নিজে যা মনে করেন

0
114
Print Friendly, PDF & Email

প্রশ্ন : শুনলাম, দুঃসময় থেকে বেরোনোর উপায় হিসেবে ২০০৯-১০ সালে নিজের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখছেন। দেখে ওই সময় আর এখন নিজের কোন পার্থক্যটা বেশি চোখে ধরা পড়ল?

তামিম ইকবাল : তেমন কিছু না। ওই সময় যে কষ্টটা করতাম, এখনো সেটা করি। আমার ভাগ্যটা ভালো যাচ্ছে না। বছরজুড়ে ভালো খেলতে গেলে ছন্দ লাগে। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেটা হয়নি। শ্রীলঙ্কা সিরিজে (২০১৩ সালে) টেস্টে ৭০ (আসলে ৫৯) রানের ইনিংসের পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার পরই হাতে চোট পেলাম। নিউজিল্যান্ড সিরিজে টেস্টে ভালো করলাম, ওয়ানডেতে ৭০ করার পর আবার হাতে চোট। এভাবে ব্রেক পড়াটা আমার জন্য দুঃখজনক। যখনই ভালো খেলতে শুরু করছি, তখনই এমন কিছু চোট হচ্ছে, যেগুলোর কোনোটার সঙ্গেই ফিটনেস সমস্যা জড়িত নয়। ২০০৯-১০ সালে এমন কিছু হয়নি। নিয়মিত খেলেছি। ছন্দটাও তাই ছিল। ২০১০ সালের পর তিনবার হাতে চোট পেয়েছি। আমার মনে হয় এটা বড় একটা কারণ।

নিজে যা মনে করেন

প্রশ্ন : খারাপ সময় সবারই যায়। আপনারটা কি একটু বেশি দীর্ঘায়িত হচ্ছে?

তামিম : আমার বাজে সময় দীর্ঘদিন ধরে যাচ্ছে, এটা বোধ হয় ঠিক না। এ বছর আমি একটাই (আসলে দুটি) টেস্ট ম্যাচ খেলেছি, সেটায় আমি ভালো করিনি। ঘাড়ের ব্যথার কারণে ওয়ানডে খেলতে পারিনি। শুধু টি-টোয়েন্টি খেলেছি। কিন্তু ২০১৩ সালে আমার টেস্ট আর ওয়ানডে রেকর্ডস খারাপ না। টেস্টে ৪২, ওয়ানডেতে ৪০-এর কাছাকাছি।

প্রশ্ন : তাহলে কি মনে হচ্ছে আপনার কাছে প্রত্যাশা বেশি?

তামিম : অবশ্যই। আমার নিজের কাছেও আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ দুর্ভাগ্য। এর বাইরে আমার নিজেরও কিছু ভুল থেকে থাকতে পারে। তবে আমি নিজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করি, আমার আত্মনিবেদনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না। যদি বুঝতে পারি যে আমি কাজগুলো ঠিকঠাক করেছি, তাহলেই কেবল আমি সন্তুষ্ট হই।

প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে কিন্তু ফিটনেস নিয়ে কাজ না করার অভিযোগ আছে।

তামিম : ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল সময়কালে যে ফিটনেস ছিল, এখনো তা-ই আছে। উন্নতি হয়নি, আবার অবনতিও হয়নি। ব্লিপ টেস্টে তখনো ১১ ছিল, এখনো ১১-ই আছে। আমার নিজের মনে হয় প্রতিবছর, মাস এবং সিরিজে ফিটনেসের ব্যাপারে আমি আরো বেশি সতর্ক। বেশি কষ্ট করি। এখন আরো বেশি সিরিয়াস। আগে হয়তো বা এতটা সিরিয়াস ছিলাম না।

প্রশ্ন : সমালোচনা কিভাবে নেন?

তামিম : আমি যখন ভালো করি, তখন সবাই এনজয় করে। আমি নিজে, আমার দল, মিডিয়া, ভক্তরা- সবাই উপভোগ করে। কিন্তু যখন খারাপ খেলি, তখন স্বভাবতই সবাই সমালোচনা করবে। এই বিশ্বকাপে আমি ভালো করিনি, তাই সমালোচনাও হয়েছে। আমি বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। ভালোটা পজিটিভলি নিলে খারাপটা কেন নেব না? সমালোচনা খারাপভাবে নিলে দুঃসময় থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছাটাই থাকবে না।

প্রশ্ন : আপনি কিছু কুসংস্কার মেনে চলেন। আপনার কি মনে হয় সেগুলো ঝেড়ে ফেললেই ভালো?

তামিম : এটা থেকে বের হওয়ার জন্যই কিন্তু আমি মনোবিদের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা বলছি। কারণ যদি কুসংস্কার আমাকে পেছনে টেনেই রাখে, তাহলে এটা ছুড়ে ফেলে দেওয়াই ভালো। হতে পারে ছোট কিছু বিষয়ের কারণে হয়তো সব ঠিকঠাক হচ্ছে না।

প্রশ্ন : নতুন নতুন পারফরমার উঠে আসছে। অলক্ষ্যে পিছিয়ে পড়ার কোনো চাপ ঘিরে ধরছে না তো?

তামিম : এটা আমার কাছে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি খুশি এ কারণে যে আগের চেয়ে দলে পারফরমারের সংখ্যাটা বাড়ছে। এতে নিজের ভেতরও একটা চ্যালেঞ্জ তাগাদা দেয়। আগে যদি ১০ শতাংশ প্র্যাকটিস করতাম, এখন ১১ শতাংশ করি। আমি চাই ওদের চেয়ে যেন আরো ভালো করতে পারি। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই বড় প্রাপ্তি।

প্রশ্ন : বড় ক্রিকেটার হিসেবে দলে রোল মডেল হওয়ার কথা আপনার। সেটি কি পেরেছেন?

তামিম : আমি আমার কাজ ঠিকভাবেই করছি, হয়তো বা আরো বেটার করতে পারতাম। এখন যেখানে আছি, এর চেয়ে ১০-২৫ শতাংশ ভালো করলে হয়তো রোল মডেল হতে পারব, যদি কেউ আমাকে আদর্শ হিসেবে নিতে চায়। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো উত্তর দিতে পারবে দলের নতুন যে ছেলেগুলো এসেছে, ওরা। প্রতিদিনই উন্নতির সুযোগ আছে। ভালো খেললে স্ট্যান্ডার্ড সেট করা সহজ। তবে খারাপ সময়ে কাজটা কঠিন হয়ে যায়।

প্রশ্ন : নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যটা কি আগের দূরত্বেই আছে?

তামিম : আমার লক্ষ্য ঠিক করা আছে। আমি আইসিসির ট্রফি (অ্যাওয়ার্ড) জিততে চাই। আমি আমাকে টপ ফাইভ ব্যাটসম্যানের তালিকায় দেখতে চাই। বর্তমান ফর্মের কথা ভেবে অনেকে হাসতে পারেন। তবে আমার লক্ষ্য এটাই, ছোটবেলা থেকেই বড় স্বপ্ন দেখি।

শেয়ার করুন