অনিয়ম ও দুনর্ীতির আখড়ায় পরিণত সাব-রেজিষ্ট্রিার অফিস

0
188
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে৷ বিভিন্ন ফিসের নামে জমি ক্রয় বিক্রয় করতে আসা এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অফিসের কর্মকতর্া কর্মচারীরা৷
অনুসন্ধানে জানাগেছে তারাগুনিয়ায় অবস্থিত দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে দৈনিক গড়ে ২০০ টির বেশি দলিল সম্পন্ন হয়৷ প্রতি দলিলে গ্রহিতাদের সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়৷ একটি সাফ কবলা দলিল করতে ২ শতাংশ জমির জন্য ১৩ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়৷ এ থেকে পরিত্রাণ পাবার সুযোগ হারিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ৷ কারণ রাজনৈতিক নেতাকমর্ী এবং বিভিন্ন পযর্ায়ের লোকদের ম্যানেজ করে এসকল অপকর্ম চালিয়ে আসছে এই অফিসের কর্মকতর্া কর্মচারীরা৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক জানান, ৭০ হাজার টাকা মুল্যের ২ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিল করতে হাজারে ৭০ টাকা হারে মোট ৪৯০০ টাকার স্ট্যাম্প মূল্যের সঙ্গে হলফনামা বাবদ ৫০০ টাকা, চালান বাবদ ১৫০০ টাকা, তার দলিল লেখক সমিতির চাঁদা, পর্চা বাবদ ৫০০ টাকা, সাব রেজিষ্ট্রারের চাঁদা বা দাখিল ফিস বাবদ ১০০০ টাকা, অফিস রক্ষা ফিস ১০০ টাকা, দলিল লেখকের লেখা বাবদ ৫০০ টাকা সহ মোট ১৩০০০ টাকা খরচ হয়৷ এভাবে প্রতি দলিলে সাব রেজিষ্ট্রার দাখিল ফিস, অফিস রক্ষা ফিস ও পর্চা বাবদ (১০০০+১০০+৫০০) ১৬০০ টাকা হিসাবে প্রতিদিন ২০০ টি দলিলের বিপরীতে ৩ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায় করা হয়৷ ফলে, সপ্তাহে দুদিন করে মাসে সরকারী ছুটির দিন বাদে ৮ দিনে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়৷ তিনি আরো জানান, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের বড় বাবু খ্যাত প্রধান করণিক আল আমিন ও স্থায়ী মোহরার মনিরুল ইসলাম এসকল ফিস আদায় করে থাকেন৷ কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে সরকারী নিয়মে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪৬০ টাকা নেবার বিধান থাকলেও সাড়ে ৪ হাজার ৬ হাজার টাকা নেয়া হয়৷ হেবা দলিলের ক্ষেত্রে প্রতিটিতে ৩৫০ টাকা নেবার বিধান থাকলেও ১-১০ শতাংশ হেবা ঘোষণা দলিলে ৮৫০ টাকা এবং পরবতর্ী প্রতি শতকের জন্য ২০ টাকা করে ফিস আদায় করা হয়৷ সার্টিফাইড কপির জন্য ১০ টাকার কোট ফি, ৩৫ টাকার ষ্ট্যাম্প ও ফিস ৮০ টাকা মিলে সর্বনিম্ন ১২৫ থেকে সবের্াচ্চ ১৭৬ টাকা নেবার বিধান থাকলেও ৭’শ টাকা আদায় করা হয়৷
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাব- রেজিষ্টার সেলিম মলি্লক জানান, তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার হিসাবে কর্মরত৷ দৌলতপুরে কোন সাব-রেজিষ্টার না থাকায় তিনি সপ্তাহে দুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র৷ অনিয়ম দুনর্ীতি ও অতিরিক্ত ফিস আদায়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না৷ যদি হয়ে থাকে তবে, অফিসের ষ্টাফরাই বলতে পারবেন৷
জানতে চাইলে স্থায়ী মোহরার মনিরুল ইসলাম, মুচকি হাসি দিয়ে জানান, সাব রেজিষ্টারের নির্দেশ ছাড়া এ অফিসে কিছুই হয়না৷

শেয়ার করুন