অভিযোগপত্র থেকে হত্যা মামলার আসামির নাম বাদ: ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

0
454
Print Friendly, PDF & Email

গাইবান্ধা, ২২ মে- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী আবদুল হামিদ ৩ মে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৮ মে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে অভিযোগপত্র থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে।’ সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক ঘুষ নিয়ে আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগপত্র থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মণ একই ধরনের মন্তব্য করেন। তবে অভিযুক্ত মানিক মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালহাট গ্রামের আবদুল হালিমের একটি গাড়ি এবং তাঁর মুদি দোকান পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আবদুল হালিম বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এর জের ধরে ৯ নভেম্বর রাতে আবদুল হালিমের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন হালিমের ছোট ভাই আবদুল হামিদ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ১৬ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল হালিম মারা যান। মৃত্যুর পর ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করে। আবদুল হামিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘্ওসি আমার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না পারায় ওসি এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা ঘুষ নিয়ে হত্যা মামলার ৯ নম্বর আসামি বামনডাঙ্গা আবদুল হক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও জামালহাট গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেন। এ ছাড়া আসামিরা যাতে বেঁচে যান, সে জন্য আসামিদের ঘনিষ্ঠ চারজনকে স্বাক্ষী করে ২৬ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।’

শেয়ার করুন