীর চাচা সামছুল হকের কাছে রহিছ মেম্বারের ছেলেরা বাড়িতে আছে কিনা জানতে চায়।

সামছূল হক জানান, শাহনুর আলম বাড়িতে আছেন। তখন তারা রহিছ মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে পানি আনতে বলে। শাহনুর পানির জগ ও গ্লাস নিয়ে আসার সাথে সাথে অজ্ঞাতনামা আরো ছয় ব্যক্তি সাদা পোশাকে ঘরে প্রবেশ করে। এবং অস্ত্রের মুখে তাকে চোখ ও মুখ বেধে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় তাকে নবীনগর থানায় র‌্যাবের গাড়িতে শুইয়ে রাখে। ওই দিন সন্ধ্যার পর তার মুখ চোখ বাধা অবস্থায় ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে ২৯ এপ্রিল রাত ১১ থেকে দেড়টা পর্যন্ত ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিক শাহনুর আলমের কোমড়ের নিচে ২ গাদা ও পশ্চাদেশ থেকে শুরু করে পায়ের তলা পর্যন্ত এবং হাতের কনুইয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এক পর্যায়ে বুট জুতা দিয়ে কোমরে ও তলপেটে লাথি মারে। নির্মম ও নৃশংস নির্যাতনে শাহনুর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৮টায় জ্ঞান ফিরে এলে ৩০ এপ্রিল তাকে নবীনগর থানায় এনে পুলিশ হেফাজতে দিয়ে যায়। এ সময় নবীনগরের মৃত শরফত আলীর পুত্র আবু তাহের মিয়াকে (৪৫) থানায় ডেকে এনে তাকে বাদী করে শাহনুরসহ কয়েকজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা  দায়ের করে।

এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১ মে কোর্টে চালান দেয়া হয়। মামলা দায়েরের পূর্বেই ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের এসআই মোঃ এনামূল হক ভূইয়া ২৯ এপ্রিল একটি জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। অমানুসিক নির্যাতন শাহনুর আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কারা কর্তৃপক্ষ ৪ মে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে ৬ মে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শেয়ার করুন