বিএনপির আন্দোলন কি সরকার করে দেবে?

0
205
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি মোটেও জনগণের প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না। অথচ তাদের সামনে ইস্যুর কোনো শেষ নেই। নামকাওয়াস্তে একটা নির্বাচন করে গদিতে বসে গেল আওয়ামী লীগ, সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এবং তাদের লোকজন, এমনকি সাধারণ ভোটারদেরও ভোট কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে ঢুকতে দেয়নি শাসক লীগের ডাণ্ডাবাজরা। মানুষের সমস্যা-সংকটের কোনো শেষ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম এতটাই বেড়েছে যে, সীমিত আয়ের লোকজনের পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দায়। মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের পাতেও এখন মাছ-মাংস ওঠে না। অন্যদের কথা বাদই দিলাম। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির যন্ত্রণায় সবজির গায়েও হাত দেওয়া যায় না। কেজিপ্রতি ৪০ টাকার নিচে যে চালের দাম, তা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষও খেতে পারে না। ন্যায্যমূল্যে খোলাবাজারে যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে, রান্না করার সঙ্গে সঙ্গে না খেলে খাওয়া যায় না। পরে যে দুর্গন্ধ বেরোয় তাতে পেটে যা থাকে তা-ও বেরিয়ে আসার জোগাড় হয়। বেশিক্ষণ রাখলে তো ফেলেই দিতে হয়। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংকটে নাগরিক জীবন ওষ্ঠাগত। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। স্বয়ং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে তা সম্পূর্ণ নিমর্ূল করা যাবে না। রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট রুই-কাতলারা চোরাপথে বেহিসাবি টাকা কামাচ্ছেন আর তা পাচার করে দিচ্ছেন বিদেশে অবলীলায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে, শান্তিমতো রাতে ঘুমানোর সুযোগ নেই। শুধু রাত কেন, দিন-দুপুরেও চলছে গুম, অপহরণ, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য। গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়নদের হতে গণতন্ত্র এখন বেঁচে আছে লাইফ সাপোর্টে- ভেন্টিলেশন খুলে নিলেই শেষ। আইনের শাসন সেই কবে থেকেই নির্বাসনে। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিএনপি জনগণকে এই দুর্দশা-দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। রাজপথ-জনপদ কাঁপিয়ে তুলবে, টলমলিয়ে দেবে প্রকৃত গণরায়হীন লীগ শাসকের দুর্বল মসনদ।

কিন্তু এবারও পারল না বিএনপি। ‘স্টাফ অফিসারের’ মতো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভের কর্মসূচি ‘পাঠ’ করা পর্যন্তই। প্রথমেই আবার বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার প্রসঙ্গ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রতিবাদ করতে দেওয়া হলো কর্মসূচি। সঙ্গে জনগণের অন্যান্য ইস্যু। জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা, বাঁচা-মরার ইস্যুগুলো আগে আনা হলো না কেন? বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা বাতিলের বিষয় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে না আনলে কি সর্বনাশ হয়ে যেত? জনগণের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তাকে স্পর্শ করার ইস্যুর আন্দোলনে সফল হলে বেগম জিয়া আর তারেক রহমানের মামলা-মোকদ্দমার জ্বালা কি আর এ পর্যায়ে থাকবে? বিএনপি নেতারা সেটা বুঝছেন না কেন জানি না। দলে এবং রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের হটিয়ে চালবাজ ‘তৈলবিদরা’ মুখ্য ভূমিকা পালন করলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হোক আর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হোক ভুল তো হবেই। আবার চালবাজ-ধান্ধাবাজরা তলে তলে সরকারের সঙ্গে লাইন করে আন্দোলন না হওয়ার ব্যবস্থা তো করতেই পারে। পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, জনগণ লীগ সরকারের ওপর রুষ্ট। এ সরকারকে অপসারণের জন্য বিএনপিকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত- প্রস্তুত আন্দোলনের জন্য। কিন্তু কর্মসূচি ও তা বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে ব্যর্থতা এবং যেটুকু প্রস্তুতি থাকে তা-ও সরকারের কাছে পাচার হয়ে যাওয়ার ফলে বারবার তারা ব্যর্থ হয়েছে। সরকার আগে থেকেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে সব ভণ্ডুল করে দেয়। বারবার লজ্জা পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসন ও দেশের এখন পর্যন্ত সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার লজ্জা পাওয়ার সূচনা হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের শেষ দিন থেকে। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে এখনো ঢাকা শহরে দু-চার লাখ লোক রাস্তায় নামার মতো অবস্থা আছে। সেদিন বিকালে তিনি তার দলকে ও ঢাকাবাসীকে রাস্তায় নেমে আসার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন যদি এক লাখ লোকও রাস্তায় নামতো তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভাগ্যই বদলে যেত। ঢাকা মহানগরীর ৯৩ ওয়ার্ডে যদি নেমে যেত মানুষ কত জায়গায় সরকার ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ চালাত? পাগল হয়ে যেত সরকার। আমরা ভেবেছিলাম পরিকল্পনাটা তেমনই। সরকারের হাঁটু তখন কাঁপছিল। তারা নিশ্চয়ই একটা ‘সেইফ এঙ্টি’ খুঁজে নিত। কিন্তু প্রস্তুত জনগণ যখন দেখল, তাদের পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিএনপির কেউ মাঠে নেই, জনগণ তখন গুটিয়ে নিল নিজেদের। আর যারা নেতা আছেন বা হবেন, যারা এমপি, মন্ত্রী-মিনিস্টার হবেন, রাষ্ট্রদূত হবেন কিংবা নিদেনপক্ষে কোনো ব্যাংক-করপোরেশন বা সংস্থার চেয়ারম্যান-পরিচালক হয়ে ‘আখের’ গোছাবেন, তারা কেউ মাঠে নামবেন না তো জনগণের ঠেকা পড়েছে বুলেট-বোমার সামনে যাওয়ার? গত বছর ২৮ ডিসেম্বর শেষ লজ্জা পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তার ডাকে দলের ঢাকার নেতারা মাঠে নামলেন না কেউ। অথচ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নামার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সবাই। ঢাকার বাইরে থেকে কয়েক হাজার লোক এসেছিল সরকারি বাধা পেরিয়ে। কিন্তু ঢাকার ‘বাবুরা’ কেউ না থাকলে তারা কি করবেন? তারা তো বাইরের লোক। দলের নেতা-কর্মীরা না নামলে জনগণ নামবে কোন ভরসায়? কোনো গণআন্দোলন নেতৃত্ব ছাড়া কি কখনো হয়েছে না হতে পারে? বেগম জিয়াকে যখন অস্ত্রশস্ত্রসহ বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখল, কারও মনে একটু মায়া-মমতার টানও লাগল না যে গিয়ে একটু দেখে আসবেন তিনি কেমন আছেন।

এবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেও একই অবস্থা। আবার একই ‘বাণী’- সরকার অনুমতি দেয়নি। এটা এমন কি নতুন কথা? যারা নেতাগিরি করেন তাদের তো বোঝা উচিত, সরকার কোন নীতি এখন অনুসরণ করছে। যারা ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে কোনো নির্বাচন-প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটাভুটি ছাড়াই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৫৩ আসন হাতিয়ে নেয়, দেশি-বিদেশি জনমতের কোনো তোয়াক্কা করে না, উপজেলা নির্বাচনে ভোটের নামে সিল মারার প্রকাশ্য উৎসব চালায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সিভিল প্রশাসনকে ‘নাকে রশি দিয়ে’ ঘোরায়, তারা নিজের হাতে নিজের পতনের ঘণ্টা বাজাবে এটা বিএনপি নেতারা আশা করেন কি করে? প্রশ্ন করলে বলেন, ‘ভাই, যেভাবে অস্ত্র ঠেকায়, গুম করে দেয়, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি দিয়ে পেটায়, তো নামব কি করে? বাহ, সুন্দর জবাব! বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল আওয়াম লীগ ও তার মিত্ররা কি তাদের সুবিধা অনুযায়ী মাঠে নামতে পেরেছিল? তখনকার সরকার কি বিরোধী দলের জন্য রাস্তায় ফুল বিছিয়ে রেখেছিল? দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগকেও বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আবদ্ধ করে রাখেনি? আওয়ামী লীগ অফিস অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি? সে বাধা প্রতিবন্ধকতা ঠেলেই তারা রাজপথ দখল করেছে। জেল-জুলুম তারাও কম হজম করেনি। বিরোধী পক্ষসহ দেশের সব নাগরিক সভা-সমাবেশ, মিছিল-বিক্ষোভ করতে পারে একটি সহনশীল গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে। এ সব অধিকার জনগণের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত বিষয়। ‘৯১ সালের পর আমরা আবার গণতান্ত্রিক শাসনে ফিরে এসেছি বলা হলেও এটা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ‘ছেলে ভোলানো গল্প’। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেই (এবার তা-ও হয়নি) সে সরকার গণতান্ত্রিক সরকার হয় না। আমরা বরং পেয়েছি সামরিক স্বৈরাচারের স্থলে নির্বাচিত স্বৈরাচার। কে কত বড় স্বৈরাচার সে ব্যাপারে মাত্রার পার্থক্য থাকতে পারে।

সরকারের আচরণ এবং মন্ত্রী-মিনিস্টারের উচ্চারণ থেকে এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হবে না যে, সরকারের ‘নাকের আগায় যতক্ষণ দম আছে’ তারা টিকে থাকার সব প্রচেষ্টাই চালাবে। বিরোধী দলকে তারা এমন কিছু করতে দেবে না, যা তাদের জন্য বিপর্যয়কর হবে। সবাই তা বুঝছেন, বুঝছেন না শুধু বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা!

সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে, যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের যোগ্যতা-সক্ষমতা তাদের নেই, সে রকম কর্মসূচি তারা দেন কেন? কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও শান্তিপ্রিয় জনগণও এতে হতাশ হচ্ছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশে অনেকেই এমন পরামর্শ দিতে চান যে, দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আপনাদের ঘোষিত কর্মসূচি আপনাদেরই বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনাদের আন্দোলন তো সরকার করে দেবে না। যদি মনে করেন, এভাবে মাঝে মাঝে নয়াপল্টন বা গুলশান অফিস থেকে একেকজন মনোনীত ‘স্টাফ অফিসার’ আন্দোলনের(!) কর্মসূচি পাঠ করে যাবেন আর সেই কর্মসূচিতে জনগণ ‘যদি’ মাঠে নেমে যায়, তখন আপনারা দৌড়ে গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে কৃতিত্ব নেবেন ও ফসল তুলবেন, তা হবে না। দয়া করে মানুষকে আর হতাশ করবেন না এবং নিজেরা মানুষের করুণার পাত্র হবেন না।

কেন পারছে না বিএনপি? সরকার পক্ষ বলছে দলটির জনসমর্থন নেই। আন্দোলন শানাতে তারা অক্ষম। তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাও চরম। এই দুর্বলতার কথা বিএনপিও স্বীকার করছে। বলছে দল গুছিয়ে তারা আন্দোলনে নামবে। সরকারের কথা তারাই সত্য প্রমাণ করছে। ৩৫-৩৬ বছরের একটি দল তার রাজনীতি এবং আদর্শের প্রতি অটল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সততার সঙ্গে কাজ করলে সে দল তো দিন দিন সাংগঠনিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পাওয়ার কথা, দুর্বল হবে কেন? দুর্বল তো হবে গণআকাঙ্ক্ষাবিরোধী ভূমিকা পালনকারী মুসলিম লীগ, পরগাছা জাতীয় পার্টির মতো দলসমূহ। বিএনপি কি তবে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছে? আসলে শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকারের প্রতি এখন অনুগত নেই। দলটি নীতি ও আদর্শচ্যুত বলেও অভিযোগ আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী প্রকৃত রাজনীতিবিদরা দলে মূল্যহীন। সামরিক-বেসামরিক অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং ধান্দাবাজ ব্যবসায়ী-কালো টাকার মালিকরা নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ‘ফ্ল্যাশ আউট’ করে দিয়েছে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন দলের কর্মীরাই তাদের সমালোচনায় মুখর। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইস্যুতে নীতি-নির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপযুক্ত কর্মকৌশল প্রণয়নে এদের অনেকের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক-সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও সর্বমহলে প্রশ্নবিদ্ধ। আন্দোলন কর্মসূচি বারবার ফ্লপ করার পেছনে নেতৃত্ব পর্যায়ের সিংহ ভাগ অংশের অনীহা, ভীরুতা, দুর্বলতা ও তলে তলে সরকার সংশ্লিষ্টতাকেও দায়ী করেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী-সংগঠক এমন কি সমর্থকরাও। এদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ, দল ক্ষমতায় থাকাকালে অজ্ঞাত উৎস থেকে এরা এত বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে যে, হারানোর ভয়ে এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। এমনও শোনা যায়, কেউ কেউ পারস্পরিক কম্পিটিশন করে টাকা কামিয়েছেন। দলে প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে এদের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ তুঙ্গে। একজন আরেকজনকে সরকারের দালাল ডাকেন। কখনো বলেন সংস্কারপন্থি। অথচ সময় যত গড়াচ্ছে ততই প্রমাণ হচ্ছে দলকে গতিশীল, লক্ষ্য অর্জনে উপযোগী ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দলের সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নই মহৌষধ। আদর্শবাদী তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ- এরা জানে, সরকারও তাদের ‘আমলনামা’ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল; তাই এরা জেল-জুলুমের হুমকির মুখে আন্দোলনে নামতে চায় না। কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারের এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে এরা গা বাঁচিয়ে চলছেন। সরকারের এজেন্ট হিসেবেও কোনো কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কাজ করছেন বলে অভিযোগ আছে। এসব কারণেই বিএনপির কোনো আন্দোলন-কর্মসূচি সাফল্যের মুখ দেখছে না। শোনা যায়, বিএনপি দল পুনর্গঠন-গোছানোর কাজে হাত দিয়েছে। কাদের দিয়ে, কাদের নিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে তার ওপরই নির্ভর করবে এর সাফল্য। এত বিপুল জনসমর্থন থাকার পরও যাদের জন্য বিএনপির ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ, তাদের দিয়ে আর তাদের নিয়ে? তাহলে ফলাফল তো সেই ‘নিম্নচাপ’ই হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সত্যি সত্যি দল গোছাতে হলে শুরু করতে হবে একেবারে ওপর থেকে। কেননা, পচনটা মাথায়ই হয়েছে। তারপর চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসটা সাফসুফা করতে হবে। চেয়ারপারসনের সঙ্গে তৃণমূলের সৎ ও নিবেদিত নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ হতে হবে সরাসরি। টিকিট সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। বেগম জিয়া প্রথমে মাঠকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যেভাবে শুরু করেছিলেন আবার সেভাবে নতুন করে শুরু করলে নেতৃত্ব আর কমিটি বেচাকেনার ‘বেপারিরা’ আউট হয়ে যাবে। দলে সৃষ্টি হবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

শেয়ার করুন