আটকের পর জামায়াত নেতাকে হত্যা করেছে পুলিশ

0
312
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় বাড়ি থেকে ধরে নেয়ার পর এক জামায়াত নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তিনি নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে উপজেলার ভদ্রখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতা আশরাফুল ইসলাম (৩৫) কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা গ্রামের আদম আলীর ছেলে। তিনি কুশলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও সাতপুর দাখিল মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমানের ভাষ্য, তারা গতকাল দিবাগত রাতে জানতে পারেন, উপজেলার ভদ্রখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একদল দুর্বৃত্ত নাশকতার লক্ষ্যে গোপন সভা করছে।

পরে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত ১টার দিকে ওই এলাকায় যায়। এ সময় ওই বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম পাশ থেকে দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিয়মের একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া সংঘর্ষে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী তরফদার, কনস্টেবল মো. কামালউদ্দিন, শরীফুল ইসলাম, আবদুল জব্বার ও আহাদ আলী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান ওসি।

কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোসলেম উদ্দিন এবং নিহতের স্ত্রী পাপিয়া খাতুন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঠেকরা গ্রামের বাড়ি থেকে আশরাফুলকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ভদ্রখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা কর্মকর্তা মফিজুল রহমানের ভাষ্য, রাত পৌনে দুইটার দিকে আশরাফুলকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তার বুক গুলিবিদ্ধ ছিল।

ওসি গোলাম রহমান জানান, নিহত আশরাফুলের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টি ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দুটি মামলা ছিল।

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন অভিযানে এবং আটকের পর গুলি করে হত্যার পাশাপাশি কয়েকজনকে পঙ্গু করে দেয় পুলিশ। তবে পুলিশ এ সব ঘটনায় ‘সংঘর্ষের’ কথা বলে থাকে।

শেয়ার করুন