দিশাহারা বিএনপি, তরুণ নেতৃত্বে ঝুঁকছে আওয়ামী লীগ

0
173
Print Friendly, PDF & Email

তরুণ নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছে যশোর আওয়ামী লীগ। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যশোর-৩ অর্থাৎ সদর আসনে এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক কাজী নাবিল আহমেদ। সদর উপজেলা নির্বাচনে পর পর দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। যশোর-১ (শার্শা) আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন দলটির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন। তারা সবাই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। আগামীতে হাল ধরবেন দলের। পরবর্তী নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় খুশি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। তবে দলটির মধ্যে বেশ অস্বস্তি আছে সম্মেলন নিয়ে। ২০০৩ সালে সর্বশেষ যে সম্মেলন হয়, তাতে আলী রেজা রাজু সভাপতি ও শাহীন চাকলাদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৭১ সদস্যের এ কমিটি ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি অনুমোদিত হয়। তিন বছরের জন্য নির্বাচিত এ কমিটির বয়স এখন প্রায় ১০ বছর। দলটির বেশির ভাগ নেতা-কর্মীই চাচ্ছেন দ্রুত সম্মেলন হোক। পুনর্গঠিত হোক জেলা কমিটি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু বলেন, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর পুনর্গঠন চলছে। এরই মধ্যে চারটি উপজেলায় (শার্শা, অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুর) উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই বাকি চারটি উপজেলায় (ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও সদর) সম্মেলন হয়ে যাবে। এর পরই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হবে।

একসময় গ্রুপিংয়ে জর্জরিত যশোর আওয়ামী লীগ এখন দল গোছানোর দিকে মনোনিবেশ করলেও বিএনপির অবস্থা ঠিক তার উল্টো। হামলা, মামলা আর জেল-জুলুমের ভয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা এখন দিশাহারা। জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দলের অবস্থা এখন কেমন? শুধু তিনটি শব্দে উত্তর দিলেন, ‘স্থবির, বেহাল, নাজুক’। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘দলের সভাপতি চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন মারা গেছেন দুই বছর আগে। সেখানে সিনিয়র সহ-সভাপতি শামছুল হুদা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ শামছুল হুদা সে ভার কতটুকু বহন করতে পারছেন তা সবাই দেখছে। দলীয় কর্মকাণ্ডে একজন সহ-সভাপতি ছাড়া বাকিদের পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পদেই একই অবস্থা। সহযোগী সংগঠনগুলোরও কোনো তৎপরতা নেই। নেতাদের কথামতো ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিরোধে যশোর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ভালো ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর পুলিশের ভয়ে তারা কেউ বাড়ি থাকতে পারেননি। বহু নেতা-কর্মী এখন জেলে। দল তাদের আশ্রয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু হলেই জেলা বিএনপির নেতারা ছুটে গেছেন স্থানীয় প্রেসক্লাবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করেছেন। শীর্ষ একটি রাজনৈতিক দল মাঠে-ময়দানে, ঘরে-বাইরে, হাটে-ঘাটে সব জায়গাতেই থাকবে। তা না করে তারা শুধু একের পর এক প্রেস কনফারেন্স করে গেছেন। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।’ দলটির আরেক নেতা বললেন, ‘যশোর আওয়ামী লীগে বেশকিছু তরুণ নেতৃত্ব চলে এসেছে। এরাই ভবিষ্যতে দলটির নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু জেলা বিএনপিতে এমন তরুণ নেতৃত্ব আসতে পারছে না। ভবিষ্যতে দলটির নেতৃত্ব কারা দেবে- তা কেউ বুঝতে পারছে না। এ অবস্থায় দ্রুত দলটির সব পর্যায়ের কমিটি ভেঙে পুনর্গঠন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই’।

জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন সভাপতি ও সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৫১ সদস্যের এ কমিটি অনুমোদিত হয় ২০১১ সালে। এ কমিটির মেয়াদ এখন শেষের দিকে। সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জেলার সম্মেলন করার আগে অঙ্গ-সংগঠনগুলো ও উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে নেতা-কর্মীদের অনেকেই কারাগারে। রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না। সাংগঠনিক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। যশোরে জাতীয় পার্টির সর্বশেষ জেলা সম্মেলন হয়েছিল ২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর। শরিফুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও আলতাফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ২ বছর মেয়াদের এ কমিটির মেয়াদ ২০১২ সালে ২৩ নভেম্বর শেষ হয়ে গেছে। অঙ্গ-সংগঠন মহিলা পার্টি ও শ্রমিক পার্টির কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে যুব সংহতি ও ছাত্রসমাজের কমিটি নতুন করা হয়েছে। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বরে পার্টির জাতীয় সম্মেলন হবে বলে পত্রিকায় দেখেছি। তার আগেই জেলার সম্মেলন হতে হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন