গাংনীতে এক সপ্তাহে ১১ অ্যানথ্রাক্স রোগী সনাক্ত

0
353
Print Friendly, PDF & Email

মেহেরপুরের গাংনীতে এক সপ্তাহে ১১ অ্যানথ্রাক্স রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। বাজার থেকে অল্প দামে গবাদি পশুর মাংশ কিনে খাওয়া এই রোগের কারণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তরা হলেন- গাংনীর গাড়াডোব গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে মান্নান (৩২), ভোমরদহ গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী টুনু আরা (২৪), গাংনীর কাথুলীর রাজিবুল (৩২), ধর্মচাকীর বারিউল (৪৩), হাড়াভাঙ্গা গ্রামের রহিদুল (৫৬), গাড়াডোবের রুবিনা (২৩), আমিনুল (৪৫), হিজুলীর সোহরাব (২২), মালেকা (১২), নিশিপুরের মনিরুল (৩২) ও একই গ্রামের রমিজান (৭৭)।

গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়া ছাড়াও নাড়া চাড়া করলে এ রোগ দেখা দিতে পারে। গত এক সপ্তাহে এ উপজেলায় ১১ জন অ্যানথ্রাক্স রোগীকে সনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে ঘা হয় ও জ্বর জ্বর ভাব দেখা দেয়। এ রোগের প্রথমেই চিকিৎসা না করালে এটি ভয়াবহ হতে পারে। অনেকেই রোগা ও অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদি পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করে অল্প দামে। সাধারণ লোকজন এসব মাংশ অল্প দামে কিনে খাওয়ার ফলে এই রোগ হয়ে থাকে।

হাড়াভাঙ্গা গ্রামের রহিদুল ইসলাম জানান, তিনি রামকৃষ্ণপুর ধলা থেকে গরুর মাংস কিনে খেয়েছেন। এর পর থেকেই গাছে চুলকানি ও ঘা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে আসলে ডাক্তারা এটিকে অ্যানথ্রাক্স বলে সনাক্ত করেন। একই কথা জানালেন হিজুলীর সোহরাব ও গাড়াডোবের আমিনুল।

মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শশাংক কুমার জানান, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদি পশুর হঠাৎ জ্বর আসে ও পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত বের হয়। আবার হঠাৎ করে গবাদি পশু মারাও যেতে পারে। এসব মৃত গবাদি পশুকে মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হয়।

তিনি আরো জানান, মাঠ কর্মীরা গবাদি পশুর মালিকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়ার পরও তারা কোনো কথা মানতে চাচ্ছেন না। গোপনে চুরি করে জবাই করে মাংস বিক্রি করে। ফলে এ রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। –

শেয়ার করুন