ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের দুর্নীতি রোধে সরকারের বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি

0
68
Print Friendly, PDF & Email

ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে সরকার। এসব প্রকল্পে যাতে কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে সেজন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। ফাস্টট্র্যাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প ও মেট্রোরেল প্রকল্প। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিন মাস পর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কর্মপন্থা অনুযায়ী আর্থিক তথ্যও পাঠাতে বলা হয়েছে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আলোচিত ও মেগা ৬ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। মেগা প্রকল্পগুলোর ফাস্টট্র্যাক মনিটরিং কমিটির আওতায় নিয়ে নিবিড় পরিচর্যায় ইতোমধ্যেই সুফল মিলতে শুরু করেছে। এসব প্রকল্পের গতি ফিরে আসার পর দুর্নীতি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। যাতে পদ্মা সেতুর মতো ঘটনা আবার না ঘটার কোন সুযোগ সৃষ্টি না হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্প্রতি চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ফাস্টট্র্যাক মনিটরিং টাস্কফোর্সের সদস্য ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম চিঠির বিষয়ে বলেন, এ রকম চিঠি দিয়ে সতর্ক করার বিষয়টি অবশ্যই ভাল। তবে প্রকল্পের দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা রক্ষার বিষয়ে পরিকল্পনা সচিবের কিছু করার থাকে না। আমি দেখব প্রকল্প অনুমোদনে যদি কোন জটিলতা দেখা দেয় ফান্ড রিলিজে যদি কোন সমস্যা হয় সে বিষয়গুলো।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেলের পরিচালক মোঃ নুরুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিটি সরকারের ৯ সচিবকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), সড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, নৌপরিবহন, বিদ্যুত বিভাগের সচিব।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফাস্টট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ মনিটরিংয়ের জন্য কর্মপন্থা ও মনিটরিং ফরমেট অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন টাস্কফোর্স দিতে হবে। ফাস্টট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহ বৃহৎ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ বিধায় প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা জরুরী। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের যথাযথ অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারী ক্রয়নীতি অনুসরণ ও জিটুজি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তির অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিপিটিইউর পরামর্শ নিতে হবে। এসব প্রকল্প নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন টাস্কফোর্স বরাবর পেশ করবেন। পুরো প্রকল্পের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এ পরিকল্পনা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রকিউরমেন্ট করতে হবে। দরপত্রের ডকুমেন্ট প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। কোন প্রকার অস্পষ্টতা পরিহার করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বসহকারে মনিটরিং চলছে। কয়েক দফা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকও হয়েছে। এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। যাতে পদ্মা সেতুর মতো কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে। আবার কোন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিপাকে পড়বে সরকার। এসব দিক বিবেচনায় শুধু বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় নয়, দুর্নীতির রোধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্মপন্থা অনুযায়ী মনিটরিং করা হবে।

শেয়ার করুন