থানায় আর সিভিল টিম নয়

0
104
Print Friendly, PDF & Email

সম্প্রতি সারা দেশে অপহরণ ও গুম আতঙ্ক চলছে। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন জানাল, থানা থেকে সাদা পোশাকের কোনো সিভিল টিম এখন থেকে আর কাজ করবে না। সাদা পোশাকের পুলিশের সুযোগ নিয়ে অপরাধীদের একটি চক্র গুম-অপহরণে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই সিভিল টিম অর্থাৎ ‘সাদা পোশাকের পুলিশ’-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসেছে তারা। আবার কোথাও কোথাও এর প্রমাণও মিলছে যে, কতিপয় সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা অপরাধ করতে গিয়ে জনতার হাতে আটকও হচ্ছেন।

পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার বিধান-পিআরবি (পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল) এবং জনবলের সাংগঠনিক কাঠামো-অর্গানোগ্রামে ‘সিভিল টিম’ বলে কিছু নেই। তারপরও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) তাদের বিশ্বস্ত এসআই ও এএসআইদের নিয়ে সিভিল টিম গঠন করেছিলেন। কিন্তু গুম, অপহরণ, আটক বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশের অভিযান আর নয়। তবে প্রয়োজনে অভিযান চালানোর সময় ঊধর্্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে অভিযানে যেতে পারবে।

পুলিশ সদর দফতরে ক্রাইম কনফারেন্স হওয়ার কথা ত্রৈমাসিক। কিন্তু এবারের ক্রাইম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হলো প্রায় এক বছর পর। সর্বশেষ ক্রাইম কনফারেন্স হয়েছিল ২০১২ সালের শেষ দিকে। গত বছর কনফারেন্স না হওয়ার পেছনে কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন ওই বছর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কারণে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়নি।

গতকাল পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, সারা দেশের কোনো থানায় সিভিল টিম থাকবে না। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা পোশাকে অভিযান চালানো যাবে। তিনি সহিংস ঘটনার জন্য দায়ী জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের নামে করা মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সারা দেশে অপহরণের ঘটনা কমলেও স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি মো. আমির উদ্দিন, এপিবিএন-এর অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মইনুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও সব মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের প্রধান এবং পুলিশ সদর দফতরের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইজি দেশব্যাপী অপহরণের মামলাগুলোর মোটিভ নির্ধারণ এবং প্রতিটি মামলায় ঊধর্্বতন কর্মকর্তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। বলেন, বিগত বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা চরম ধৈর্য ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। অনেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্দত্যাগ করেছেন। তাদের এ মহান আত্দত্যাগ ভবিষ্যতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। হাসান মাহমুদ খন্দকার নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশপ্রধান বলেন, অপরাধী অপরাধীই, কেউ আইনের ঊধের্্ব নয়। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু পাচার, খুন, ছিনতাই, অপহরণ এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক ও সজাগ থাকতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন