আমরা ভিক্ষুক জাতি নই : প্রধানমন্ত্রী

0
73
Print Friendly, PDF & Email

ভিক্ষুক জাতির মর্যাদা থাকে না- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ভিক্ষুক জাতি নই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর আগে কোনো সরকার প্রধান এই মন্ত্রণালয়ে আসেনি। বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বিকাশে কিছু বাঁধা রয়েছে জানিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার কথা বলেন তিনি।

বিমানে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও পর্যটন শিল্পকে আরও বিকাশমান করার উদ্যোগ নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসাবে আমার কিছু দায়িত্ব থাকে। তবে সবাই থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিমানবন্দরগুলোর মান উন্নীতকরণ, নিরাপদ বিমান অবতরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নের জন্য ৫৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্যাক্সিওয়ে, লাইটিং সিস্টেম বসানো এবং বিমানবন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও ১৮৮ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়ের ওভারলে-এর প্রকল্প জুন মাসে শেষ হবে। সরকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে স্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে ৫৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে এই পর্যটন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক বিমান নামতে পারে। যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি ‘৭৭৭-৩০০ ইআর’ উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষে দুইটি ‘বোয়িং ৭৩৭-৮০০’ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধনের দেশ হতে পারে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বিমানের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় সিলেট বিমান বন্দরে রি-ফুয়েলিং ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানের কোন কোন রুট লাভজনক হতে পারে- তা খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বেশি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি থাকে সেখানে বিমানের কার্যক্রম বাড়ানো দরকার।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও তা আরো বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো জন্য অসামাজিক, সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে বাংলাদেশ ব্যবহার হোক, তা আমরা চাই না।

বাংলাদেশকে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়, সমুদ্র, নদ-নদী, ম্যানগ্রোভ বনভূমি আর সবুজে ঘেরা সমতলের এমন সমারোহ বিশ্বের খুব কম দেশেই রয়েছে। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ভিত্তি করে পর্যটন খাতের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

পর্যটন বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গঠন করা হয়। কক্সবাজারের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরো বিশদ পরিকল্পনা নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে পর্যটকদের জন্য আবাসস্থান গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটক আকর্ষণ করতে আমরা নেপাল ও ভুটানের সাথে যৌথ উদ্যোগ নিতে পারি। সেটা কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, আমরা কিছু কিছু জায়গা বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দিতে পারি। সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময়ে পর্যটকদের দুর্ঘটনা রোধে আরো সজাগ হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। কে কোথায় নামতে পারবে- তা স্পষ্ট হওয়া উচিত। কোরাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য রক্ষায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে আরো পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দেশকে এগিয়ে নেব। আমরা, আর কারো কাছে হাত পাততে চাই না। অন্যের কাছে হাত পাতার এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। পরমুখাপেক্ষী না হয়ে দেশকে কিভাবে উন্নয়নের কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া যায়, সে চিন্তাই সবাইকে করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সচিব খোরশেদ আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন