ফাইনালে আরও উজ্জ্বল তাইজুল

0
114
Print Friendly, PDF & Email

তাইজুল ইসলামের স্পিনের চেয়ে আপনাকে বেশি ধন্দে ফেলে দেবে তাঁর কথা। টানা ৬-৭-৮ উইকেট পেয়ে যাচ্ছেন। সাফল্যের রহস্য নিয়ে কৌতূহল জাগা স্বাভাবিক। কিন্তু তাইজুল মনে হচ্ছে নিজেও সেটা জানেন না। আমতা আমতা করে একবার বলেন, ‘আলাদা কিছু করি না’…‘বাড়তি কিছু নেই’…‘শক্তির জায়গা তেমন কিছু নেই’…।
আলাদা কিছু করেন না বা শক্তির জায়গা নেই, এটা অবশ্যই সত্যি নয়। এমনি এমনিই তো আর নামতা গুনে উইকেট নিচ্ছেন না! ব্যাপারটা হলো, পাদপ্রদীপের আলোয় অনভ্যস্ত তাইজুল এখনো ঠিক গুছিয়ে বলতে শেখেননি। তা ওসব আপাতত না বুঝলেও চলবে। নিজের আসল কাজটা ভালোই বোঝেন এই বাঁহাতি স্পিনার। তাতে আরও একবার দারুণ সফল। টুর্নামেন্টে আগের তিন ম্যাচে ২৭ উইকেট নেওয়া স্পিনার কাল ফাইনালের প্রথম দিনেই নিয়েছেন ৮টি!
কাল দিনশেষে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একটা কথা অবশ্য বারবার বললেন তাইজুল, ‘কনসেনট্রেশন…মনোযোগ দিয়ে বল করি।’ এর সঙ্গে দ্বিমত করা চলে না। সময়ের সঙ্গে তূণে হয়তো নতুন অনেক অস্ত্র যোগ হবে, আপাতত তাইজুলের মূল শক্তি লাইন-লেংথে টানা বোলিং করে যাওয়া ও ফ্লাইটে বৈচিত্র্য। এ দিয়েই কাল করলেন একের পর এক শিকার। এই টুর্নামেন্টেরই দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। কাল নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন আরেকবার। তাইজুলের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে (৮/৮৬) প্রথম দিনে কুপোকাত প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা।
অবশ্য ‘কুপোকাত’ বলাটা হয়তো পুরোপুরি ঠিক হলো না। দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানদের দায়টাও তো কম নয়! ম্যাচ না দেখে শুধু স্কোরকার্ড থেকেই একটা ধারণা নিতে পারেন—প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই ২৫ ছুঁয়েছেন, কিন্তু বড় ইনিংস নেই একজনেরও। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচের সঙ্গে বেমানান সব দৃষ্টিকটু আউট। সবচেয়ে বেশি চোখে লেগেছে ফিফটি করা দুই ব্যাটসম্যানের আউট। তাইজুলকে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েছেন সৌম্য সরকার (৭০), শর্ট বলে পুল করে মিড উইকেটে ক্যাচ শুভাগত হোম (৬০)। বাকি ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবারই এক অবস্থা। দিনের নায়ক তাইজুলও স্বীকার করলেন, ‘উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই ছিল। ওরা বেশি জোর করে মারতে গিয়ে আউট হয়েছে।’
তাইজুলের অবশ্য তাতে আপত্তি করার কারণ নেই। ৮ উইকেট তো প্রতিদিন মেলে না! প্রথম বলেই ইমরুলের ব্যাটে চার খেয়ে শুরু করেছিলেন। পরে ঠিকই ফিরিয়েছেন ইমরুলকে। এর আগেই এনামুলকে ফিরিয়ে ভেঙেছেন ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। থিতু হওয়ার পর উইকেট উপহার দিয়েছেন মিঠুন (২৫)। সৌম্য ও শুভাগতর জুটিতে অবশ্য বড় রানের দিকে এগোচ্ছিল দক্ষিণাঞ্চল। ১২২ রানের এই জুটিও ভেঙেছেন তাইজুল। মাঝে সোহাগ গাজী ও শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজের উইকেট দুটি শুধু পেয়েছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল। ২৭১ রানে গুটিয়ে ব্যাটিংয়ে মাত্র ২ বোনাস পয়েন্ট পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। অথচ এই উইকেটে না চাইলে আউট হওয়া কঠিন, ৪০০-৪৫০ রান অনায়াসে হওয়ার কথা।
প্রথম দিনে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও উত্তরাঞ্চলের শরীরী ভাষাও খুব একটা ভালো ছিল না। প্রচণ্ড গরম অবশ্যই একটা বড় বাধা, কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটারদের এই বাস্তবতা তো মেনে নিতেই হবে! দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে এমনিতেই আছে নানা প্রশ্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেট লিগের ফাইনালের প্রথম দিনটাও খুব ভালো বিজ্ঞাপন হতে পারেনি ঘরোয়া ক্রিকেটের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণাঞ্চল: ৮৩ ওভারে ২৭১ (ইমরুল ৩৮, এনামুল ৯, সৌম্য ৭০, মিঠুন ২৫, শুভাগত ৬০, তাইবুর ৩৯, জিয়াউর ২১*, সোহাগ ০, রাজ্জাক ৫, আল আমিন ০, মুস্তাফিজুর ০, তাইজুল ৮/৮৬, সানজামুল ২/৪৬)। উত্তরাঞ্চল: ৮ ওভারে ১৫/০ (মাইশুকুর ৩*, জুনায়েদ ১১*)।

শেয়ার করুন