জ্ঞানপিপাসু মানুষ গড়ার কাজ করছে বগুড়ার মুসা পাঠাগার

0
100
Print Friendly, PDF & Email

নেশামুক্ত বইপ্রেমী যুবসমাজ প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধের চিন্তাচেতনা থেকে বগুড়ার কাহালুর শেখাহারে সাহিত্যানুরাগী ও ঔপন্যাসিক সিরাজুল হক মন্টু ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন ডা. মুসা পাঠাগার। ১৯৯৪ সালে বগুড়া-নওগাঁ সড়কের শেখাহার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে এ পাঠাগারটি স্থাপিত হয়। সেই থেকে এটি জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে কাহালুর শেখাহারসহ আশপাশের জ্ঞানপিপাসু মানুষদের। এর মাঝেই ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি এটি রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বেকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা পত্রিকা, উপন্যাস, কবিতা ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়তে পাঠাগারটিতে আসেন। শুধু তাই নয়, আসে ছোটরাও। বইপ্রেমী ছাত্র কাগজ আহম্মেদ বিনা বেতনে পাঠাগারে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন শহীদুল ইসলাম। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মন্টু নিজে একজন চাকরিজীবী। তিনি বর্তমানে কাহালু উপজেলা পরিষদের অফিস সুপার পদে কর্মরত। কিন্তু মজার বিষয়, তিনি পাঠাগারটির নামকরণ করেছেন এলাকার কৃতী সন্তান ডা. মুসার নামে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে
অনেকেই যখন শুধু নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে সিরাজুল হক মন্টু বন্ধুর নামে দেওয়া মুসা পাঠাগারটির পেছনে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিমাসে এ পাঠাগারের পেছনে তার প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। বর্তমানে এ পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা ১৩০০। বই পড়া সদস্য সংখ্যা ১৫০। পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১১-১২ অর্থবছরে এক লাখ টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছিল। এ টাকায় পাঠাগারের কিছুটা সংস্কারের জন্য ব্যয় এবং বাকি টাকা দিয়ে বই কেনা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় পাঠাগারে গিয়ে দেখা যায় কেউ পত্রিকা পড়ছে, কেউবা বই পড়ায় মগ্ন। আবার অনেকে চাহিদার বইটি খুঁজছে। সেখানে বসে কথা হয় প্রবীণ পাঠক আইয়ুব আলী ও হাজী শাহজাহান আলীর সঙ্গে। তারা বলেন, সমাজের জন্য ভাবার লোক বর্তমানে খুবই কম। এরপরও বইয়ের মাধ্যমে মন্টু ভাই যে সেবা করছেন তা বিরল। সরকারি আযিযুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্সের ছাত্র হেলাল ও আসাদুল বলেন, কলেজ থেকে বাড়ি ফিরেই এ পাঠাগারে আসি। বিভিন্ন ধরনের বই পড়ি। খুব ভালো লাগে। এ ব্যাপারে মুসা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দুপচাঁচিয়া লেখক সংঘের সভাপতি সিরাজুল হক মন্টু বলেন, আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে এ পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটিকে আগামীতে ডিজিটাল পাঠাগারে পরিণত করার চেষ্টায় আছি। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন