সরকার র্যা ব দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে : খালেদা জিয়া

0
185
Print Friendly, PDF & Email

নারায়ণগঞ্জে সাত হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার র‌্যাব দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী এর দায় এড়াতে পারেন না। গতকাল নারায়ণগঞ্জে গিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় তিনি আরও বলেন, নূর হোসেনকে এ র‌্যাবই বাইরে পাঠিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়ায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে জালকুড়ির বৃষ্টিধারায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। উভয় স্থানে বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবি করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ বাহিনীর সাবেক তিন সদস্যকে শীঘ্রই গ্রেফতার করতে হবে। এ সময় তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দনকুমার সরকারের বাসভবনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিহত সাতজনের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় স্বজনদের কান্নায় গোটা এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার সময় বেগম জিয়াকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি বেলা পৌনে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত নিহতদের স্বজনদের পাশে অবস্থান করেন। ঢাকা থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে বেগম জিয়া নারায়ণগঞ্জ যান। নারায়ণগঞ্জ পৌঁছে বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়ায় কাউন্সিলর নজরুলের বাড়িতে যান খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা। সেখানে নজরুলের সঙ্গে নিহত যুবলীগ কর্মী মনিরুজ্জামান স্বপন, তার গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী সিরাজুল ইসলাম লিটনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বাসার নিচ তলায় নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ করা যায়। নিহত কাউন্সিলর নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট আলাদাভাবে কথা বলেন বেগম জিয়া। শহীদ চেয়ারম্যান ঘটনার আদ্যোপান্ত তাকে অবহিত করেন। শহীদ চেয়ারম্যানের বিশেষ নিরাপত্তায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়। শহীদ চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই সত্য উন্মোচিত হচ্ছে। আপনি ভয় পাবেন না। আমরা আপনার সঙ্গে আছি। মনে রাখবেন, অত্যাচারের সীমা যখন পার হয়ে যায়, তখন কেউ মৃত্যুকে ভয় করে না। যেমনটি আপনিও করছেন না। নজরুলকন্যাকে সান্ত্বনা নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ভেঙে পড়ো না মা। তোমাদের শক্ত হতে হবে। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন হবেই। নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পর বেগম জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাব জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। এদের আর প্রয়োজন নেই। র‌্যাব যতদিন থাকবে ততদিন মানুষের মনে আতঙ্ক থাকবে। সাত খুনসহ নারায়ণগঞ্জে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ খুনের বিচার হতেই হবে। খুনিদের বিচারের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে আন্দোলনে নামতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন-গুম বন্ধে সরকার ‘ব্যর্থ’ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, না হলে দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তারাই আপনাদের পতন ঘটাবে।

পরে বেলা পৌনে ১টায় নজরুলের বাড়ি থেকে জালকুড়ি বৃষ্টিধারায় আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় যান তিনি। সেখানে চন্দন সরকারের গাড়িচালক নিহত মো. ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। চন্দন সরকারের সহধর্মিণী অর্চনা সরকার ও মেয়ে ডা. সুস্মিতার সঙ্গে কথা বলেন বেগম জিয়া। অর্চনা সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমিও স্বামীহারা। স্বামী হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। তার পরও বলব, আপনাকে শক্ত হতে হবে। আমরা গুম-খুন নিয়ে এখানে একটি সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। সরকার অনুমতি দেয়নি। নারায়ণগঞ্জে যা বলতাম তা এখন ডেমরায় গিয়ে বলব। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অর্চনা সরকার। মেয়ে সুস্মিতা সরকার বেগম জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা কৃতজ্ঞ। আমি বাবার খুনিদের বিচার চাই। এ সময় খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আদালত গ্রেফতারের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তারা গ্রেফতার হননি। তাদের শক্তি কোথায় আমরা জানতে চাই। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি র্যাব নূর হোসেনকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা গুম-খুন ও অপহরণ করবে আবার অপরাধীদের পার করে দেবে, তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে মারা গেছেন ১১ জন। নৌকার মাঝি তারাও মানুষ। তাদের কথা বলা হচ্ছে না। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যারা কথা বলছেন এবং নিহতের পরিবারকে সরকারের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। এদের গায়ে আঁচড় লাগলে সারা দেশে আগুন জ্বলবে। আইনজীবীদের কর্মসূচিতে বিএনপির সংহতি ও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। বেগম জিয়ার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, খায়রুল কবীর খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, হারুন অর রশীদ, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মীর সরফত আলী সপু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, নূরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, শামা ওবায়েদ, খোরশেদ আলম, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, শাহ আলম, কাজী মনিরুজ্জামান, বদরুজ্জামান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, এ টি এম কামাল, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, অ্যাডভোকেট মামুন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন