‘নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে’

0
78
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও খুন-গুমের ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কারণ, বিএনপির নেতাদের খুন-গুমের মাধ্যমে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলার পর পরই যখন নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় গুম-খুন হয়, তখন সেখানে তাদের সম্পৃক্ততা থাকা অমূলক নয়। তাই এ সব ঘটনার দায় বিএনপি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের এই হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সরকারের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। সরকার অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচার করবে বলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। ঘটনায় সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এতে কোনো রকম রাজনৈতিক ছাড় দেয়া হবে না।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ওপর চরম নির্যাতন করেছে। বহু মানুষকে অপহরণ ও গুম করা হয়। তাই তাদের মুখে গুম-অপহরণ নিয়ে সমালোচন মানায় না।’

আমু বলেন, ‘বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে যে আন্দোলন করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করা। এখন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলটির নেতারা ইতিহাস বিকৃতির নতুন তথ্য দিয়ে আবার সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে সব বাধা অতিক্রম করে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।’

ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার করে বিএনপিকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘রাজনীতির নামে ধ্বংসাত্মক কাজ করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারেক রহমান টঙ্গীতে খোয়াব ভবন করেছিলেন। সেখানে গভীর রাতে তার যাতায়াত ছিল রহস্যজনক। এ ছাড়া, সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের ছিল অবাধ যাতায়াত। ওই খোয়াব ভবনের প্রতিবাদ করায় খালেদা জিয়ার পোষা গুন্ডারা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।’

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছেলে সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আক্তারুজ্জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, শ্রমিক নেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন