কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে না

0
71
Print Friendly, PDF & Email

**বাজেটে এফবিসিসিআইয়ের ৬১৭ প্রস্তাব

আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৫তম সভায় তিনি একথা বলেন।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এবারের বাজেট থেকে কালো টাকা বিনিয়োগের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

রাজস্ব বিষয়ে আব্দুল মুহিত বলেন, রাজস্ব আয় ৩ শতাংশ বাড়াতে ২৭ বছর লেগেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে রাজস্ব আয় ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন পর্যায়ে যে প্রণোদনা দেওয়া হয় তা এবারের বাজেটেও অব্যাহত থাকবে। তবে খাত দেখে দেখে তা দেওয়া হবে।

১০ বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেটে সর্বনিম্ন আয়কর সীমা সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রয়েছে। আমেরিকাতে এ সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তি করমুক্ত আয়েরসীমা এমন একটি পর্যায়ে রাখা হবে, যাতে আগামী ১০ বছরে এতে হাত দেওয়া না লাগে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেটে গাড়ি আমদানির জটিলতা ও সিম ট্যাক্স জটিলতা নিরসন করা হবে। বাড়ানো হবে তামাকের শুল্কের পরিমাণ।

এছাড়াও বাজেটে আরও বেশকিছু দৃশ্যমান নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়াও বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ মোল্লা ওয়াহিদুরজ্জামান, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনসহ রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই এনবিআরয়ের কাছে আয়কর, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্কের বিষয়ে মোট ৬১৭টি প্রস্তাব দিয়েছে।

**বাজেটে এফবিসিসিআইয়ের ৬১৭ প্রস্তাব

নিয়মিত কর দাতাদের ওপর চাপ কমাতে বাজেটে কর হার না বাড়িয়ে তার আওতা বা ক্ষেত্র বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৫তম সভায় তিনি এ দাবি জানান।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। এতে যারা নিয়মিত কর দিয়ে যাচ্ছেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে না।

তিনি বলেন, পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রার নির্ভরশীল না হয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন।

বিনিয়োগের বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম বলেন, বিনিয়োগের মূল বাধা হচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংকের উচ্চ সুদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপর্যাপ্ততা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প প্লটের অপর্যাপ্ততা বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে।

টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচনে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনে জিডিপির ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সুদের স্প্রেড ৩ শতাংশ এবং সুদের হার ১২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় দেশের প্লাস্টিক, সিরামিকসহ আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত ভিষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের বিষয়ে জোর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে টিকফাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কাজী আকরাম বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে শুধুমাত্র ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধার ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, চীন, ভারত, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ছাড়াও পুরাতন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পিপিপি-এর আওতায় এনে বিএমআরইয়ের মাধ্যমে পুনরায় চালু করার দাবি জানান তিনি।

বাজেটে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন খাতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার অনুরোধ জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। এছাড়া নারীদের জন্য আলাদা একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের বিষয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কার্যকর হয়েছে। এখন স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে আইপিওয়ের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া ক্লিয়ারিং হাউজ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালু, কমোডিটি মার্কেট চালু এবং নেটিং সিস্টেম চালু করতে হবে। পাশাপাশি ট্রেডিং রাইট হোল্ডারদের অনুমতি দিতে তিনি প্রস্তাব দেন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা চলতি অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাজেটে বাস্তবভিত্তিক কর্ম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা থাকতে হবে।

ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা কমাতে এফবিসিসিআই সভাপতি বাজেট বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের ওপর বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন সহায়ক এডিপি ও আয়তন বাস্তবায়নযোগ্য সীমায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, জানা গেছে আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। যা বর্তমান অর্থবছরের সংশোধিত ৬০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মাত্র ৩৮ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে।

আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত সাতটি, মূল্যসংযোজন সংক্রান্ত নয়টি এবং আয়কর সংক্রান্ত ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়াও বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনসহ রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই এনবিআরের কাছে আয়কর, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্কের বিষয়ে মোট ৬১৭টি প্রস্তাব দেওয়া হয়।


শেয়ার করুন