সাতছড়ির অস্ত্রের ভাণ্ডার পরেশ বড়ুয়ার: আনন্দবাজার

0
134
Print Friendly, PDF & Email

ভারতীয় গোয়েন্দাদের খবরেই হবিগঞ্জে সাতছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে র‌্যাব অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করেছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। বুধবার প্রকাশিত পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাতছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে আবিস্কৃত অস্ত্রের ভাণ্ডার ত্রিপুরার জঙ্গি সংগঠন উলফা’র প্রধান পরেশ বড়ুয়ার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তে বাংলাদেশের সাতছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যেই জঙ্গিদের অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে বলে খবর দিয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। তার পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে জঙ্গলে সাতটি লুকোনো বাঙ্কারের হদিশ পায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সেই বাঙ্কারে মিলেছে ১৮৪টি শক্তিশালী রকেট লঞ্চার, বেশ কিছু ট্যাঙ্কবিধ্বংসী গোলা, ১৫৩টি রকেট চার্জার, শ’দুয়েক মর্টারের গোলা ও বিস্ফোরক।
আলফার সহযোগী জঙ্গি সংগঠন এটিটিএফ (অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স) নেতা রঞ্জিত দেববর্মা ধরা পড়ার পরে তাকে জেরা করেই ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাতছড়ির জঙ্গলে অস্ত্রভাণ্ডারের খবর পান গোয়েন্দারা। তার পর বারে বারেই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়। কয়েক বার অভিযান চালিয়েও পুলিশ কিছু পায়নি। সম্প্রতি ফের ভারতীয় গোয়েন্দারা সাতছড়িতে অস্ত্রের হদিশ দিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠান।
গোয়েন্দারা জানতে পারেন, আলফার বহিষ্কৃত নেতা পরেশ বরুয়া চিন থেকে মায়ানমারের পথে যে অস্ত্র পাঠান, তা এই সাতছড়ির জঙ্গলে জমা করে রাখা হয়। সুযোগ মতো তা ভারতে জঙ্গিদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বার তল্লাশির দায়িত্ব দেয় র‌্যাবকে। অভিযানের বিষয়ে এ বার পুলিশকেও আড়ালে রাখা হয়।
রোববার রাতভর অভিযানে র‌্যাবও প্রথমে বিশেষ কিছু পায় না। একটি টিলার ওপর কয়েকটি কুয়ো দেখেন তল্লাশিকারীরা। ভোরের দিকে র‌্যাবের এক সদস্য দড়ির মই বেয়ে ধরে তার মধ্যে নামতেই লুকোনো বাঙ্কারের বিষয়টি জানা যায়। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বের পদস্থ কর্তারা হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সোমবার বেলা ১১টায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরুর পরে একে একে সাতটি কুয়োর মধ্যে সাতটি বাঙ্কার মেলে। সেগুলিতেই পাওয়া যায় থরে থরে অস্ত্রশস্ত্র। র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, মেয়াদ ফুরোনো বেশ কিছু বিস্ফোরক মেলায় মনে করা হচ্ছে, অনেক দিন ধরেই সেগুলি জমা করে রাখা আছে। নজরদারি বাড়ায় জঙ্গিরা সেগুলি পাচার করে উঠতে পারেনি।

শেয়ার করুন