ইমেজ ‘সঙ্কটে’ র্যা ব, নাম পাল্টে ফেলার সুপারিশ

0
67
Print Friendly, PDF & Email

একের পর এক অভিযোগে চরম ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব)। সম্প্রতি র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণ ও গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনআস্থার সঙ্কটে পড়েছে এ বাহিনীটি। এর আগে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার তোপে ছিল র‌্যাব। বারবারই সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সাফাইয়ে রক্ষা পায় র‌্যাব। এবার নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর সরাসরি অভিযোগের কারণে এ বাহিনী চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। এখন সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন উঠছে। চলছে সমালোচনা।

গত রোববার নারায়ণগঞ্জের নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শশুর শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাব নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যা করেছে। এরপর ব্যাপক সমালোচনার মুখে একটি তদন্ত কমিটি করে র‌্যাব। তবে গত দুইদিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের তোপের মুখে পড়েছে বাহিনীটি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী র‌্যাবের ব্যাপক সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সেখানে কয়েকজন র‌্যাবকে বাদ দিয়ে নতুন নামে বাহিনী গঠনের সুপারিশ করেছেন। আবার কয়েকজন মন্ত্রী বাদ না দিয়ে বাহিনীটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।   

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এর পেছনে কারা আছে তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থেকে সব ঘটনার তদন্তের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কারণে র‌্যাবের প্রায় দুই হাজার সদস্যের শাস্তি হয়েছে। র‌্যাবে থেকে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে এবারো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এদিকে র‌্যাব ও সাদা পোশাকের অভিযানের বিষয়ে অভিযোগের কারণে সতর্ক হয়ে উঠেছে পুলিশও। দফায় দফায় বৈঠক করে নজরদারি জোরদার করছে তারা। সূত্র জানিয়েছে, র‌্যাব ও পুলিশের অপকর্ম ধরতে এরই মধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা দল।
 
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ প্রসঙ্গে বাংলামেইলকে বলেন, ‘পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যে কোনো অপরাধী লুকিয়ে থাকলে ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যরা নানাভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তারা নানা অপকর্ম করছে। তাছাড়া র‌্যাবের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় টাকা লেনদেনের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ কেউ যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন কয়েকজন মন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে মন্ত্রিসভা। এক মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে খুন, গুম, অপহরণ বেড়ে গেছে। মানুষের মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এসবের দায়ভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।’

ওই মন্ত্রী র‌্যাবের নাম উচ্চারণ করে বলেন, ‘র‌্যাব এসব ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরকারও চাপে পড়ছে। এসব ঘটনা কেন বাড়ছে সে জন্য তাদেরকে জবাবদিহিও করতে হবে।’ এসময় ওই মন্ত্রীর সঙ্গে আরো দু’জন মন্ত্রী একমত পোষণ করেন।
তখন পুলিশের পক্ষ থেকে সভাকে জানানো হয়, অপরাধ দমন করা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানও বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপহরণ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।  

এরপর আরেক মন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাবের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় বারবার র‌্যাবের দিকে অভিযোগ যাচ্ছে কেন? এ ঘটনায় র‌্যাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে।’ এর উত্তরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি খুঁজে দেখবে সত্যিই এর সঙ্গে র‌্যাব জড়িত কি না।

সভায় একাধিক মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতেই হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। জড়িতরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোক আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হোক, তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না।

এক মন্ত্রী বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে র‌্যাব নামে আর কোনো বাহিনী রাখলে তাকে বিশ্বাস করতে পারবে না জনগণ। তাই প্রয়োজন হলে র‌্যাব নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে বাহিনী করা যেতে পারে।’

সভা শেষে সাংবাদিকদের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘অনেকে অনেক অভিযোগ করতে পারে। তাদের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। র‌্যাবও তদন্ত কমিটি করেছে।’

এ ঘটনায় র‌্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আস্থা কমবে না। তারা বিভিন্ন সময় প্রশংসা অর্জন করেছে।’

আমেরিকার একটি মানবাধিকার সংস্থা র‌্যাবকে ভেঙে নতুন বাহিনী করার জন্য বলছে সেটি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমেরিকায় যে ঘটনা ঘটে তা নিয়েই তাদের ব্যস্ত থাকতে বলেন।’

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।   

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ:
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সাত অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব যদি লোমহর্ষক এ ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে সরকারের স্বার্থে তাদের ছাড় না দেয়ারও সুপারিশ করা হয় বলে জানা গেছে। কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের এক সদস্য বলেন, ‘অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। সন্ত্রাসীরাই যেনো এই দ্বীপের মালিক। রাষ্ট্রযন্ত্র বা প্রশাসন এখানে অচল। প্রতিদিন খুন-অপহরণ-চাঁদাবাজি চলছে এ জেলায়। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এর একটা সমাধান প্রয়োজন। এ অবস্থা চলতে পারে না।’

আরেক সদস্য বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যে কোনো মূল্যে খুন-গুম-অপহরণ বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোরও দাবি জানান।

অপর এক সদস্য বলেন, ‘জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বদলিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। ঘটনার গভীরে যেতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়তেই থাকবে।’
 
কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সংসদ সদস্য মো. মোজাম্মেল হোসেন, শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কামরুন নাহার চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সিকিউকে মোস্তাক, মহা-পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো উদঘটিন না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। তারা এ ঘটনায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়েও জানতে চান।

জবাবে র‌্যাবের মহাপরিচালক বৈঠকে জানান, এ বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব ‘বিব্রতকর অবস্থায়’ পড়েছে। এতে শুধু আইন নয়, র‌্যাবের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বৈঠকে আরো বলেন, চট্টগ্রামে একটি ঘটনায় র‌্যাবের এক কর্মকতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায়ও র‌্যাবের কারো বিরুদ্ধে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের ইস্যুতে আলোচনার জন্য ১৫ দিনের মাথায় আবারো কমিটির বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রয়োজনে কমিটির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন এবং নারায়ণগঞ্জে সরেজমিন পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা হয়।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ:
একের পর এক ঘটনায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মানুযায়ী কোনো আসামি বা অপরাধীকে ধরার আগে ও পরে স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করতে হবে। তবে র‌্যাব এ নিয়ম কখনোই মানে না। তাই র‌্যাব পরিচয়ে বা সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ তল্লাশি জোরদার করেছে। এখন র‌্যাবের গাড়িও তল্লাশি করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হচ্ছে পুলিশ।

তবে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের সঙ্গে অন্যান্য বাহিনীর কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। র‌্যাব একটি পেশাদার বাহিনী। র‌্যাব সব সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে।

হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘থানায় অবহিত না করে সংশ্লিষ্ট কোনো এলাকায় র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করতে পারবে না’ বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশও সতর্ক, মাঠে বিশেষ গোয়েন্দা:
অপহরণ-নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক পুলিশ। এবার পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও তোষামোদকারী সদস্যদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে একটি বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিট। এই ইউনিট পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার চৌকষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই অ্যাকশনে যাবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
 
সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বেশির ভাগ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, রাজনৈতিক লেবাসে পুলিশের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা নানা রকমের অপকর্ম চালাচ্ছেন। তারা কারো কথা শুনছেন না। অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। পুলিশে নতুন নিয়োগ নিয়েও টাকার খেলা হয়েছে। রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করায় র‌্যাবও আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারাও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মানছেন না। তবে লেবাসধারী পুলিশ ও র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশ পালন করছেন।
 
সূত্র জানায়, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে অবহিত করেছে, র‌্যাব সদস্যদের অনেকে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু কাজ করছেন। তারা টাকার বিনিময়ে লোকজনকে অপহরণ করছেন এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জমি-জমার বিরোধও তারা মীমাংসা করে দিচ্ছেন, যা তাদের করার কথা না।  

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিটটি মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। তারা ভুক্তভোগীদের কথা রেকর্ড করে রাখবে। যারা ঘুষ নেয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে তাদের তালিকা করবে। তারপর তারা একটি রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করবে। এর বাইরে তারা অন্য কোনো কাজ করবে না।

শেয়ার করুন