চারটি ইকোনোমিক জোন তৈরি করবে সরকার

0
43
Print Friendly, PDF & Email

তিন জেলায় চারটি ইকোনোমিক জোন (বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা) তৈরি করা হবে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন হয়। একনেকের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

একনেক বৈঠকে ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার চারটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। চারটি প্রকল্পের মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার ১৭১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চারটি প্রকল্পের মধ্যে নতুন দুটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-১)’ শীর্ষক ৯১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে জিওবি ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি জানুয়ারি, ২০১৪ হতে জুন ২০১৬ এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, ‘সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে এ বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠন করা হবে। ইপিজেড এর সঙ্গে এর পার্থক্য হলো ইপিজেড শুধুমাত্র রফতানি নির্ভর পণ্য উৎপাদন করা হয় কিন্তু বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হবে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ১৩ জেলায় তৈরি করা হবে ‘ইমার্জেন্সি সাইক্লোন সেন্টার’। প্রায় ৩ হাজার ২শত কোটি টাকার এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠকসূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকার জন্য ‘ইমার্জেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকভারি এন্ড রেন্ট্রোরেশন প্রজেক্ট (ইসিআরপিএস)’ নামক সংশোধিত প্রকল্পটি পাশ করা হয়। প্রকল্পটি জিওবি ও বৈদেশিক অর্থায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, প্রাণীসম্পদ অধিদফতর, মৎস্য অধিদফতর, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়ধীন রয়েছে।

প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ৭৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ১০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল আগস্ট, ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘দেশের উপকূলবর্তী ১৩টি জেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

এছাড়া ‘মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ শীর্ষক ১ হাজার ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সেনাসদর, ইইনসির শাখা, পূর্ত পরিদফতর, ঢাকা সেনানিবাস ও ডিএসডিএসসি, মিরপুর সেনানিবাস কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি জানুয়ারি, ২০০৯ হতে জুন ২০১৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

একনেক বৈঠকে ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ শীর্ষক ৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। প্রকল্পটির আওতায় বিদ্যমান একটি ছাত্র হলের সম্প্রসারণসহ নতুন একটি ছাত্রী হল নির্মাণ, বিদ্যমান তিনটি একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণসহ চতুর্থ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘একনেক’ পাস হওয়া চারটি প্রকল্প নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শেয়ার করুন