আতঙ্ক-গুম-অপহরণ, টিকফা ও স্থিতিশীল রাজনীতি

0
156
Print Friendly, PDF & Email

ড. শহীদ ইকবাল
লেখাটির তিনটি অংশ। সামপ্রতিক সময়ের গুম-অপহরণ নিয়ে জনমনে পর্বতপ্রমাণ আতঙ্ক, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) প্রথম বৈঠক এবং এদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে জার্মান সংসদীয় দলের উদ্বেগ— যার সঙ্গে স্থিতিশীল রাজনীতির প্রসঙ্গটি এসেছে। গরমে পুড়ছে যখন দেশ তখন এ বিষয়গুলো মানুষের মনে এক ধরনের বাড়তি উত্তাপের যোগান দিচ্ছে। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ। বিভিন্ন আয়ের মানুষ এ আতঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ হয়ে উঠেছে এ আতঙ্কের অকুস্থল। অবশ্য নারায়ণগঞ্জ শহরের বাইরেও যে গুম-অপহরণ হচ্ছে না— তা নয়, গোটা দেশই আতঙ্ক-জ্বরে ভুগছে। এর নেপথ্য কারণ কী? যেভাবেই হোক আমাদের সমাজ এখন অনেকাংশে ভোগবাদী সমাজ। ব্যবসা-বাণিজ্য আছে এবং থাকবে কিন্তু চোরাচালান, কালো টাকা, পাচার বিজনেস এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। যার এক্সটেনশন বলে মনে হয় এই গুম-অপহরণ। অধিকাংশ গুম-অপহরণের কারণ মুক্তিপণ দাবি কিংবা প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের মানসিকতা। বেশ ক’বছর আগে চট্টগ্রামে জামালউদ্দিন অপহরণের কথা আমাদের মনে আছে। ব্যবসায়ী জামালউদ্দিনের জানাজায় চিহ্নিত প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে গিয়েছিল স্বজনদের অনেকেই। কিন্তু তখন এ নিয়ে তত্কালীন সরকারের উচ্চ মহল পর্যন্ত কেউ কিছুই বলেনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে অনেক গুম-অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সমপ্রতি তার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ও তার সহযোগিদের হত্যা মর্মান্তিক, নৃশংস। খুনীরা হত্যাকাণ্ড নিশ্ছিদ্র করার জন্য আইনজীবী বা তার নিরপরাধ ড্রাইভারকেও ছাড়েনি। এ নৃশংসতার ভেতরেও অপহরণকারী চক্র থেমে নেই। নজরুলের লাশ দাফন হওয়ার আগেই একই এলাকায় ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যদিও র্যাব তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে সাভারের স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে। এটি নিশ্চিত যে, অপহরণকারীরা পেশাদার এবং তাদের পেছনে আছে সন্ত্রাস তোষণকারী বড় মাফিয়া সিন্ডিকেট। এদের কোনো দল নেই। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তারা কাজ করছে। অর্থ ও পেশীশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের গতিবিধি। আবু বকর অপহরণের পর অপহরণকারীরা জানিয়েছিল ‘তোমারে নিয়া তো দ্যাশে তোলপাড় হইয়া গেছে।’ অনেকটা চাপের মুখেই তিনি ছাড়া পান। এসব দৃষ্টান্ত অপহরণকারীদের স্বভাব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে একপ্রকার ধারণা পাওয়া যায়। গোটা সমাজের এ আতঙ্ক নিরসনে সরকার বা তার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। সেজন্য বিভিন্ন সময় তারা উদ্ধারও পাচ্ছে, ছাড়াও পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাদা পোশাক ব্যবহার না করা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্তে এসেছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রযুক্তিগত কলাকৌশলও হালনাগাদ করেছে। কিন্তু সার্বিক ব্যবস্থার কাছে অপহরণকারীরা দুর্বল না হওয়ার কারণ মুখ্যত পেশীশক্তি। যার পেছনে কাজ করছে অশুভ ক্ষমতা ও কালো অর্থ। অবশ্যই এ পেশীশক্তির চেয়ে রাষ্ট্র বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল নয়। সেজন্য সময়োপযোগী পরিবেশ ও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কর্পোরেট সমাজে অর্থের সমপ্রসারণ ঘটেছে নানাভাবে। তাতে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ব্যাপকভাবে ঘটেছে বিপর্যয়। এ পর্যায়ে নির্ধারিত কোনো ব্যবস্থায় এর লাগাম টেনে ধরা সহজ নয়। এজন্য সামগ্রিক জনমত ও সামষ্টিক ঐক্য দরকার। স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। চতুর্মুখী প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক দলগুলোও কাজ করতে পারে। পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যে না গিয়ে সন্ত্রাস, অপহরণ ও নীতিহীন পেশীশক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এই সম্মিলিত ঐক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিশানা। যা অশুভ শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। আর এতে করে একপ্রকার আস্থা ও স্থিতিশীলতার পরিবেশও তৈরি হবে। এটা নিশ্চিত যে, সম্মিলিত প্রতিরোধই মাসলম্যানদের দুর্বল করতে পারে। তাদের মানসিক শক্তিকে অসহায় করে তুলতে পারে। আতঙ্কের জনপদে গড়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এ ঐক্যই হতে পারে সম্মিলিত প্রতিরোধ। সকলকে এক হয়ে মোকাবিলা করতে হবে এদের। এক্ষুণি সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং তাতে অনেক বিষয়ই নিষ্পত্তির পথ পেতে পারে। আতঙ্কের জনপদে ফিরে আসতে পারে শান্তি ও স্থির জীবনের নিশ্চয়তা।

২. দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সমপ্রসারণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বছরের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ টিকফা (Trade and Investment Co-operation Forum Agreement) নামে একটি চুক্তি করে। পরে গত মাসের ২৮ তারিখ এর প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে। সে লক্ষ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষই। টিকফায় আমাদের স্বার্থগত দিক হচ্ছে স্থগিত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ বাজার-সুবিধা (Generalized System of Preferences) জিএসপি ফিরে পাওয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে কাজও করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টিতে শুল্ক সুবিধা আদায় ও কোটামুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী কী উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছে, তার আপটুডেট কী সেটা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করেছে। কিন্তু শ্রমিক অধিকার, কারখানার কাজের পরিবেশ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান— এসব বিষয়ে সতর্ক হওয়াটা অবশ্যই বাইরের আদেশ-নির্দেশের চেয়ে আমাদের জন্যই বিশেষ জরুরি। সে কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন আমরা চাই। এক্ষেত্রে মালিক স্বার্থটি ক্ষুণ্ন হওয়ারও কোনো ব্যাপার নেই। রানা প্লাজা সরকারকে শুধু নয় সর্বস্তরের মানুষকেই দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এক্ষেত্রে সকল পক্ষের সচেতনতা জরুরি। ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধি দল পোশাক শিল্পের পরিবেশ উন্নয়নে ও বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে তাদের যে উদ্বেগ— তা হয়তো শীঘ্রই এদেশ কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার ও শুল্ক হরাসের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অজুহাত খাড়া করছে তা কতোটা যুক্তিযুক্ত! সার্বিক ব্যাপারটি আমাদের কাছে ধোঁয়াশা। সরকারের পদক্ষেপ আমরা হতাশাব্যঞ্জক বলছি না। কারণ, টিকফার প্রথম বৈঠকেই সবকিছু আদায় সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু প্রাপ্তির সম্ভাবনা তো থাকবে! শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের অবস্থা পরিষ্কার, সরকারের কাছেও তা স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ, মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারণে দেশ বড় বাজার হারাক তা কেউই চাইবে না। সরকার যেহেতু জনগণের এবং সে মাফিক সরকার দৃঢ় ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মুষ্টিমেয় ব্যক্তির স্বার্থকে অবশ্যই সরকার তোষণ করবে না। কারণ, সামষ্টিক স্বার্থ বিপন্ন হলে ঝুলে যাবে আমাদের বিদেশি বাজারের আস্থা— যা অর্জন করতে হয়েছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। এক্ষেত্রে মালিকপক্ষও ইতিমধ্যে শ্রমিক নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। সরকার নিশ্চয়ই জিএসপি সুবিধার ব্যাপারে প্রকৃত ও সঠিক সিদ্ধান্তটি নেবে। এক্ষেত্রে ১৬ দফার শর্তপূরণ পরিকল্পনাটির অগ্রগতি নিশ্চয়ই ইতিবাচক।

৩. সমপ্রতি জার্মান সংসদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার এ মুহূর্তটির প্রশংসাও করেছে। জার্মান প্রতিনিধি দলের মন্তব্য, একটি দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল আবশ্যক। এজন্য ফলপ্রসূ সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার প্রয়োজনের কথা বলেছেন। প্রসঙ্গত, এখানে উপরের অংশে দুটোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিস্তা সমস্যা নিরসনে ও টিকফা তথা জিএসপি সুবিধা বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা খারাপ নয়। আস্থার সঙ্গে এবং কূটনৈতিক দক্ষতার ভেতর দিয়ে সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে বিদেশি আরও অনেক প্রতিনিধি দেশের চলমান স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেছে। জার্মান সংসদীয় দলটিও সে ধারা অস্বীকার করে নতুন কিছু বলেনি। বাংলাদেশের সামষ্টিক স্বার্থটির প্রতি তারা অধিক জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে তারা ক্রেতা হিসেবেও মত দিয়েছে। ক্রেতা, সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রত্যেকেরই দায়িত্ব আছে, ১৬ দফার শর্তপূরণে আরও অগ্রগতি তারা প্রত্যাশাই শুধু করছে না কার্যকর পদক্ষেপটিও দেখতে চাইছে। তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিটি সাংবিধানিকভাবে বাতিলের বিষয়টি উল্লেখপূর্বক তারা বলেছেন, এটি এদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। জনগণই সামনের দিনে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে যথোচিত সিদ্ধান্ত নেবে।

এখন সে বিষয়টি এখানে অবতারণার কারণ তা হলো— স্থিতিশীল রাজনীতি প্রসঙ্গে এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কতোটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে— তার উত্তর অনুসন্ধান। সাংবিধানিকভাবে দেশে এখন একটি স্থিতিশীল সরকার আছে। এ সরকার আস্থার নাকি অনাস্থার সে প্রশ্নটি আপাতত নির্বাচন-উত্তর নতুন কর্মপরিকল্পনার ভেতরে রাখা যাক। এখনে বলা যায়, সরকারে এই ১০০ দিনের বেশি সময়ের কার্যকালে দেশের জনগণ একটি স্বাভাবিক জীবন-যাপনের মধ্যে প্রবেশ করেছে। সরকারের কর্মপরিচালনার ভেতরে জনগণ নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা সরকারের সমালোচনা করতে পারে, গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারে। তিস্তা চুক্তি কিংবা টিকফা বিষয়ে তাদের বক্তব্য কী? এ বিষয়ে তারা সরকারের সমান্তরাল শক্তি হিসেবে কী করতে পারে। শুধু তিস্তা নয় ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীসমূহের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা কী? অতীতে তারা কী করেছে! জিএসপি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে তারা কী করতে পারে। নিশ্চয়ই শ্রম নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য অধিক হবার কথা নয়। সে উপায়ও নেই। তবে এসব বিষয় নিয়ে তারা বিদেশিদের নিকট উচ্চকণ্ঠ নন কেন! স্থিতিশীলতার পরিবেশ তো একপাক্ষিক ব্যাপার নয়। এক্ষেত্রে দু’পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেশের উন্নয়নে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বড় দলগুলো কাজ করতে পারে, অভিন্ন বিষয়ের সমাধানে এগিয়ে এলে সমস্যার সুরাহা যেমন হতে পারে তেমনি ফিরে আসতে পারে রাজনৈতিক পরিবেশ ও সমঝোতার পথ। বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশ নিয়ে কর্মপরিকল্পনার অংশটি তারা নানা ফোরামে আলোচনা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র টিকফার প্রথম বৈঠকেই যথেষ্ট অগ্রগতির কথা বলেছে কিন্তু উদ্বেগও পরিহার করেনি। কিন্তু প্রশ্ন বা সমাধানের পথ শুধুই কী সরকারের একার? এ নিয়ে সরকার একাই লড়ছে কেন? অধিকারের প্রশ্নে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আমরা কেন এক সুরে কথা বলতে পারি না! বরং বিপরীতে বিষোদগার নিয়ে কেন ব্যস্ত আছি। শুল্ক সুবিধার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন বরাবরই নানারকম টালবাহানা করছে তখন কেন সম্মিলিত শক্তিতে আমরা ন্যায্য দাবিটুকু আদায় করতে পারছি না। যেখানে হাইতি বা পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশও শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে তখন বাংলাদেশ কেন নয়? প্রশ্নটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা করতেই পারে! কিন্তু তা হয় না। বরং কীভাবে ব্যর্থ হতে পারে সে সুখটুকু তারা পেতে চায়। একইভাবে তিস্তার তাত্ক্ষণিক পানিপ্রবাহ নিয়েও যে রাজনীতি তারা করেছে তা কী দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহনশীলতার দৃষ্টান্ত? বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বড় দলের ইতিবাচক অংশগ্রহণ থাকলে অনেক সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। স্থিতিশীলতা তো সোনার পাথর বাটি নয়, এর জন্য আন্তরিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশপ্রেমের ভেতর দিয়ে কাজ করার মানসিকতা চাই। নইলে অস্থিতিশীলতা ও উদ্বিগ্নতা বেড়েই চলবে। আর আমাদের সম্ভাবনাগুলোও তিমিরে তলিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। রাজনীতি যদি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে আমরা এর বাইরে কী করতে পারি? বিদেশের কর্তাব্যক্তিরা তো এসবেরই সুযোগ নিচ্ছেন।

লেখক:অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন