অজ্ঞাত আসামির আড়ালে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য

0
332
Print Friendly, PDF & Email

মেহেরপুরে চলছে পুলিশের রমরমা গ্রেফতার বাণিজ্য। এ থেকে বাদ যাচ্ছেন না কনস্টেবল থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত কেউই। এ বাণিজ্যর অন্তরালে রয়েছে বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞতনামা আসামি। পুলিশের করা ২৪ মামলা বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে বলা হলেও গ্রেফতার করা হচ্ছে নিরীহ মানুষ। মেহেরপুরে ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতা ঘিরে এসব মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৬ জনকে। এর মধ্যে ৮৫৩ জন এজাহারভুক্ত আসামি, বাকিরা অজ্ঞাতনামা।

জানা গেছে, এসব মামলায় গ্রেফতার অভিযান অব্যহত থাকায় জেলার ১৮টি ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী পলাতক। এ সুযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুলিশের সঙ্গে আটকদের অর্থ বাণিজ্যে দফারফা হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যথায় নির্যাতন করে চালান দেওয়া হয় হাজতে। আটকরা আদালত থেকে জামিন পেলেও জেলগেট থেকে তাদের পুনরায় পুলিশ তুলে নিয়ে অন্য মামলায় চালান দিচ্ছে। মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন বলেন, ‘আমরা এখন ক্রস ফায়ারের আসামি। আমাদের চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে ভালো বলতে পারবেন। এ গণগ্রেফতারের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই।’ মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. মারুফ হোসেন বিজন জানান, মেহেরপুরে এখন ফ্রি স্টাইলে আটক বাণিজ্য চলছে। পুলিশ নিরীহ লোকদের আটক করে অর্থ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে পাঠানো হচ্ছে হাজতে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের ঊধর্্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর মেহেরপুর পুলিশ সুপার নাহিদুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবির ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করে। এর মধ্যে পুলিশ সুপার নাহিদুলের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। এ ছাড়া অভিযোগপত্রের এক চতুর্থাংশ জুড়ে মেহেরপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপিসহ দাগি আসামি ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে। মেহেরপুর পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ। সম্প্রতি পুলিশ সুপার নাহিদুল ইসলামের গুলি করার ফুটেজ ও ছবি ধারণের অভিযোগে চ্যানেল আইয়ের গোলাম মোস্তফা ও মোহনা টিভির আবু আক্তারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়। জব্দ করা হয় তাদের ক্যামেরা, ক্যামেরার ফিতা ও কম্পিউটার।

শেয়ার করুন