পেট কেটে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ !

0
296
Print Friendly, PDF & Email

অনেক নাটকিয়তার শেষে দূর্ঘটনার ৩ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরে মেঘনা নদীতে প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া এমভি মিরাজ-৪।

এ দূর্ঘটনায় এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ৫৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ যাত্রীদের পেট ফেরে ভসিয়ে দেয়া হয়েছে নদীতে।

উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষনার পারদিন রবিবারও নিখোঁজ স্বজনদের জন্য মুন্সীগঞ্জের মেঘনার পাড়ে অনেক মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। জীবীত বা মৃত যেভাবেই হোক স্বজনকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায় তারা। তাদের কান্না-আহাজারিতে মেঘনার আকাশ-বাসাত ভাড়ি হয়ে আছে। ঘটনাস্থলে মৃতদেহ না পেয়ে অনেকেই ট্রলার নিয়ে ছুটছেন মেঘনা বুকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে। আবার অনেকে দুই দিন অপেক্ষা শেষে স্বজনের সন্ধান না পেয়ে নির্বিকার হয়ে বসে আছে মেঘনার পাড়ে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, উদ্ধার হওয়া ৫৫টি মৃতদেহের মধ্যে সবকটিই ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং সরকারি তথ্যে মতে নিখোজ ১১ আরো জন। এদিকে, মৃতদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ অব্যাহত রাখবে স্থানীয় প্রশাসন। শেষ লাশটি উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত মেঘনায় উদ্ধার কাজ চলতে থাকবে।
এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৫৫টি লাশেরই পরিচয় পাওয়া গেছে।

এরা হলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরের এলাহি বক্সের ছেলে মো. জামাল সিকদার (৫০), রাহাপাড়া গ্রামের ফজলুল হক আখন্দের স্ত্রী সেতারা বেগম (৫৫), পাঁচগাও গ্রামের লিটন কাজীর স্ত্রী টুম্পা বেগম (২৬), পন্ডিতসার গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মাহি (৪), নড়িয়ার সুরেশ্বর দরবার শরীফেল জালাল সিকদারর ছেলে আবির (দেড় বছর) , পাঁচগাও গ্রামের লিটন কাজীর মেয়ে সুমনা (৮), সুরেশ্বরের আরব আলীর ছেলে জলিল মালত (৫০), পন্ডিতসার গ্রামের আব্বাস হোসেন ছেলে মানিক (১৪), চাকধ গ্রামের মাসুমের ছেলে আব্দুল্লা আল রেদোয়ান (৪০), দিনারা গ্রামের ইদ্রিস শেখের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬০), নন্দনসার গ্রামের প্রয়াত হোসেন আলীর ছেলে খোরশেদ আলী খন্দকার (৭৫), মঙ্গলসার গ্রামের প্রয়াত জলিল আহমেদের মোল্লার ছেলে ওসমান গনি মোল্লা (৪০), কুলকাঠি গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে ইসমাইল ফকির (৬৫)।
শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের প্রয়াত শ্রীদম দাসের ছেলে কৃষ্ণ কমল দাস (৫০), নড়িয়ার পাঁচগাওয়ের প্রয়াত নুরুল ইসলাম খানের ছেলে আব্দুল জলিল (৫৫), সাহিনূরের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার রিয়া (২৫), শরিয়তপুরের ভেদেরগঞ্জের দুরারচর গ্রামের সাজু দেওয়ানের স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০), নড়িয়ার পাইকপারা গ্রামের দুলাল ব্যাপারীর রাশিদা বেগম (৫৬), উপালী গ্রামের রিপন মৃধার মেয়ে রিতু আক্তার (১২), কলকাঠি গ্রমের আব্দুল মান্নান দেওয়ান (৫০), নড়িয়ার চাধ গ্রামের খলিলুর রহমানের কন্যা রহিমা (৩২), চাকধের মাসুম মিয়ার পুত্র রোমান (৫), ভেদরগঞ্জ উপজেলার পটিয়ার মৃত আরব আলী খার পুত্র আব্দুল জলিল খা (৭০), নড়িয়ার চাকধ গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মাসুম (৪০)।
চাঁদপুরের হাইমচরের আব্দুল লতিফ শিকদারের ছেলে আব্দুল কাদের শিকদার (৬৫), ইউনুস মোল্লা তমিজুদ্দিনের মিন্টু সুকানি (৪০), নড়িয়ার কার্তিকপুরের শ্রীকান্ত চন্দ্র দাসের স্ত্রী পুর্ণলক্ষ্মী দাস (৮৫), নড়িয়ার চাকদের আব্দুল মালেকের রিমা অক্তার (৩২), নড়িয়ার বাহির কুচিরা গ্রামের আব্দুল লতিফ সিকদারের ছেলে জুলহাস (৩৩), সখিপুরের নান্নু মিয়া দেওয়ানের পুত্র মোশারফ (৩৫), নড়িয়ার সাওপাড় গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদারের স্ত্রী বিউটি বেগম (৫০), নড়িয়ার সোবান মল্লিকের ছেলে মো. লিটন মল্লিক (২৩), পিয়ার খন্দকারের ছেলে মেহেরাজ খন্দকার (১২) ,সখিপুরের পায়তলী গ্রামের আহাম্মদ আলীর স্ত্রী সিরিন (২৫), সিরেনের ছেলে আলামিন (৭), সখিপুরের নাসির উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে সুমন ব্যাপারী (২৭), নড়াইলের লোহাগড়ার লাহরিয়া গ্রামের রাসেল মল্লিকের পুত্র রফিকুল ইসলাম (৪৫), সখিপুরের ধুলার চর গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে নাইম হোসেন (১১)।

লঢ়মনড়িয়ার উত্তর কেদারপুরার আব্দুল হাই ঢালীর ছেলৈ মো ছাহেদ ঢালী (৩৫), ভেদরগঞ্জের রামভদ্রপুর গ্রামের মো আলী আকন্দের ছেলে আরিফ হোসেন রিফাত (১১), নড়িয়ার তেলিপাড়ার একরাম মিয়ার ছেলে মো মিন্টো মিয়া (২৭), সখিপুরের দুলার চর গ্রামের নুর হোসেনে ছেলে আহসান উল্লাহ কবিরাজ (৫৫)।

মাদারিপুরের কালকিনি সূর্যমনি গ্রামের আব্দুর রশীদ ঢালীর ছেলে আব্দুস সালাম (৪০), নড়িয়ার হালইসার গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম সরদার (৪৫), পাচঁগাও গ্রামের লিটন কাজীর ছেলে মো. মাহিন (৬), পূর্ব নড়িয়ার আবুল কাশেম ব্যাপারীর ছেলে পায়েল আক্তার (১৩), শরীয়তপুরের পূর্ব কোটাপাড়া গ্রামের অলিউল্লাহ খানের ছেলে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান (২৮), ভেদরগঞ্জের মধ্য কান্দির আব্দুল হামিদ মৃধার ছেলে রতম মৃধা (৩৫), চরঘাট গ্রামের মিরচান মোল্লার ছেলে সিরাজুল হক (৫৫), জমিরঢালী কান্দির আব্দুর রহমানের মেয়ে আফসানা আক্তার (১৮), নড়িয়ার বৈশাখী পাড়া গ্রামের সোনা মিয়া মুন্সীর মেয়ে লিপি আক্তার (১৮), ভেদরগঞ্জের চর ভাটা গ্রামের ইমান ছানির ছেলে খলিল মিয়া (২৮), নড়িয়ার গোয়ালমাথার রিয়াজউদ্দিন ঢালীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ঢালী (৪৬), সুরেশ্বরের আরমান হোসেনের ছেলে মুন্না মিয়া (২৮) ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দরিচর গ্রামের প্রয়াত ফালান সরদারের ছেলে আনসার উদ্দিন সরদার (৬০)।

এদেরমধ্যে সবশেষ লাশটি উদ্ধার করা হয় সন্ধ্যায়।জেলা প্রশাসনের হিসাবে নিখোঁজ ছয় জন হলেন শরীয়তপুরের নড়িয়ার ব্রজেশ্বরের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মূসা শেখ (২৬), মগর গ্রামের প্রয়াত মগবুল ছৈয়ালের দুই ছেলে আবু কালাম ছৈয়াল (৪৫) ও রাজিব ছৈয়াল (২২), দক্ষিণ চাকধ গ্রামের প্রয়াত আবু কালাম চৌকিদারের ছেলে মো. সজিব চৌকিদার (২৪), নন্দনসার গ্রামের মো. হাকিম হালদারের ছেলে কাঞ্চন হালদার (৩৫) ও ঢাকার নাবাবগঞ্জের হরিকান্দা গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে কল্পনা আক্তার (১৩)।

শেয়ার করুন