সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না যাবে কোথায়

0
87
Print Friendly, PDF & Email

“গুম-খুনের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না যাবে কোথায়। যে কোন নাগরিক এখন শঙ্কিত। প্রধান দুই দল একে অন্যকে দোষারোপ করছে। কেউ দায় নিচ্ছে না। সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে মা-বাবারা এমনিতেই ভয় পেতেন। এখন আরও বেশি ভয় পাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যার পর মায়েদের মনে যে দাগ কেটেছে তা সহজে মুছবার নয়। এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটতেই থাকবে, তদন্ত হবে, কোন তদন্ত আলোর মুখ দেখবে না, আমরা কোন বিচার পাব না। তাহলে কোথায় যাব?” গত রবিবার চ্যানেল টুয়েন্টিফোর’র টকশো ‘মুক্তবাক’- এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এ কথা বলেন।

মানজুর আল মতিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘটনা আরও বেশি বেশি হচ্ছে। মানুষ কোন দিকে যাবে দিশা পাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলার প্রতি যদি মানুষকে শ্রদ্ধাশীল করতে হয় তাহলে সে দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরেই বর্তায়। তারা মানুষের অধিকার আদায়ে পাশে দাঁড়ালে আজকে দেশে এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

তিনি বলেন, শনিবার আমাদের একটা মানববন্ধন করার পরিকল্পনা ছিল। গুম-খুনে যারা উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত, স্বজন হারিয়েছেন সেইসব সাধারণ নাগরিকরা তাদের শঙ্কার কথা জানাতেই সংসদ ভবনের সামনে এ আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেটা করতে দেওয়া হল না। এই যে দেশব্যাপী গুম-খুন হচ্ছে, মায়ের বুক খালি হচ্ছে, স্ত্রীরা স্বামী হারাচ্ছেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে মা-বাবারা আতঙ্কে থাকছেন- এ কারণে আমরা সবাই ঠিক করেছিলাম আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করব এবং সবচেয়ে সুন্দর জায়গা আমাদের সার্বভেৌম সংসদ ভবনের সামনে। এখানে গত তিন বছরে আমি অন্তত ছয়বার মানববন্ধনে শামিল হয়েছি। কখনও কেউ বাধা দেয়নি। এবারই দেখলাম আমরা সমবেত হতে গেলে আমাদের মাইক, ব্যানার, ফেস্টুন কেড়ে নেওয়া হল। অথচ ব্যানারে লেখা ছিল গুম-খুন আর নয়, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। কোন সরকার বিরোধী বক্তব্য ছিল না। কার হুকুমে কেন এটা করতে দেওয়া হল না বুঝলাম না। আমাদের সঙ্গে অনেক আইনজীবী ছিলেন। তারা পুলিশকে বলেছেন, এখানে মানববন্ধন করায় কোন আইনি বাধা নেই। পুলিশ বলেছে এটা স্পিকারের এলাকা, স্পিকারের অনুমোদন লাগবে। পরে স্পিকারের কাছে আবেদন করলে তিনি সন্ধ্যার মধ্যেই জবাব দেন যে, এখানে স্পিকারের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এরপর সোমবার আবার একই জায়গায় মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নেই।

শেয়ার করুন