এসআই মঞ্জুরুলসহ ৫ জনকে রিমান্ডে আনছে দুদক

0
85
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানীর রামপুরায় চোরাচালানের স্বর্ণের বার আত্মসাতের ঘটনায় রামপুরা এসআই মঞ্জুরুল ইসলামসহ ৫জনকে রিমান্ডে আনছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই মামলার আসামিদের দুদকে এনে টানা ৩দিন জিজ্ঞাসাবাদ করবে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলানিউজকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে।
 
সূত্রটি জানায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি আদালত রিমান্ডের অনুমতি দিয়েছে। আদালত রিমান্ডের জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বেঁধে না দিয়ে বলেছে, তদন্ত কর্মকর্তা যেকোনো দিন কারাগার থেকে নিয়ে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।
তবে দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই রামপুরা থানার এসআইসহ ৫জনকে রিমান্ডে আনবে সংস্থাটি।
 
যাদের রিমান্ডে আনা হবে তারা হলেন, রামপুরা থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী, ওয়াহেদুল ইডসলাম, পুলিশের সোর্স মাহফুজ আলম রনি ও স্থানীয় মো: সজিব সিকদার। এরা দুই মামলার আসামি। বর্তমানে এ ৫জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
 
এদিকে দুদক এ অনুসন্ধানের যত গভীরে যাচ্ছে তত ঘুরে ফিরে আসছে এক এসির নাম। দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক করা স্বর্ণ ও চোরাকারবারিদের ছাড়াতে পুলিশের এক এসি তদবির করেছিলেন। এমনকি নিজ কক্ষে থানার ওসিকে ডেকে এনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সঙ্গে পরিচয়ও করিয়ে দেন তিনি। স্বর্ণ চোরাকারবারীদের বাঁচাতে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের আরো একাধিক কর্মকর্তা চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।
 
দুদক এখন এসব অভিযোগ যাছাই করে প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখবে।
 
তদন্তের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলানিউজকে বলেন, এর আগে গোয়েন্দা পুলিশ দুদকের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যেহেতু স্বর্ণ আত্মসাতের বিষয় এসেছে, তাই এটা দুদকের তফসিলের মধ্যে পড়ায় আমরা এ ঘটনা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিই। অতি সম্প্রতি এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
তদন্তের প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
 
সূত্রমতে, গত ২৭ এপ্রিল অনেকটা নীরবেই রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্দুবালা, পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিম আহমেদ, একই থানার এসআই মনিরুজ্জামান এবং মতিঝিল থানার সেকেন্ড অফিসার (সাবেক রামপুরা থানা) কামরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
 
এরপর তদন্তের প্রয়োজনে স্বাক্ষী হিসেবে ডিবির উপ পরিদর্শক (এসআই) আনিসুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, এএসআই সোহেল মাহমুদ, কনস্টেবল সাইদুর হক, সাইদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, রবিউল ইসলাম ও গোলাম সরওয়ারসহ ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এরই ধারাবাহিকতায় শিগগিরই পুলিশের এক এসিসহ কয়েকজনকে তলব করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

একটি সূত্র থেকে দুদক জানতে পারে, সম্প্রতি জব্দ হওয়া প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ২৩৫টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারীদের ছেড়ে দিতে ওই এসি রামপুরা থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। জব্দ করা স্বর্ণ ছাড়িয়ে নেওয়ার কলাকৌশল ঠিক করতে ১৬ মার্চ রাত ১১টায় চোরাকারবারি দলের সাত সদস্যের সঙ্গে নিজ কক্ষে বৈঠক করেন তিনি।

পরে ওই এসির তদবিরে রামপুরা থানায় জব্দ হওয়া স্বর্ণ ও গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে গেলে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পাচারকারী মাহিন ও সমীরকে গ্রেফতার করা হয়।
 
দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, দুদক এখন এ অভিযোগ যাছাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে।
 
এছাড়া পাচারকারীদের ছেড়ে দিতে পুলিশের আরও একাধিক কর্মকর্তা সুপারিশ করেছেন এমন অভিযোগও এসেছে দুদকে।
 
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ সোর্স রনির তথ্যের ভিত্তিতে এসআই মঞ্জুরুল, কনস্টেবল আকাশ ও ওয়াহেদুল বনশ্রী এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেন। এসময় প্রাইভেটকারের আরোহীরা পালিয়ে যান। গাড়ি তল্লাশি করে ২৩৫টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ দল স্বর্ণগুলো জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হলে রামপুরা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন। পরে ১৬ মার্চ কৌশলে প্রাইভেটকারের সিটের মধ্যে ৭০টি স্বর্ণের বার লুকিয়ে রেখে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তা উদ্ধারের নাটক সাজান।

পরে প্রাইভেট কারটির চালক সমীর বিশ্বাস এবং স্বর্ণের বাহক জাহিদ হোসেন ওরফে মাহিনকে আটক করে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দুই দিনের রিমান্ডের পর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে গ্রেফতারকৃত মাহিন জানান, তারা ২৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে বনশ্রী এলাকা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতী বাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন। এসময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যান। স্বীকারোক্তির পর তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
 
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দুদকের অনুমতি সাপেক্ষে রামপুরা থানায় ৭ এপ্রিল রাতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। দুদকের কর্মকর্তা এমএ রশিদ মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালতে উপস্থাপন করলে, আদালত তা দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন। ৮ এপ্রিল দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিকুর রহমানের নির্দেশে দুদক এখন তদন্ত করছে। দুদকের উপ পরিচালক যতন কুমার রায় অভিযোগ তদন্ত করছেন।

শেয়ার করুন