৫ মে হেফাজতের কর্মসূচি, সতর্ক প্রশাসন

0
129
Print Friendly, PDF & Email

৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে দেশজুড়ে নাশকতা চালাতে হেফাজতে ইসলামকে জামায়াত-শিবির ইন্ধন দিচ্ছে বলে গোপন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলাম তাদের ফাঁদে পা না দিলে হেফাজতের ব্যানারে শিবিরের নাশকতা চালানোর আশংকা রয়েছে। আর এ নাশকতা প্রতিরোধে চট্টগ্রামের মাদ্রাসাগুলোর নজরদারী বাড়িয়েছে তারা। তবে, হেফাজত নেতারা দাবি করছেন, তারা কারো ইন্ধনে প্ররোচিত হবেন না।

বিগত ২০১০ সাল থেকেই দেশের রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো চট্টগ্রামভিত্তিক ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কখনো প্রস্তাবিত নারী নীতির প্রতিবাদ, আবারো কখনো ১৩ দফা দাবি। এসব নিয়ে পুরো দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে তারা। সবশেষ গত বছরের ৫ মে ১৩ দফা দাবি আদায়ের জন্য ঢাকার শাপলা চত্বরে স্থায়ী অবস্থান নিতে গিয়ে হেফাজত নেতা-কর্মীরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আর এ দিনটিকে সামনে রেখে নাশকতা সৃষ্টির গোপন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘যে সমস্ত দল বা সংস্থা তাদেরকে ব্যবহার করেছিল আজকের দিনটিকে কেন্দ্র করে তারা আবার মাঠে নামতে পারে বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে।’
সিএমপি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা), বাবুল আকতার বলেন, ‘সরাসরি বা অন্তরালে থেকে তারা হেফাজতকে ব্যবহার করে তারা একটি অরাজক বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।’

গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের অধীন মাদ্রাসগুলোর ওপর নজরদারী শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। সে সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে পুলিশ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনাও করেছেন বলে জানান পুলিশের এ দু’কর্মকর্তা।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমরা মাদ্রাসাগুলোর অধ্যক্ষমহোদয়দের সাথে যোগাযোগ রাখছি, যাঁরা আমাদের পূর্বেও সহায়তা করেছেন, মাদ্রাসার নতুন কোন লোক আসলে তাঁরা আমাদের আগেই জানিয়ে দেবেন।’

সিএমপি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা), বাবুল আকতার বলেন, ‘হেফাজত সমর্থিত মাদ্রাসাগুলোর প্রতি আমরা বিশেষ নজর রাখছি।’

তবে হেফাজতের মুখপাত্র দাবি করেন, কারো ইন্ধনে হেফাজতে ইসলাম প্ররোচিত হবেনা। শুধুমাত্র ৫ মে দেশব্যাপী তারা দোয়া দিবস পালন করবে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক, আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘শুধুমাত্র ৫ মে ঘটনায় আহত ও নিহতদের স্বরণে আমরা দেশব্যাপী দোয়া দিবস পালন করবো। আমি আশারাখি কোন রকম সহিংসতা হেফাজতের পক্ষথেকে হবে না।’

ঢাকার শাপলা চত্বরের ঘটনায় দু’দিনে সরকারিভাবে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আর বিভিন্ন থানায় ৪০টির বেশি মামলা হয়।

শেয়ার করুন