মরে গিয়ে বেঁচে গেছে নইলে জিয়াকেও আসামি করতাম

0
50
Print Friendly, PDF & Email

দলকে সুসংগঠিত করার ওপর জোর দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী, এমপি ও উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলেছেন, একটি সুনির্দিষ্ট ল্য স্থির করেই আমরা সরকার পরিচালনা করছি। পাশাপাশি আমাদের দলকেও সুসংগঠিত করতে হবে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের এক যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততা আছে। মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, নইলে ওরেও আসামি করতাম। আসামি করতাম, এটাই পরিষ্কার কথা।’
সভায় শেখ হাসিনা গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকেরও বেশি সংসদ সদস্যের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের এই মন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উনি তো ’৭০, ’৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া আসনে আনকনটেস্টে জিতেছিলেন, এখন তিনি এ নিয়ে কথা বলেন কিভাবে?’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বাজেটের ল্য সংসদ সদস্যরা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। সংসদ সদস্যদের বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ মূলত দুইবারই আসে। তা হলো মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ, আলোচনা ও বাজেটের ওপর আলোচনা।
তিনি বলেন, ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় খুব বেশি সীমাবদ্ধতা থাকে না কারণ তখন পার্লামেন্ট আমরা যত দিন খুশি চালাতে পারি। কিন্তু বাজেট অধিবেশনে সেই সুযোগটা খুব বেশি থাকে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করতে হবে। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে সরকারি ছুটি থাকে। সেই সূচিটা দেখে নিয়েই বাজেট পাস করতে হয়।
বাজেট অধিবেশনে প্রথম যে আলোচনা করবে তাকে প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওপেনিং ব্যাটসম্যান কে হবে সেটাও আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান অনেক বড় চক্রান্তকারী ছিলেন। জিয়া দেশে গণতন্ত্র দিয়েছিলেন বলে অনেকে বড় গলায় বলে। পঁচাত্তরের পর থেকে প্রতি রাতে কারফিউ থাকত। টানা ’৮৬ পর্যন্ত। জিয়া আসলে দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে। এরা জোর করে মতা দখল করে ঘোষণা দিত রাষ্ট্রপতি হলাম। এ ‘রাষ্ট্রপতি হলাম’ চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বের হতে পারেনি।
টানা দুই দফার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কথা বলার স্বাধীনতাও আওয়ামী লীগ দিয়েছে। দেশে ব্যক্তি মালিকানায় টেলিভিশনও আওয়ামী লীগের আমলে দেয়া। টকশো শুনলেই বোঝা যায় কথা বলার স্বাধীনতা কতটুকু আছে। যার যা খুশি মনের মাধুরী মিশিয়ে বলে যাচ্ছেন। তবে সাংবাদিকদের কদর বেড়েছে। এটাও আওয়ামী লীগের কারণেই।
দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের ওপরে হবেÑ এ নিয়ে যারা অনিশ্চয়তার মনোভাব ব্যক্ত করেন তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনারা বিশ্বাস করেন না। কারণ তারা কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের টেক কেয়ারে (তত্ত্বাবধানে) ছিলেন।
উনাদের এ অবস্থা, মানুষ ভালো থাকলে উনাদের জ্বালা। গণতান্ত্রিক পরিবেশে উনাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। ভালো একটা কথা খরচ করতে চায় না। এত কৃপণ কেন? শুধু নেগেটিভ চর্চা করে।
যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে কথা বলে, তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়েছে। সেটা বৈধ না; অস্ত্র ঠেকিয়ে যারা বলত আমি রাষ্ট্রপতি হলামÑ সেটা বৈধ।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে, আমার পরিবারকে হেয় করা হয়েছে। ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজেদের অর্থেই পদ্মা সেতুর কাজ করব। নিজেদের অর্থেই শুরু করেছি। চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি; আমরা সফল হয়েছি। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে আমাদের গড়ে উঠতে হবে। আমরা এটা পারি।
সরকারের উন্নয়নের কথা টেনে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, এমন জায়গা নেই। আমরা যা উন্নয়ন করেছি, অতীতে কেউ তা করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে দলীয় এমপিরা কে কিভাবে বক্তব্য দেবেন সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি দলের মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমি অনেককেই মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছি। যাদের কোনো জনসমর্থনও ছিল না। এখন তাদের কেউ যদি দলের জন্য কাজ না করে নিজেদের নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকে সেটা মানা হবে না। শেখ হাসিনা দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক দিকগুলো জনগণের সামনে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় সংসদে কোনো ধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন দলীয় এমপিদের। এ ছাড়াও দেশের সাম্প্রতিক বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

শেয়ার করুন