বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে চীনের বাজার

0
95
Print Friendly, PDF & Email

চুক্তি হতে পারে শেখ হাসিনার সফরে

বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত করে দিচ্ছে চীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। সে লক্ষ্যে তারা একটি প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। দেশটি বলছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য তারা যে ‘জিরো ট্যারিফ স্কিম’ ঘোষণা করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে সে বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে।

চীনের এ প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত ফোরাম টিকফার প্রথম বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, চীনে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ‘সেকেন্ড চায়না সাউথ এঙ্পজিশন’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সময়ে দুই দেশের ১৩তম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভাও অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আপটার আওতায় পাওয়া অগ্রাধিকার পণ্যের বাণিজ্যসুবিধার পরিবর্তে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রস্তাবিত জিরো ট্যারিফ সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। জানা গেছে, প্রস্তাবিত সুবিধা কার্যকর হলে চীনের বাজারে তৈরি পোশাকসহ প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তবে এ জন্য স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজনের যে শর্ত রয়েছে, তা শিথিল করতে হবে। বর্তমানে আপটার আওতায় ৮৩টি পণ্যে এবং জিরো ট্যারিফ স্কিমের আওতায় ৪ হাজার ৭৮৮টি পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আপটার আওতায় শুল্কসুবিধার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ৩৫ শতাংশ এবং জিরো ট্যারিফের আওতায় ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন যে সুবিধা দিতে চাইছে, তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী বাজার গড়ে উঠবে। কারণ শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চীন পোশাক খাত থেকে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের তৈরি পোশাকের মূল্যও বেশি পড়ছে। এ অবস্থায় চীনের জনগণও সস্তা দরের তৈরি পোশাক খুঁজছে। এ সুযোগে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার এ দেশটির পোশাক খাতের বাজার ধরতে পারলে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে পোশাক খাতের রপ্তানি বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। তবে চীনের বাজারে রপ্তানির সুফল নিতে হলে স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজনের যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা আরও কমানোর বিষয়ে দরকষাকষি করতে হবে।

এ ব্যাপারে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সম্প্রতি চীনের কাছ থেকে এ ধরনের একটি প্রস্তাব পেয়েছি আমরা। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে তারা জিরো ট্যারিফের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজনের যে শর্ত দিয়েছে, তা কমানোর সুপারিশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি এ ব্যাপারে দেশটির সরকারকে অনুরোধ জানাবেন। এতে সফল হলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যবৈষম্য যেমন কমবে, তেমনি গড়ে উঠবে তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন বাজার।

শেয়ার করুন