প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দেশে এখন রক্ষকই ভক্ষকের রূপ ধারণ করেছে। যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা, তারাই এখন মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা করছে। আবার ওই কর্মকর্তা দেখা যাচ্ছে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মেয়েজামাই। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে সেই মন্ত্রীপুত্রেরও। তাই এখন এ দেশে কারোই কোনো নিরাপত্তা নেই। যে কোনো সময় যে কারও যে কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার কেউ নেই। এসব কিছু থেকে কোনোভাবে গা বাঁচিয়ে চলতে পারাটাই যেন জনগণের নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায়। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীসহ সাতজনকে অপহরণের পর শীতলক্ষ্যায় লাশ উদ্ধার-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসব মন্তব্য করেন দেশের প্রথিতযশা এ আইনজীবী। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, পর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণ ও গুমের ঘটনা চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে এমনিতেই আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এখন টাকার বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন খুন করছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ উঠেছে, তখন সেই আতঙ্ক সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ এখন রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা আলোচনায় থাকতে থাকতেই আরও কতগুলো অপহরণ হলো। এখন সুনামগঞ্জের এক প্রবাসী বিএনপি নেতারও কোনো খবর নেই। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক প্রশ্ন করেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? তিনি বলেন, অপহরণের ব্যাপকতার পর সরকারের যে ভূমিকা (অ্যাকশন) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল সরকার তা করছে বলে দেখছি না। এখন তো দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হওয়ার কথা। অবশ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে আছেন তিনি কতটা কী করতে পারছেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, অপহরণের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা বন্ধ করতে প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের আইনের অধীনে আনতেই হবে। নারায়ণগঞ্জে যদি র্যাবের লোকেরা প্যানেল মেয়র ও আইনজীবীসহ অন্যদের মেরে থাকে তাহলে তাদের বিচার করতে হবে। তারা কোন বাহিনীর লোক, কার আত্দীয় এসব দেখে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, র্যাবের দায়িত্বে থাকা সেনা ও নৌবাহিনীর তিন কর্মকর্তাকে যেহেতু ইতিমধ্যে অবসর দেওয়া হয়েছে, সেহেতু ফৌজদারি আইনে তাদের বিচারে কোনো বাধা নেই। আরও কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে প্রয়োজনে কোর্ট মার্শাল করতে হবে। তবে কয়েকজনের অপরাধে র্যাব বিলুপ্তির যে কথা উঠেছে তার সঙ্গে স্পষ্ট দ্বিমত পোষণ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি বলেন, পুলিশের কিছু ব্যক্তি অপরাধ করল, সে জন্য আপনি পুরো পুলিশ বাহিনীই নেই করে দেবেন তা কোনো যুক্তিরই কথা নয়। দোষ করলে বিচার হবে, এতটুকু নিশ্চিত করতে পারলেই হবে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো র্যাব-পুলিশের মতো বাহিনীগুলোকে বিভিন্ন সময় নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এ কারণেই আজকে সরকারের চাকরি করা বাহিনীর সদস্যরা এতটা সাহস পায়। যেমন, ‘আমি আপনার কাজ করে দিলাম, আবার পরে আমাকে রক্ষার দায়িত্ব আপনার। মানে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুযোগ-সন্ধানী অপরাধীরা একে অপরকে ব্যবহার করছে। এর ফল কখনোই ভালো হবে না। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দোষারোপ থেকে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। আইনের শাসন যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনতে হবে।







