রোজার পর ২১ জেলার শতাধিক উপজেলায় নির্বাচন

0
74
Print Friendly, PDF & Email

চতুর্থ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রমজানের পরই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ সোমবার কমিশন বৈঠকে অনুমোদনের পর এ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তৃতীয় উপজেলা পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদে সংরক্ষিত নারী নির্বাচন না হলেও এবার প্রথম ধাপে ২১ জেলার শতাধিক উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। এর ফলে পূর্ণাঙ্গতা পেতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদ।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে ৪৭১টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে সীমানা বিন্যাসকৃত ২১ জেলার ১২৭ উপজেলায় নির্বাচন হবে। বাকি ৩৬০ উপজেলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দ্রুত সীমানা বিন্যাসের কাজ শেষ করতে চলতি সপ্তাহেই চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এর আগে ৪৮৭ উপজেলার সীমানা বিন্যাস করতে গত বছর মে মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক বছরে ১২৭ উপজেলার সীমানা বিন্যাস করা হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইসিকে জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২১টি জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোয় নির্বাচন আয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশন সভার কার্যপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কার্যপত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও মুদ্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ, আপিল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশনা, অবশিষ্ট উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ও সীমানা নির্ধারণ করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে আবার অনুরোধ করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ-১৯৯৮) আইনের ৬ ধারায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচন করার বিধান আছে। সীমানা বিন্যাসের কাজ শেষ হলে সারা দেশে প্রায় ১৫ শ’ নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আইন অনুযায়ী, ‘প্রত্যেক উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার (যদি থাকে) মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে। যাহারা উক্ত উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার (যদি থাকে) সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।’ বিধান অনুযায়ী উপজেলাতে ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থাকলে উপজেলায় নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন হবে চারটি। ইউপি/পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাই সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার এবং প্রার্থী হতে পারবেন। এর আগে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি। আইনে সংরক্ষিত নারীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এতে প্রায় ১৫ শ’ নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, প্রথমবার সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে যেসব উপজেলার সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ও এলাকা সংক্রান্ত গেজেট পাওয়া গেছে সেসব উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন যে ২১টি জেলার ১২৭টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করতে চায়, সেই জেলাগুলো হলোÑ নরসিংদী, ঝিনাইদহ, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট, নীলফামারী, মাগুরা, ঝালকাঠি, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বরগুনা, নোয়াখালী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ।

শেয়ার করুন