আরাকানের ১৪ কারখানার ইয়াবা পাচার করে মিয়ানমারের ৩৬ জন

0
669
Print Friendly, PDF & Email

মিয়ানমারের পশ্চিম আরাকানে মরণ নেশা ইয়াবার ১৪টি কারখানা রয়েছে। নাফ নদীর তীরের আরাকান রাজ্যের বন্দর শহর মণ্ডু, নাফফুরা, বলিবাজার ও কোয়ানচিবং এলাকায় এই ইয়াবা কারখানাগুলোর অবস্থান। এই ১৪ কারখানা প্রতিদিন ৩০ লাখ ইয়াবা উৎপাদনে সক্ষম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকায় এ প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে, মিয়ানমারের সেনা ও মিলিশিয়া বাহিনী সমর্থিত বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এসব কারখানার মালিক।

ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশে পাচারকাজে জড়িত ৩৬ জন আরাকানি। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সমপ্রতি যে তালিকা করেছে সেখানে এই ৩৬ কারবারির নামও অন্তর্ভুক্ত আছে। সীমান্তে গোয়েন্দা সংস্থা মিয়ানমারের এসব কারবারিকেও খুঁজছে।

এক দিনের ভিসা নিয়ে টেকনাফ ও মণ্ডুর মধ্যে সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াতের নিয়ম চালু রয়েছে ১৯৮০ সাল থেকেই। এই সুযোগের অপব্যবহার করছে একশ্রেণির লোক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের যে ৩৬ ইয়াবা কারবারির নাম তালিকাভুক্ত করেছে তাদের অনেকের সঙ্গে এপারের কারবারিদের আত্মীয়তা এবং ঘনিষ্ঠতা আছে।

মিয়ানমারের প্রধান ইয়াবা পাচারকারী মণ্ডু জেলার সুয়েজা ডেইলপাড়ার রশিদ। তালিকাভুক্ত অন্য ৩৫ পাচারকারীর সবাই একই জেলার বাসিন্দা। এরা হলো সংসমা গ্রামের যোবায়ের আহমদ, গোনাপাড়ার মো. হারুন ও মো. জোহার, সুদাপাড়ার আলী জোহার, ফয়েজিপাড়ার মো. সৈয়দ, জইন্যা ও সৈয়দ করিম, নাপিতের ডেইলের নুরু, নাসাকা সেক্টর-১ গ্রামের আবদুল গফুর, খায়নখালীর রশিদ, জুলাপাড়ার আসাদুল্লা, আরেফ আলী ও হেফজুর রহমান, সাবেক নাসাকা সেক্টর-৭ পাড়ার ইব্রাহিম, ম্যাংয়ালাপাড়ার মো. শফি, হেতেল্লাপাড়ার সাদেক, নাসাকা সেক্টর-৫ পাড়ার হামিদ হোসেন, সৈয়দুর আমিন ও মো. ইউসুফ, গজুবিলের কালাসোনা ও মো. আলম, আমতলার আবদুস সালাম, শাহ আলম, আবু আহমদ, কামাল, শফি, অংসাং, আবদুল করিম ও মহিবুল্লাহ, রিমাতাং মগপাড়ার মৌলভী সিদ্দিক, কাদের ভিলার সাইফুল ইসলাম, ছোট বুজুগির বিলের আবদুস সালাম, আবদুল মোতালেব ও মণ্ডুর আমতলা গ্রামের বুজি জহির।

টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইখ্যং এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারবারি মিয়ানমারের ১৪টি ইয়াবা কারখানার তথ্য দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, এর মধ্যে সাত-আটটি কারখানা দেখার সুযোগ তাঁর হয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা বাংলাদেশে পাচারের জন্য ওই ৩৬ জনের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরা টেকনাফ সীমান্তের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি শীলবনিয়াপাড়ার হাজি সাইফুল করিম, এমপি আবদুর রহমান বদির পাঁচ ভাই মৌলভি মুজিবুর রহমান, আবদুস শুকুর, মো. সফিক, ফয়সাল ও আবদুল আমিন, হ্নীলা চৌধুরীপাড়ার মংমং সেন, সৈয়দ হোসেন মেম্বার, একরাম হোসেন, নুরুল হুদাসহ অন্যান্যের কাছে চালান পাঠিয়ে থাকে। কক্সবাজারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমারে ইয়াবার কারখানাগুলো নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে একাধিক বৈঠকে আপত্তি তোলা হয়েছে। আমরা এসব কারখানা বিষয়ে এখনো জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছি।’

শেয়ার করুন