গরমে সুস্থতার আদ্যোপান্ত

0
88
Print Friendly, PDF & Email

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে আমাদের প্রকৃতিতে। আর তারই প্রমাণ আমরা পাচ্ছি আবহাওয়ায়। ৫৪ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে গরম পড়েছে। মনে হয় সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর নিবীড় বন্ধুত্ব হয়েছে তাইতো আমাদের কাছ থেকে দূরে যেতেই চাইছে না। বৃষ্টি হলেও গরম কমছেই না।

এসময়টাতে আমরা অনেকেই অসহনীয় বোধ করছি, অনেকেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আসুন জানার চেষ্টা করি কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে আর সমাধানই বা কি:

শারীরিক সমস্যা: বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে আমাদের শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এসময় প্রচুর ঘাম হয়, ঘামের সঙ্গে আমাদের শরীরের ‍অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ বেড়িয়ে যায়। যার ফলে পানির অভাবে আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা, বমিভাব, মাথায় যন্ত্রণাসহ হিটস্ট্রোকের মতো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও শরীরে লবণের অভাব হলে মাসলপুল করে।

হিটস্ট্রোক

অস্বাভাবিক গরমে আমাদের শরীরের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক হচ্ছে হিটস্ট্রোক। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং এর বেশি হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বুঝে নিতে হয় হিটস্ট্রোক হয়েছে। এমন অবস্থায় রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চিকিত্সার জন্য হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।

পানিশূন্যতা

পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো জেনে নেই:
যখন আমাদের প্রস্রাব অতিরিক্ত হলুদ হবে। তখন বুঝতে হবে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করছি।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, ত্বক, ঠোঁট, মুখ শুষ্ক লাগে, ঘন ঘন তেষ্টা পায় এবং প্রায়ই সংক্রমণ হলে বুঝতে হবে পানিশূন্যতায় ভুগছি।

পানিশূন্যতা থেকে মুক্তি পেতে:
শরীরের তাপমাত্রার অত্যধিক বৃদ্ধি ও পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য, শরীরের অতিরিক্ত পানি থাকতে হবে। এজন্য প্রথমেই আমাদের সচেতন হতে হবে খাবারের বিষয়ে।

পানি: শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করতে হবে। গরমে সুস্থ সতেজ ও কর্মচঞ্চল প্রাণোচ্ছ্বল থাকতে পানি পানের কোনো বিকল্প নেই।

বার্লি: জ্বরাক্রান্ত এবং গ্যাস্ট্রিক রোগীদের র্বালি পানি খেতে দিতে হবে।

বেল: পাকা বেলের শরবত হজমে সাহায্য করে। কাঁচা বেল গ্রীষ্মকালে আমাশয় সারাতে টনিকের কাজ করে।

বরফ চা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সমৃদ্ধ বরফ চা একটি রিফ্রেশিং পানীয়। এটি আমাদের শরীর ঠাণ্ডা এবং আর্দ রাখে।

জুস: শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ লেবু, তরমুজ, শসা, কাঁচা আমের পুষ্টিকর জুস নিয়মিত পান করতে হবে।

এই গরমে সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিজ্ঞানী হেনা নাফিসের পরামর্শ:
• সরাসরি সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলুন। বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
• হালকা রঙের সুতি পোশাক পরুন, তাপ কম অনুভব করবেন
• সব ধরনের মাদক ও ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে দূরে থাকুন
• ভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এই গরমে
• প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর সবজি ও ফল রাখুন
• শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম থেকে হঠাৎ সূর্যের প্রখর তাপে বাইরে যাবেন না।

এই গরমে নিয়ম মেনে চলুন, মাত্র তো আর কটা দিন, গরমকে উপভোগ করুন।

বন্ধুরা সৌন্দর্য বিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন আমাদের মেইল করে অথবা ফেসবুকে জানান। সঙ্গে উল্লেখ করুন নাম, বয়স, পেশা ও ফোন নাম্বার। আপনাদের সমস্যার সমাধান দেবেন দেশের অন্যতম সৌন্দর্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের কর্নধার রূপ বিশেষজ্ঞ কনা আলম।

শেয়ার করুন