ঘুষ নেওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

0
235
Print Friendly, PDF & Email

সুবিধামতো জায়গায় বদলি করার কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমানকে প্রত্যাহার করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁর ওই অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ খবর শুনে শিক্ষকেরা ঘুষের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার বিকেলে আতাউর রহমানকে তাঁর কার্যালয়ে (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়) অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
ওই কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে আতাউর রহমান মনোহরদীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, আতাউর রহমান যোগদান করার পর থেকেই তিনি সুবিধামতো স্থানে বদলি করার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেন। এ পর্যন্ত তিনি অনেককে বদলিও করেছেন। সম্প্রতি তিনি বদলির কথা বলে অর্ধশতাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেন। এসব বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পর আতাউর রহমানকে চলতি সপ্তাহে মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে প্রত্যাহার করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আজ তাঁর ওই অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে ঘুষ প্রদানকারী শিক্ষকেরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জড়ো হয়ে তাঁকে অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে মনোহরদী থানায় নিয়ে যান।
জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রশাসনিক কাজে মনোহরদীতে গেলে খবর পাই, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ আছেন। পরে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাই। ওই কর্মকর্তা আমার কাছে ঘুষ গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।’
তবে আতাউর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিও) মুজিবুল আলম বলেন, ‘আমরা এর আগে আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পেয়েছি। সে মোতাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
মনোহরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা থানায় এসে নিজেরা বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে রাতে ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন ও চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্যারের সম্মান রক্ষায় আমিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক থানায় গিয়ে বিষয়টি সমন্বয় করার চেষ্টা করি। যেসব শিক্ষকের সঙ্গে সমস্যা রয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে তাঁদের সঙ্গে স্যার সমাধান করে ফেলবেন—এই মর্মে তাঁকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনি।’

শেয়ার করুন