দামি গাড়ি মাটিচাপা দিয়ে মিয়ানমারে পালাচ্ছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

0
444
Print Friendly, PDF & Email

টেকনাফের মাটির নিচে মিলছে দামি ব্র্যান্ডের জিপ, কার, মোটরসাইকেল। ইয়াবা ব্যবসা করে দিনমজুর থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা দামি গাড়ি রাতের অন্ধকারে মাটি চাপা দিয়ে জীবন রক্ষা করতে পালিয়ে যাচ্ছেন মিয়ানমারে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসা সিন্ডিকেটের কাউকে না কাউকে প্রতিদিনই দেওয়া হচ্ছে ক্রসফায়ারে। মৃত্যুর ভয়ে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। কঙ্বাজার টেকনাফ এলাকার সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীদের কাগজপত্র ও পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে। কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে লাইসেন্সবিহীন সৌখিন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে পারছেন না ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পড়লেই ধরা পড়ছেন তারা। বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ী কোটি টাকা দামের গাড়ি মাটি চাপা দিয়ে ভোররাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম এলাকার গভীর অরণ্য হয়ে মিয়ানমারে পালাচ্ছেন।

সম্প্রতি কঙ্বাজার জেলার পাঁচ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করে নতুন অফিসার দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বলেন, টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর রেড অ্যালার্ট চলছে। আমরা মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি। মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে যাচ্ছেন এই বিষয়ে জানেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আমি পর্যটনমন্ত্রীর প্রটোকলে আছি। এ বিষয়ে আমি আপাতত কিছু জানি না।

সরেজমিন জানা গেছে, মরিচ্যা পালং, কুতুপালং, সীমান্তের কুলালপাড়া, ডেইলপাড়া, পল্লানপাড়া, কে কে পাড়া, বাজার পাড়া, আলিয়াবাদ, নাইট্যং পাড়া, চৌধুরী পাড়া, ইসলামাবাদ, কলেজপাড়া, লামার বাজারের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বাড়ির পেছনে, লবণের মাঠে, পুকুরে, ধানক্ষেতে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে দামি মোটরসাইকেল ইয়ামাহা এফজেড, আর ফিফটিন, স্পোটস বাইকসহ নানা রকমারি গাড়ি। কিছু কিছু মোটরসাইকেল ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বিক্রীত এসব নম্বর প্লেটবিহীন গাড়ি বান্দরবান, থানছি, নাইক্ষ্যংছড়ি, আমিরাবাদ, ফটিকছড়ির এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে। উখিয়া থানার কুতুপালং এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ জানান, টেকনাফের প্রায় প্রতিটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ইয়াবা ব্যবসা করেন। তাদের সঙ্গে উখিয়া, রামু, মহেশখালী, কঙ্বাজার সদর ও চকরিয়া-পেকুয়ায়ও হাজারো খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা এখন চট্টগ্রাম-ঢাকা এমনকি অনেকে ভারতেও চলে গেছেন। আগে এদের নিয়মিত দেখা যেত টেকনাফ-কক্সবাজার লাইনে। এখন আর চোখে পড়ে না। উখিয়া উপজেলার ইউনানি সমুদ্রসৈকতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেখা যায় এক দল ডিবি পুলিশ ময়লা কাপড় চোপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে কারও কোমরে আবার কারও কাঁধে ভারী অস্ত্র বহন করতে দেখা গেছে। তারা নীল রঙের একটি মাইক্রো নিয়ে বালুচরে অপেক্ষা করছেন। নীল গাড়ি অপেক্ষমাণ ডিবির উপপুলিশ পরিদর্শক শিবেন বিশ্বাস জানান, তারা চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে একটি বড় অপারেশনে এসেছেন। মাদক ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত এক সন্ত্রাসী এই এলাকায় পালিয়ে আছে। কঙ্বাজার সদর থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি আসছি মাত্র এক সপ্তাহ হলো। ভালো-মন্দ কিছুই বুঝে উঠিনি এখনো। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই আমাদের এখানে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের তালিকাভুক্ত ৭৬৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর অধিকাংশই সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার, টেকনাফ পৌরসভার কলেজ পাড়া, কুলাল পাড়া, উখিয়া সোনাপাড়া, জালিয়াপাড়া, বাজারপাড়া, কাইয়ুকখালী পাড়া, আলিয়াবাদ এলাকা, ইসলামাবাদ এলাকা, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, জাদিমুরা, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী, বালুখালী, তুলাতুলি, সাতঘড়িয়া পাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকে পালিয়ে গেছেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ বলেন, নানাভাবে অপারেশন চলছে কক্সবাজার অঞ্চলে। টেকনাফ, উখিয়া, রামুসহ সব জায়গায় একাধিক টিম কাজ করছে।

শেয়ার করুন