ড. ওয়াজেদ মিয়ার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0
73
Print Friendly, PDF & Email

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন দেশের এ কৃতি সন্তান।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া তাঁর কর্মের জন্য শুধু আমাদের কাছে নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বেঁচে থাকবেন। আমি আশা করি, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে ড. ওয়াজেদ মিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের পাথেয় হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন নিরহংকার, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। তাঁর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে জনগণের কল্যাণে যে কাজ করে গেছেন জাতি তা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে।’

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহনগর আওয়ামী লীগ আজ বাদ আসর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া সকাল ১০টায় শাহবাগে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ভিআইপি সেমিনার হলে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপি। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম।

এদিকে ওয়ায়েজদ মিয়ার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান রংপুর ও পীরগঞ্জে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ডা. ওয়াজেদ মিয়া স্মৃতি পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ, পীরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে।

গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার পৈতৃক নিবাস পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে মরহুমের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কবর জিয়ারত।

রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।
পীরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মরহুমের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াজেদ মিয়ার স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও উপাসনালয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. ওয়াজেদ মিয়া। মরহুম আব্দুল কাদের মিয়া ও মরহুমা ময়জান নেছার সন্তান ওয়াজেদ মিয়া এলাকা ছাড়াও সারাদেশে ‘সুধা মিয়া’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চক করিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু। ১৯৫৬ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ভর্তি হন রাজশাহী সরকারি কলেজে। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করেন।

১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন ড. ওয়াজেদ। তিনি ১৯৬-৬৪ শিক্ষাবর্ষে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’ সম্পন্ন শেষে ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৫ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম শ্রেণীর এই বিজ্ঞানী তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে যোগ দিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৬৯ সালে ইতালির খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র তাঁকে ‘অ্যাসোসিয়েটশিপ’ প্রদান করে। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরে ‘ড্যারেসবেরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরি’তে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন।

ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে শুরু করে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লীর ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন ।

বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। ১৯৬১ সালের প্রথম দিকে ছাত্রলীগে যোগ দেন। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাত হয়। ওই বছরই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন ড. ওয়াজেদ মিয়া।

আজন্ম সৎ, সম্পূর্ণ নির্লোভ, নিভৃতচারী ও নিখাদ দেশ্রপ্রপ্রেমিক এই পরমাণু বিজ্ঞানী ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার সময় ড. ওয়াজেদ মিয়া জার্মানিতে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা থাকায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। এই বিজ্ঞানীর দু’সন্তান। বড় ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় পেশায় সফটওয়্যার বিজ্ঞানী। ছোট মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম নিয়ে দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গেকাজ করছেন।

শেয়ার করুন