বিএনপির ‘একলা চলো’ নীতিতে ক্ষুব্ধ শরিক দলগুলো

0
125
Print Friendly, PDF & Email

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতিতে এগোচ্ছে। এককভাবে দলটি সভা-সমাবেশ, গণঅনশন ও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। শরিক দলগুলোকে এতে সম্পৃক্ত না করায় তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতিতে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই জোটের টানাপড়েন প্রকাশ্য রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন শরিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা।

জানা গেছে, গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এতে জোটকে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষুব্ধ হয় শরিক দলগুলো। এ কারণে কর্মসূচির দুই দিন আগে ১৯ দলের নেতাদের বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ বেলায় আমন্ত্রণ জানানোয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখান জোট নেতারা। অবশ্য দায়সারাভাবে জামায়াতসহ দু-একটি শরিক দল অংশ নেয়। সর্বশেষ গত রবিবার গুম, খুন ও অপহরণের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে এককভাবে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সেখানে জোটের কয়েক নেতা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও জোটের কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়নি। এ নিয়েও জোটে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপর আন্দোলনে দেশব্যাপী বিএনপির নেতা-কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হামলা, মামলা, গুম, খুনসহ নানাভাবে ভিকটিম হয়েছে বিএনপি। তাই আপাতত দলকে আমরা এখন সুসংহত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে সংগঠন পুনর্গঠন করাসহ দলীয়ভাবে কিছু কর্মসূচি পালন করছি। জোটের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। জোট অটুট আছে, থাকবে। সময় মতো জোটবদ্ধ কর্মসূচিও দেওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোটের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির অনাগ্রহের কারণেই জোটবদ্ধ কর্মসূচি হচ্ছে না। এ জন্য বিএনপির একাংশই দায়ী। তারা জোটকে অকার্যকর করার চিন্তা-ভাবনা করছে। উপজেলা নির্বাচনে ফলাফল আরও ভালো হতো। কিন্তু জোটে সমন্বয় না থাকায় বেশকিছু উপজেলা হারাতে হয়েছে। জোটকে শক্তিশালী করতে ‘স্টিয়ারিক ও কোর কমিটি’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েও বিএনপির অনাগ্রহের কারণে হয়নি। ১৯ দলে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদকে নেওয়ার আগে জোটের শরিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। এসব কারণে জোটের শরিক দলগুলোতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বর্তমানে জোট অনেকটাই অকার্যকর বলেও মনে করেন তারা। নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে বিএনপি একলা নীতিতে চলতে থাকলে শীঘ্রই জোটে বড় ধরনের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠবে। জানা গেছে, সম্প্রতি জোটের এক নেতা এককভাবে বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তিনি জোটবদ্ধ কর্মসূচি দেওয়ার জন্য বিএনপি-প্রধানকে অনুরোধ করেন। বেগম জিয়া তাকে বলেন, দলের ভিতরে চাপ রয়েছে একক কর্মসূচি দেওয়ার। টানা তিন মাস আন্দোলন করে নেতা-কর্মীরা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তাই নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে বেশ কয়েকদিন একক কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে জোটগতভাবে কর্মসূচি না দেওয়ায় বেশি ক্ষুব্ধ জামায়াত। তবে এই মুহূর্তে তারা জোট থেকে সরে আসবে না। জোটের কয়েকটি ছোট শরিক দলের নেতা অভিযোগ করেন, ১৯ দলীয় জোটে তারা নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়েছেন। সভা-সমাবেশে তাদের বক্তৃতার সুযোগ হয় না। এ কারণে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক জোট ছাড়েন। অবশ্য তিনি ক্ষমতাসীন দলের টোপে পা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মবিন বলেন, নির্বাচনের পর জোটের কোনো কর্মসূচি হয়নি। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকতে পারে। আমরা আশা করি, শীঘ্রই জোটবদ্ধ কর্মসূচি আসবে। বিশেষ করে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন-কর্মসূচিগুলো জোটবদ্ধভাবে হওয়া উচি

শেয়ার করুন