নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ ব্যক্তিকে অপহরণ-খুনের ঘটনার পর গুম-খুন-অপহরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ অবস্থানের বার্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধসংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকী অপহরণকারী যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও হয়। সরকারের এ কঠোর অবস্থানের কথা ইতোমধ্যে পুলিশের আইজি ও র্যাবের মহাপরিচালককে জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই তাৎক্ষণিক ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা র্যাব ১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদসহ ৩ র্যাব কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জের ৭ ব্যক্তি অপহরণ ও খুনের ঘটনায় বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত বাকি দুজন হলেন মেজর আরিফ ও লে. রানা।
হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক মন্ত্রীপুত্রের বিরুদ্ধেও। গতকাল নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিচতলার নামাজঘরে নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, এক মন্ত্রীপুত্রের মধ্যস্থতায় ৭ খুনের পরিকল্পনা করা হয়। তিনি বলেন, নজরুলসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে যায় র্যাব। ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তি হয়। র্যাবের সঙ্গে এ চুক্তি করেন নূর হোসেন। তাদের মধ্যস্থতা করে দেন চাঁদপুর জেলার এক মন্ত্রীর ছেলে। নূর হোসেনের সঙ্গে সড়ক ও জনপথে ঠিকাদারি কাজ করতেন মন্ত্রীপুত্র। এছাড়া তার একটি ফিলিং স্টেশন দেখাশোনা করতেন নূর হোসেন। সম্প্রতি তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের একটি অংশের উপকরণ সরবরাহের কাজ যৌথভাবে করছিলেন। শহীদুল ইসলাম আরও জানান, মন্ত্রীপুত্রের মাধ্যমেই র্যাব ১১-এর অধিনায়কের (সিও) তারেক সাঈদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে নূর হোসেনের। ওই সুবাদেই নূর হোসেন র্যাবের অধিনায়ককে নিয়ে ৭ খুনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তির টাকা একটি ব্যাংকের শিমরাইল শাখা ও অন্য একটি ব্যাংকের রায়েরবাগ শাখার মাধ্যমে লেনদেন হয়। আর কিছু টাকা লেনদেন হয় হাতে-হাতে। শহীদুল ইসলাম জানান, নূর হোসেন এর আগে পাঁচবার নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করেন। পাঁচ-পাঁচবার না পারলেও এবার র্যাব-বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে হত্যা করেছেন।
এদিকে ৭ অপহরণ-খুনের সঙ্গে র্যাব ১১-এর কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর মামলার তদন্তেও নতুন মোড় নিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যাকা-ের সঙ্গে র্যাবের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এজন্য তারা ঘটনার দিন আদালত প্রাঙ্গণে নজরুলকে অনুসরণকারী যে র্যাব সদস্যকে আটক করা হয়েছিল, তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত লাশের সঙ্গে বাঁধা ইটের খোঁজও করা হচ্ছে। অন্যদিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৭ খুনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১৬ জনকে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অনেকেই র্যাবের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও হত্যাকা-ে নূর হোসেনের হাত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে গাড়িতে কালো গ্লাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে প্রতিটি থানার সিভিল টিম (সাদা পোশাক)। এ ছাড়া ঢাকায় গঠন করা হয়েছে অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড। গুম-অপহরণসহ অপরাধদমনে সজাগ থাকতে এরই মধ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি এ নৃশংস হত্যাকা-ে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনকী দলীয় নেতাকর্মীরাও যদি রোমহর্ষক এ ঘটনায় জড়িত থাকে দল ও সরকারের স্বার্থে তাদেরও ছাড় না দেওয়ার সুপারিশ করেছে এই কমিটি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গুম-অপহরণসহ যে-কোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর, সেই বার্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ অপহরণের ঘটনার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদকে প্রত্যাহার করা হয়। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে নতুন জেলা প্রশাসক ও পুুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নারায়ণগঞ্জের ৭ অপহরণসহ দেশে গুম-অপহরণ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করে গাড়িতে বিশেষ করে মাইক্রোবাসে কালো অথবা অস্বচ্ছ রঙিন গ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। আগামী ১০ মে থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ওই দিন থেকে কালো বা রঙিন গ্লাসের গাড়ির বিরুদ্ধে পুলিশকে মোটরযান আইনে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
অপহরণ ঠেকাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ গত শনিবার থেকে চালু করে অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড। ইতোমধ্যে এ স্কোয়াড ৬টি বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে। এছাড়া এ স্কোয়াড অপহৃত একজনকে উদ্ধারও করে। গ্রেপ্তার করে অপহরণকারীচক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে। ৪০ সদস্যের এ স্কোয়াড নজর রাখছে পুরো রাজধানীর ওপর। গুম-অপহরণ-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করতে ইতোমধ্যে এ স্কোয়াডের পক্ষ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন নম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এ নম্বরে ভুক্তভোগীরা ফোন করে তাদের অভিযোগ জানাচ্ছেন। আর স্কোয়াডের সদস্যরা প্রতিটি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে রাখছেন রেজিস্টারে।
রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের ত্রৈমাসিক অপরাধসভায় দেশের সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় আইজিপি দেশব্যাপী অপহরণের মামলাগুলোর মোটিভ নির্ধারণ ও প্রতিটি মামলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিবিড় পর্যবেণ নিশ্চিত করতেও নির্দেশ প্রদান করেন।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ৭ জন অপহরণের ৭ দিন পর অপহরণ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই বাড়ি থেকে একটি মাইক্রোবাস, রক্তমাখা জামাসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে। এছাড়া শামীম ওসমানের এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে জব্দ করে একটি প্রাইভেটকার। এ ঘটনায় এখনপর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও নূর হোসেনসহ অপহরণমামলার ৬ আসামির একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। ইতোমধ্যে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের নামে থাকা ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স। এছাড়া র্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ আসায় র্যাব সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটি তদন্তকাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সংসদ ভবনে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মো. মোজাম্মেল হোসেন, শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনও উদঘাটন না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। তারা এ ঘটনায় র্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে র্যাবের মহাপরিচালক বৈঠকে জানান, বিষয়টি নিয়ে র্যাব বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এতে শুধু আইন নয়, র্যাবের প্রতি দেশের আস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় র্যাব সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কমিটির সভাপতি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য সরকার দলীয়দের গ্রুপিংয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসেন। এটি তদন্ত করে সম্পৃক্ততা মিললে দলীয় নেতা-কর্মী হলেও দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় তাদের কোনও ছাড় না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তোলেন। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি লোমহর্ষক ও বহুল আলোচিত এ ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা দলীয় নেতাকর্মী যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেন।
অপহরণকারী চক্রের কাছে অস্ত্র সরবরাহ, ৫টি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৭
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের কাছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী একটি দলের প্রধানসহ ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এন্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল ও ৬ কেজি ২০০ গ্রাম বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক নারীও রয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) ডিসি কৃষ্ণ পদ রায় জানান, গত রোববার ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী গত সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কাবিল, জিল্লুর রহমান ও রাকিবুল হাসান রকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ফার্মগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই দলের নিজামুদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও খালেদা বেগম সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি ও ৬ কেজি ২০০ গ্রাম বিস্ফোরক জব্দ করা হয়।
কৃষ্ণ পদ রায় জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন অপহরণকারী চক্রের কাছে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করত। এসব অস্ত্র ধরন অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করত তারা। রাজধানীতে সক্রিয় এ ধরনের অন্যান্য সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও এর আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্রগুলো এসেছে বলে জানান তিনি।
কাঁচপুরে নূর হোসেনদের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুলসহ ৭ খুনের আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন। এ সময় নদী ভরাট করা বালু ভেকু দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সকাল ১০টার দিকে কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতীর দখল করে নূর হোসেন ও ভাই নুরুজ্জামান জজ মিয়া ও তার সহযোগীদের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত টানা অভিযানকালে শতাধিক বালু ও পাথরের টংঘর ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশনের পাশে নদী ভরাট করা বালু সরিয়ে নদীর তিন একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। নূর হোসেন ও তার ভাই নুরুজ্জামান জজ মিয়া কাঁচপুর এলাকায় নদী দখল করে বালু ও পাথরের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। বালু ও পাথর ব্যবসা থেকে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এর আগে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও নূর হোসেন ও তার লোকজন বেশ কয়েকবার বাধা দিয়েছিলেন। ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মতিন জানান, এর আগে নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল। উচ্ছেদ অভিযানে বিপুল ংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানকালে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি।
অপহৃত সবুজের সন্ধান মেলেনি : কারাগারে শীষ মনোয়ার
জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রধান হিসাবরক আবু বকর সজীব অপহরণ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক শীষ মনোয়ারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ২ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মিরপুর থানা পুলিশ তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সবুজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ২৬ এপ্রিল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সবুজ। দিনভর সবুজের ব্যক্তিগত ৩টি মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে সবুজের বাবা প্রথমে মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও তার সন্ধান না পাওয়ায় শীষ মনোয়ার ও ওই অফিসের আরও কয়েকজনের নামে মিরপুর থানায় অপহরণের মামলা করেন সজিবের বাবা ও স্ত্রী সানজিদা। কর্মকর্তা নিখোঁজের ঘটনায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার প থেকেও রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গত শনিবার ভোরে শীষ মনোয়ারকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর থানা পুলিশ।
গাজীপুরে পুলিশের অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড গঠন
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, উপর্যুপরি অপহরণ ঘটনার কারণে গাজীপুর জেলা পুলিশ অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড গঠন করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পর এবার গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের নেতৃত্বে মঙ্গলবার ১১ সদস্যবিশিষ্ট ওই স্কোয়াড গঠন করা হয়। গতকাল সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ১১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বগুড়ায় পুলিশের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বগুড়ায় অপহরণ, গুম ও খুনের ঘটনা প্রতিরোধে নিñিদ্র নিরাপত্তা ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য শহরের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেসব চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে সন্দেহজনক কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল। এ ছাড়াও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে সাদা পোশাকপরা পুলিশি অভিযান। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সাদা পোশাকপরা পুলিশ অভিযানে গেলেও সঙ্গে পোশাকধারী পুলিশও থাকবে। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে পুলিশ সুপারের অনুমতি নিতে হবে। এদিকে পুলিশের প থেকে কালো গ্লাস লাগানো মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব গাড়িতে কালো গ্লাস খুলে সাদা স্বচ্ছ গ্লাস লাগাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ১০ মে থেকে এসব গাড়ি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁয় অপহৃত রাজমিস্ত্রি মোহনপুরে উদ্ধার
রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নওগাঁ থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর মাজেদ আলী নামে এক রাজমিস্ত্রিকে রাজশাহীর মোহনপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মোহনপুর থানা পুলিশের সহায়তায় নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ উপজেলার সইপাড়া থেকে সোমবার রাতে তাকে উদ্ধার করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে নওগাঁ সদর থানায় নেওয়া হয়। মাজেদ আলী উপজেলার পুনইল সোনারপাড়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে।
রাজধানীতে অপহৃত ছালমাকে দাউদকান্দিতে উদ্ধার
দাউদকান্দি প্রতিনিধি জানান, রাজধানী ঢাকার আজিমপুর থেকে অপহৃত ছালমা আক্তারকে ৪ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার থেকে উদ্ধার করে গৌরীপুর ফাঁড়ি থানা পুলিশ। ছালমা আক্তার রাজধানী ঢাকার ৫২ নিউ আজিমপুর এলাকার শেখ সোহরাবের কন্যা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাড়ারবন গ্রামের জসিম উদ্দিনের পুত্র সুমন মিয়া ও একই জেলার তিতাস উপজেলার ষোলাকান্দি গ্রামের সফিকুল ইসলামের পুত্র আলম।
হাজীগঞ্জে অপহৃত ব্যবসায়ী কুমিল্লায় উদ্ধার
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার হাজীগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী সোমবার দুপুর ১২টায় নিখোঁজ হন। এর ১২ ঘণ্টা পর রাত ১২টায় কুমিল্লার বিজয়পুর থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি হাজীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী সাখাওয়াত ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
চট্টগ্রামে অপহরণকারীর যাবজ্জীবন কারাদ-
চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নগরীর বন্দর থানা এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের দায়ে মো. মিল্টন হাওলাদার নামে এক যুবককের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক মো. জাকির হোসেন এ রায় দেন। ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এমএ নাসের চৌধুরী জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রীকে অপরহণের বিষয়টি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। রায় ঘোষণার পর আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিলেটে টাকাসহ ব্যাংক প্রহরী অপহৃত
সিলেট প্রতিনিধি জানান, সিলেট নগরী থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রহরীকে অপহরণ করা হয়। তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে নগরীর চৌহাট্টা থেকে। তবে ওই প্রহরী অপহৃত হয়েছেন না কি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক আম্বরখানা শাখার প্রহরী (গার্ড)। তিনি আম্বরখানা বড়বাজার ৫৮/১ নম্বর বাসার আরব আলীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায়।
চকরিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী উদ্ধার
চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে অপহৃত হওয়ার একঘণ্টা পর এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার, এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করে চকরিয়া থানা পুলিশ। ওই থানার ওসি প্রভাস চন্দ্র ধর এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১০টার দিকে চকরিয়া ডিগ্রি কলেজের মূল ফটক থেকে এইচএসসি পরীার্থী উপজেলার লই্যারচর গ্রামের বাসিন্দা মাশুক আহমদের মেয়ে রুমানা ইছহাক নূরীকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। ঘটনার পরপরই পুলিশ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কে তল্লাশি চৌকি বসায়। ঘণ্টাখানেক পর বরইতলী এলাকায় পুলিশের একটি দল অপহরণকারীদের গাড়িটি ধাওয়া করে তাদের আটক এবং ওই পরীার্থীকে উদ্ধার করে। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ওই শিার্থী এইচএসসি পরীায় অংশ নেন। আটককৃতরা হলেন- উপজেলার ইলিশিয়ার আমান উল্লাহ, নাছির উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন এবং কোনাখালী এলাকার বাসিন্দা গরীব উল্লাহ।
বিএনপির প্রবাসী নেতা গাড়িচালকসহ নিখোঁজ
বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও যৃক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব (৫৬) ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের কেওয়ালীপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ আলীর ছেলে ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি। মুজিবুর রহমান মুজিব জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নূরুল হুদা মুকুটের বেয়াই (মেয়ের শ্বশুর)। তার গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেল সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বুক সার্টার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের সাউদেরগাঁও গ্রামে। সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ায় তার বাসা।
নিখোঁজ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নি জামাই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম গতকাল সকালে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা গেছে, নিখোঁজ মুজিবুর রহমানের মোবাইল ফোন রোববার বিকাল ৫টায় ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকা অতিক্রম করে। সোমবার বিকালের এক সময় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকায় সামান্য সময় চালু ছিল, পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, মুজিবুর রহমান গত রোববার জেলা বিএনপির অনশন কর্মসূচি পালন শেষে সুনামগঞ্জ শহরের হাজীপাড়া আবাসিক এলাকার বসুন্ধরা ১৪ নং বাসা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেলকে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে (ঢাকা-মেট্রো-গ ২৭-৪৬৯৮ নং গাড়ি) সিলেট শহরের বাগবাড়ি আবাসিক এলাকার হলিভিউ-১০১ নং বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত সিলেটের বাসায় পৌঁছেননি তিনি। ওই দিন রাত ৮টায় তার ব্যক্তিগত ৩টি ও গাড়িচালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পান স্বজনরা। গত দুদিন ধরে তার ও তার গাড়িচালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম জানান, মুজিবুর রহমানের পরিবারের সবাই লন্ডনে থাকেন। এলাকার কারও সঙ্গে তার শত্রুতা নেই। কি কারণে তিনি নিখোঁজ এ বিষয়ে সঠিক ধারণা করতে পারছেন না তারা। তাকে অপহরণ করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ রবিউল বলেন, আমরা সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছি না। দুদিনের মধ্যে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। থানায় জিডি করেছি। সুনামগঞ্জ র্যাব অফিসের কমান্ডারের সঙ্গেও কথা বলেছি।
এদিকে বিএনপিনেতা নিখোঁজের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের মুক্তারপাড়া এলাকায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপি নেতারা। সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী যত দ্রুত সম্ভব মুজিবুর রহমানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। তিনি এ দাবিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। আজ বুধবার শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীর গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদ জানান, গত শনিবার রাত ১২টায় সোহেল মোবাইল ফোনে তার বড় বোনের সঙ্গে কথা বলে। রোববার তার সঙ্গে পরিবারের কারও কথা হয়নি। সোমবার প্রবাসীর ভাতিজার কাছে মোবাইল করে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি জানে আলম খান বলেন, মুজিবুর রহমান ও তার গাড়িচালক নিখোঁজের ঘটনায় সারা দেশে তারবার্তা পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা গেছে, প্রবাসীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের অবস্থান ময়মনসিংহ জেলার এক এলাকায় কিছু সময় ছিল। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে নিখোঁজদের অবস্থান ও তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, প্রবাসী ও তার গাড়িচালক নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ জোরালোভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রবাসীর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে তাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ র্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, নিখোঁজ প্রবাসীর ভাগ্নি জামাই সদর থানার জিডির কপি আমাদের কাছে দিয়েছেন। বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। র্যাব সদস্যরা নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।








