সাত কোটি টাকা আত্মসাৎ

0
100
Print Friendly, PDF & Email

মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ৩৪৪টি ক্রেস্টে স্বর্ণ ও রুপা না দিয়ে মোট সাত কোটি তিন লাখ ৪৬ হাজার ২৮০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে।
এর জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, বর্তমান সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকসহ ১৩ জন কর্মকর্তা ও দুই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বর্ণ ও রুপাহীন ওই ক্রেস্টে ব্যবহার করা কাঠও ছিল নিম্নমানের। জাতীয় কমিটিকে না জানিয়ে ক্রেস্টে স্বর্ণ এক ভরির জায়গায় দুই ভরি করা হয়েছে। সে হিসাবে সরবরাহকারীদের বিল দেওয়া হয়েছে। যদিও ক্রেস্টে স্বর্ণ দেওয়া হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননা দেয় সরকার। সম্মাননার স্মারক হিসেবে দেওয়া ক্রেস্ট নিয়ে নজিরবিহীন এ ঘটনা ঘটে।
গত ৬ এপ্রিল ‘ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে!’ শিরোনামে মূল প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এর পরই ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লার রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কমিটি গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে জমা দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রণালয় ৩৪৫টি ক্রেস্ট সরবরাহ নেয় এবং বিল পরিশোধ করে। এর মধ্যে একটি ক্রেস্ট ছিল ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্য, যা ২০০ ভরি সোনা দিয়ে তৈরি।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা কমিটিকে জানিয়েছেন, ৩৩৮টি ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে, ৩৩৫টি ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়েছে। এ তথ্য জানালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বলেছে, একটি ক্রেস্ট প্রধানমন্ত্রী, একটি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও একটি সাবেক সচিবকে দেওয়া হয়েছিল। একটি বিএসটিআইতে পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। বাকিগুলো ডামি ক্রেস্ট ছিল।
কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, মূল্যায়ন কমিটি তদন্ত কমিটিকে ক্রেস্টে সঠিক সংখ্যা না জানিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। কমিটি মনে করছে, স্বর্ণ ও রুপাবিহীন ক্রেস্ট দিয়ে বিদেশিদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এখন হাতেনাতে ধরা পড়ায় ডামি বলে পার পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। নয়টি ক্রেস্টের সমপরিমাণ টাকা মূল্যায়নকারী কমিটি ও সরবরাহকারীরা আত্মসাৎ করেছে। কেনাকাটায় (গণ খাতে ক্রয় আইন) পিপিআর, ২০০৮ লঙ্ঘন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তা স্বীকারও করেছেন।
এক ভরি থেকে দুই ভরি: সম্মাননা নীতিমালা অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধীর জন্য তৈরি করা ক্রেস্টটি ছাড়া বাকি প্রতিটি ক্রেস্টে এক ভরি স্বর্ণ ও ৩০ ভরি রুপা থাকার কথা ছিল। ২০১২ সালের ১ অক্টোবরের সভায় এটি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওটি খসড়া নীতিমালা ছিল। তাঁরা বলেছেন, এ-সংক্রান্ত নথিতে সচিব ও প্রতিমন্ত্রী স্বাক্ষর করেই প্রতিটি ক্রেস্টে ২২ দশমিক ৫ গ্রাম (দুই ভরি) ও ৩০ ভরি রুপা দেওয়ার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ পরিবর্তনের বিষয়টি জাতীয় কমিটিকে জানানো হয়নি।
ক্রেস্টের কাঠেও জালিয়াতি: দরপত্র অনুসারে ক্রেস্টে ‘আমেরিকান উড’ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ছিল। তদন্ত কমিটির অনুরোধে স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি কাজী নাসির সম্মাননা হিসেবে যুক্তরাজ্যের নাগরিক জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে দেওয়া ক্রেস্টটিতে ব্যবহার করা কাঠ এবং এর গুণগত মান যাচাই করে কমিটিকে জানান, ক্রেস্টে নাম লেখার জায়গায় ওক কাঠ, স্মৃতিসৌধ-সংবলিত অংশে চম্বল কাঠ এবং বাকি অংশ প্লাইউড দিয়ে নির্মিত। এর গুণগত মান নিম্ন, স্থায়িত্ব খুবই কম হবে।
কার্যাদেশ ও বিল অনুমোদন: ২০১২ সালের ২৫ মার্চ ১৩২টি ক্রেস্ট এমিকনকে দিয়ে তৈরির কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধের নথি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব অনুমোদন করেছেন। এর জন্য সচিব প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন নেননি। তবে ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর ১০১টি ক্রেস্ট ও ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ৫১টি ক্রেস্ট এমিকনকে এবং একই বছরের ১০ অক্টোবর ৬০টি ক্রেস্ট মহসিনুল হাসানকে তৈরির কার্যাদেশ এবং বিল পরিশোধের নথি অনুমোদন করেন বর্তমান সচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। মহসিনুল হাসান সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ভাগনে।
কারা সরবরাহকারী: তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে দুই সরবরাহকারীর প্রতিষ্ঠানের মালিককে পায়নি। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি জেনেছে, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দরপত্রে তেমন অংশগ্রহণ করেনি। তাদের স্বর্ণের মান পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্রেস্টের জন্য কথিত স্বর্ণ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়, তা-ও কেউ বলতে পারেনি।
অপর সরবরাহকারী মহসিনুল হাসান যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, তা একটি ফ্ল্যাট বাড়ি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কমিটিকে জানান, ক্রেস্ট কোথা থেকে বানানো হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই।
কমিটিকে যে যা বলেছেন: প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানেমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, সচিব ও কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী তিনি ক্রেস্টের বিলে সম্মতি দিয়েছেন। খুঁটিনাটি বিষয় দেখার দায়িত্ব তাঁর নয়। যে বিল সচিব তাঁকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন, তার দায় তিনি নেবেন না। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনও তাঁকে দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তাজুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এমিকনকে নির্বাচন করেছে সম্মাননা প্রদানের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি।
তবে জাতীয় কমিটির সভাপতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি কমিটিকে বলেছেন, এমিকনকে নির্বাচন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। আয়ারল্যান্ডের নোরা শরিফকে দেওয়া ক্রেস্টটি অনুষ্ঠানস্থলেই বেঁকে যায়। ওই ক্রেস্টের বাক্সটি প্রতিস্থাপনের জন্য পাঠানো হলেও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় তা আর ফেরত দেয়নি।
বর্তমান সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী কমিটিকে বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এমিকনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। আর সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সপ্তম পর্যায়ে মেসার্স মহসিনুল হাসানকে নির্বাচন করা হয়। তিনিও দাবি করেন, বিএসটিআইতে পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, ক্রেস্টে স্বর্ণ ও রুপা ছিল কি না, তা দেখার দায়িত্ব দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির।
সাবেক সচিব মিজানুর রহমান বলেছেন, ক্রেস্ট তৈরির জন্য সময় কম থাকায় পিপিআর মানা সম্ভব হয়নি। অল্প সময়ে ক্রেস্ট সংগ্রহের জন্য এমিকনকে দেড় কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জানতেন। তবে তাঁকে বা প্রতিমন্ত্রীকে কোনো ক্রেস্ট দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক কমিটিকে বলেছেন, ক্রেস্ট তৈরিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না। কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি।
শিল্পী হাশেম খান বলেন, তিনি ও অধ্যাপক কাইয়ুম চৌধুরী সম্মাননা ক্রেস্টের নকশা তৈরি করে দিয়েছেন। এরপর তাঁদের সম্পৃক্ত রাখলে হয়তো এমন বিপর্যয় হতো না। তিনি বলেছেন, এই অপরাধ দেশদ্রোহের শামিল।
এমিকনের মীর দাউদ আহমেদ কমিটিকে বলেছেন, তিনি তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ কিনেছেন। তিনি ক্রেস্টের বিলের সব টাকা প্রাইম ব্যাংক থেকে তুলেছেন।
আরেক সরবরাহকারী মহসিনুল হাসান কমিটিকে জানান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম তাঁর মামা। তিনি মূলত নির্মাণ ঠিকাদার। মন্ত্রণালয়ে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে তিনি কাজটি পেয়েছেন। তাঁর কাছে স্বর্ণ বা রুপা কেনার কোনো রসিদ নেই। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ক্রেস্টের বিল তুলেছেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বেগম জাহানারা পারভীন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সাবেক সচিব মিজানুর রহমান তাঁকে ফোন করেছেন, তাই তিনি অগ্রিম বিল দিয়েছেন।
প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিরীক্ষণ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, সাবেক সচিব মিজানুর রহমানের অনুরোধে তিনি বিল পাস করেছেন। সচিব বলেছেন, কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে পরে সংশোধন করা যাবে। সাবেক প্রতিমন্ত্রীও বিল পাসের জন্য অনুরোধ করেছেন। ভেঙে ভেঙে বিল দিতে মন্ত্রণালয়ের চাপ ছিল।
তদন্ত কমিটি পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্য ক্রেস্ট তৈরির সময় প্রথমে ১০ ক্যারেটের স্বর্ণ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ ব্যবহার করেছে। এতে প্রমাণিত হয়, শুরু থেকেই এমিকনের ‘ইল মোটিভ (অসৎ উদ্দেশ্য)’ ছিল। মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুরো প্রক্রিয়ায় জাতীয় কমিটির সঙ্গে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সমন্বয়হীনতা ছিল, যে কারণে ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. জিল্লার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নথিপত্র পর্যালোচনা ও তদন্ত করে যা পেয়েছি, তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। আমাদের কোনো মতামত বা মন্তব্য নেই।’
সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক সচিবের দায়িত্ব পালনকালে আমার কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি পাঠানো হয়নি। তবে বর্তমান সচিব আমার কাছে নথিপত্র পাঠিয়েছেন। সচিব ও কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী বিল দেওয়ার নথিতে সম্মতি দিয়েছি।’
সম্মাননাপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের নাগরিক জুলিয়ান ফ্রান্সিস প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি বিব্রতকর। তার মানে, এখানে সুস্পষ্টভাবেই দুর্নীতির ব্যাপার ঘটেছে এবং তারা দেশের মর্যাদাকে মূল্যায়ন না করে নিজেদের স্বার্থ দেখছে। তিনি আরও বলেন, এমনিতেই দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের দুর্নাম রয়েছে, এটি প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি সবার কাছে আরও নিশ্চিত হয়ে গেল। তাই এদের বিরুদ্ধে যাতে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তা দেখবেন।
জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি তদন্ত প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। দোষীরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা রোববার নাগাদ জানতে পারবেন।

শেয়ার করুন