রোহিঙ্গা ঠেকাতে সীমান্তের ১৪ এলাকায় ইসির রেড এলার্ট

0
70
Print Friendly, PDF & Email

রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ১৪টি উপজেলায় জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। ভোটার হালনাগাদে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ফরম। নতুন অনুপ্রবেশকারীদের ওপরেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে রোহিঙ্গা শনাক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। পুরো বিষয়টি সরাসরি মনিটরিং করবেন নির্বাচন কমিশনের সচিব ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, ভোটারদের সঠিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনভাবেই ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ এলাকার ১৪টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ফরমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ফরমে ভোটারদের আদিনিবাস, পিতা, পিতামহের ঠিকানা, সম্পত্তি ও নিকটাত্মীয়দের পরিচয়ের তথ্য দিতে হবে। তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ কমিটি এসব ফরম যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন এবারে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এলাকার ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে। এমনকি অনেক সময় ভূয়া নাম ব্যবহার করে অনেকে ভোটার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনে চিহ্নিত রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ১৪ উপজেলা হচ্ছে- কক্সবাজারের সদর উপজেলা, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও মহেশখালী, বান্দরবানের সদর উপজেলা, আলিকদম, লামা, নাইক্ষংছড়ি, রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলা। এরআগে ১৩ টি এলাকাকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ধরা হলেও এবারে ওই তালিকায় নতুন যোগ হয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া।

ইসি জানিয়েছে, ১৫ মে থেকে দেশব্যাপী ভোটার তালিকার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১৮২ থানা নির্বাচন অফিস ও উপজেলায় ১৫ মে থেকে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১৫ জুন থেকে ২৪ জুন ২১৯টি উপজেলায় এবং তৃতীয় ধাপে ২১৯টি উপজেলায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়ার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে শেষ ধাপেই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার তালিকার কাজ করবে ইসি। ইসি সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি বা এর আগে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করবে ইসি। এছাড়া ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যারা ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হয়েছে তারাও ভোটার হবে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ভোটারযোগ্যদের নিয়ে হালনাগাদে এবার অন্তত ৪৬ লাখ ভোটার হতে পারে। এ কার্যক্রমের সময় মৃতদের বাদ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানান্তর, সংশোধন, বাদ পড়াদের অন্তর্ভূক্তিও চলবে বলে ইসি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন