নারায়ণগঞ্জ জেগেছে এবার বাংলাদেশ জাগবে

0
73
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেগে উঠেছে, এবার বাংলাদেশ জাগবে। এ হত্যা মানুষকে ঝাঁকুনি দিয়েছেন, হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। বিবেকের ক্রন্দনে লোনা হয়েছে জল। এ হত্যার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে গুম, হত্যা ও অপহরণ মহামারীতে পরিণত হবে। আইনজীবী চন্দন সরকারের হত্যার দোষীদের বিচারের দাবিতে গতকাল সব আইনজীবী এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। কে কোন দলের সেটা এখন কারো কাছে বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে বিচার। বেঁচে থাকা ও বাঁচার নিরাপত্তা দেয়া যেমন সংবিধানে লেখা আছে। সংবিধানে এও লেখা আছে যে রাষ্ট্র কিভাবে এই মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করবে। তাই ৭ মার্ডারের ঘটনায় এর প্রতিবাদে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সে জাগরণ সারা দেশে ৫৫ হাজার আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দিতে আগামী ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে দেশের সব আইনজীবীকে ডেকেছি। বৃহত্তর এ আইনজীবী সভায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার খোলামেলা আলোচনা করব কিভাবে ৭ মার্ডার মামলা নিয়ে তদন্ত পরিচালনা, বিচারকাজ, কী শাস্তি চাই, কী ধরনের তদন্ত দরকার এ নিয়ে। বিচারপতিদের কাছে যাব তাদের কাছ থেকে কী আদেশ বা মতামত নেয়া যায়। গতকাল দুপুরে আদালত পাড়ার বার ভবনের সামনে জেলা আইনজীবী সমিতির পূর্ব নির্ধারিত প্রতীকী অনশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে প্রবীণ এ আইনজীবী নেতা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্যদের জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
ড. কামাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রসঙ্গে বলেন, বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে সমালোচনা করতে আসিনি। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে মানুষ হত্যা করবে। এটা আমরা আশা করি না। সচেতন থাকবেন যেন আমরা আপনাদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। তারা কোনো ব্যক্তির জন্য কাজ করবে না।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন এটা কি করে হলো, এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল। তাৎণিক তাদের বের করতে দেরি হলো কেন। তদন্ত নিয়ে কেন সিদ্ধান্ত পাল্টা সিদ্ধান্ত। সবাই মিলে যৌথ সিদ্ধান্ত নিন। সব নাগরিকের অধিকার সংবিধান ও আইন রক্ষা করবে। স্বাধীন নিরপেক্ষ কার্যকরী তদন্ত করে দোষীদের সাজা দিতে হবে যেন তার পার না পায়।
তিনি বলেন, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে তদন্ত কমিটি হয়েছে বিচার হয়নি। যে যত উচ্চক্ষমতার অধিকারী হোক না কেন দোষী হলে তার বিচার করতে হবে। যত দিন এর সঠিক বিচার বা তদন্তে গাফিলতি ধরা পড়বে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিচার ভিক্ষা চাওয়ার বিষয় নয়। এটা আমাদের নৈতিক অধিকার। অনেক সময় আমরা গুমের ভয়ে চুপ করে থাকতাম। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকব না। চন্দন সরকার জীবন দিয়ে আমাদের জাগ্রত করে গেছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
আইনজীবীদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, কালো কোট পরেছেন, কোনো ঘুষখোরের কাছে মাথানত না করে মৌলিকভাবে কাজ করুন। যদি আইনজীবীদের মাঝে ঐক্য না থাকে তাহলে কালো কোট ছিঁড়ে ফেলুন। কামাল হোসেন বলেন, অপহরণ ও গুমের বিষয়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম শোনা যাচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব এগুলো বের করা।

শেয়ার করুন