শ্রীপুরে তালহা স্পিনিং মিলে মালিক-শ্রমিক মুখোমুখি, ফ্যাক্টরী বন্ধ

0
273
Print Friendly, PDF & Email

রানা প্লাজা ধ্বসের এক বছর পর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আই.এল.ও) ও বাংলাদেশ সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ফ্যাক্টরী চালাতে গিয়ে শ্রীপুরের তালহা স্পিনিং মিলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ৪ মে রোববার বিকাল ৩ টা থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নাধীন মুলাইদ গ্রামে অবস্থিত ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন তালহা স্পিনিং মিলে শ্রমিক অসন্তোষ চরম আকার ধারন করে। যে কোন মুহুর্তে ফ্যাক্টরী লে-আউট ঘোষণা হলে ধ্বংসাত্মক হামলা হওয়ার সম্ভাবনায় ফ্যাক্টরীতে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শরীফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, শফিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন জানান, ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানোর জন্য দেড় দু’শ ভাড়াটে স্থানীয় গুন্ডা ফ্যাক্টরীতে দিনব্যাপী মহড়া দিয়েছে। তারা জানায়, পূর্বে আমরা ওভার টাইম সহ ১২ ঘন্টা কাজ করে যে বেতন পেতাম এখন আই.এল.ও’র পরামর্শ ও বায়ারদের নির্দেশনা মোতাবেক ৮ ঘন্টা কাজ করতে গেলে বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন এক তৃতীয়াংশ কমে যাবে। এতে তারা জীবন নির্বাহ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। বেতন কমলেও বাড়ি ভাড়া, চালের দাম সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কমবে না। সুতরাং তারা ১২ ঘন্টা কাজের ফলে যে বেতন পেত সে বেতন না পেলে তাদের কাজে যোগদান করা অসম্ভব। তাদের যৌক্তিক দাবীগুলো মেনে নিয়ে কাজে যোগদানের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য জোর দাবী জানায়।

মালিক পক্ষ থেকে নোমান গ্রুপের জি.এম. কে. আলম জানান, শ্রমিকদের দাবী অযৌক্তিক। সরকারের বিধি মোতাবেক ও আই.এল.ও’র পরামর্শ অনুযায়ী ৮ ঘন্টার বেশি শ্রমিকদের কাজ করানো যাবে না। সুতরাং কাজের অগ্রগতির জন্য দ্বিতীয় শিফট চালু করতে দ্বিগুণ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বায়ারদের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্যাক্টরী চালাতে হবে। কোন শ্রমিক স্বেচ্ছায় চলে গেলে তাদের পাওনা হিসাবকরে বুঝিয়ে দেয়া হবে। বর্তমানে ফ্যাক্টরীটি শ্রমিক অসন্তোষের জন্য বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম আইন বহির্ভূত ভাবে ফ্যাক্টরী চালালে আন্তর্জাতিকভাবে ফ্যাক্টরীকে আই.এল.ও কালো তালিকাভুক্ত করবে বলে তিনি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে জি.এম জানান, ওরা ভাড়াটে গুন্ডা নয়, এলাকাবাসী, ফ্যাক্টরী দুইদিন যাবত বন্ধ তাই দেখার জন্য এসেছে। এদিকে একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ফ্যাক্টরীর ভিতরে আবাসিক শ্রমিকদের ৪ মে রোববার রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হবে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য জল কামান, অতিরিক্ত পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশ, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন