স্ট্রবেরি চাষে পাহাড়িদের আগ্রহ দিন দিনই বাড়ছে। মহালছড়িতে স্ট্রবেরি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে বাজারজাত সমস্যার কারণে স্ট্রবেরি চাষ সেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে না। সরকারিভাবে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা হলে স্ট্রবেরি চাষে একদিকে স্থানীয় কৃষকরা আরো উত্সাহিত হবেন, সেইসঙ্গে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলাও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন খাগড়াছড়ি জেলার প্রথম স্ট্রবেরি চাষী মহালছড়ির বিমলব্রত চাকমা।
পেশায় একজন শিক্ষক করইল্যাছড়ি গ্রামের বিমলব্রত চাকমা গত তিন বছর ধরে স্ট্রবেরি চাষ করছেন। অনেকটা সখের বশেই স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন তিনি। তবে এখন শিক্ষকতার পাশাপাশি স্ট্রবেরি চাষকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে জানালেন লেমুছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিমলব্রত চাকমা। তিন বছরের ব্যবধানে তার অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে বলে জানালেন গর্বিত এই স্ট্রবেরি চাষী। স্ট্রবেরি চাষ থেকে প্রাপ্ত বাড়তি আয় দিয়ে নিজের দুই ছেলে ছাড়াও আত্মীয়-স্বজনের ছেলে-মেয়েদেরও পড়ালেখায় আর্থিক সহযোগিতা করছেন তিনি।
গত বছর তার পঁচাত্তর শতক জমিতে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কেজি স্ট্রবেরি উত্পাদিত হয়েছে। প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। একসময় ক্রেতা হিসেবে শুধু সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও শিক্ষিত লোকজন থাকলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষও স্ট্রবেরি কিনতে খামারে আসে বলে জানান বিমলের স্ত্রী মুনমুন খীসা।
পঁচাত্তর শতক জমিতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে স্ট্রবেরি চাষ করে আয় হয়েছিল প্রায় পনের লাখ টাকা – এমন তথ্য দিয়ে বিমলব্রত চাকমা জানান, চলতি মৌসুমে তার জমিতে আমেরিকান ফেস্টিবল ও জাপানি রাবি-থ্রি এ দুই জাতের স্ট্রবেরি পাওয়া যাবে।
বিমলব্রত চাকমা জানান, ব্র্যাকের আয়োজনে ২০০৭ সালে কুমিল্লায় শিক্ষকতা পেশার বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের সময় স্ট্রবেরি চাষের উপর একটি লিফলেট বিলি করা হয় তাদের মাঝে। লিফলেটটি সযত্নে রেখে দেন বিমল। পরে ২০১১ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে চারা সংগ্রহ করে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিজেই চারা সরবরাহ করছেন। তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে অনেকেই স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেছেন।








