সাতক্ষীরায় জামায়াতকর্মীকে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে আ’লীগ সন্ত্রাসীরা

0
334
Print Friendly, PDF & Email

যা খাওয়ার খেয়ে নে, কাল তোর জানাযা ও দাফন হবে। তুই জামায়াত করিস, তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। এমনই হুঙ্কার দিয়ে আর পৈচাশিকভাবে পিটিয়ে আওয়ামী ক্যাডাররা হত্যা করেছে জামায়াতকর্মী আকতার হোসেন আকুকে (৪৬)। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিসের মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ব্যবসার টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায় ক্যাডাররা। পরে তারা পুলিশের কাছে ফোন করে জানায় গণপিটুনিতে এক জামায়াতকর্মী মারা গেছে। তার লাশ নিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে রাখে। পরে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করতে চাইলে তারা ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। পুলিশ নিরুপায় হয়ে বিকালে লাশের ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এলাকাবাসী জানায়, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফজলে রহমানের ছেলে আকতার হোসেন একজন ভাজা ও ঠোঙা বিক্রেতা। শুক্রবার আছরের নামাযের পর কুলিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঠোঙা বিক্রির টাকা ও ঠোঙা সাপ্লাই দেয়ার জন্য সে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ডেল্টা ফিস কোম্পানীর মোড়ে যায়। কাজ শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি’র বাড়ির মসজিদে মাগরিবের নামায পড়েন। নামায শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার শহীদুল্লাহ গাজীর নেতৃত্ব ৮/১০ জন নেতাকর্মী তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তার কাছে জিজ্ঞাসা করে তুই জামায়াত করিস। সে প্রশ্নের জবাব না দিলে তাকে মুখ ধরে ও চোখ বেঁধে মোটর সাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে “যা খাওয়ার খেয়ে নে, কাল তোর জানাযা ও দাফন হবে। তুই জামায়াত করিস, তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই” বলেছে আর পিটিয়েছে। পরে সে মারা গেলে রাতে তার লাশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং মিডিয়াকর্মীদের ফোন করে জানায়, আকতার হোসেন নামের এক জামায়াত কর্মীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা ছবি নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহীদুল্লাহ গাজী, রাশিদুল ও সুমন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকতার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে। শহীদুল্লাহ পুলিশকে জানিয়েছে, যেখানে জামায়াত-শিবির পাবো সেখানেই পিটিয়ে হত্যা করবো। কোনো মামলা, অভিযোগ কিছুই হবে না। নিহত আকতার হোসেন চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে চতুর্থ। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সে। তার নিহতের খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, রাত ১১টার দিকে উপজেলার ডেল্টার মোড়ে আক্তার হোসেনকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় আক্তারকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক, সেক্রেটারি শেখ নূরুল হুদা, দেবহাটা উপজেলা আমীর আসাদুজ্জামান মুকুল এবং সেক্রেটারি ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ সরদার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গতরাতে আওয়ামী সন্ত্রাসী উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাগ্নে রায়হান, তার গাড়িচালক ময়না এবং সুমনসহ একদল আওয়ামী কর্মী জামায়াত কর্মী আকতার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করে লুট করে নগদ ৪৫,০০০/= টাকা, মোবাইল ফোন এবং মোটর সাইকেল। আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক পিটিয়ে জামায়াতকর্মী হত্যার মাধ্যমে এক বর্বর, ন্যাক্কারজনক ইতিহাসের সূচনা করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত রাতে আওয়ামী লীগের কর্মী, দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাগ্নে রায়হান, গাড়ীচালক ময়না এবং সুমনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেবহাটার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের মৃত ফজলে রহমানের পুত্র জামায়াত কর্মী আক্তার হোসেনের ৪৫,০০০/= টাকা, একটি মোবাইল এবং তার মোটর সাইকেল লুট করে। এরপর তারা তাকে ডেল্টা ফিসের পাশে এনে বেধম মারপিট করে এক পর্যয়ে মৃতপ্রায় আকতার হোসেনকে আওয়ামী লীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী শহিদুল্লাহ গাজীর নিকট হস্তান্তর করে। শহিদুল্লাহ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আকতার হোসেনকে পিটাতে পিটাতে মেরে ফেলে এবং তারা মৃত আক্তারের লাশ দেবহাটা থানায় পাঠিয়ে দেয়। আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক জামায়াতকর্মী পিটিয়ে হত্যার তারা তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে আকতার হোসেনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে গত পহেলা মে ভোরে দেবহাটা উপজেলার সুশিলগাতি এলাকায় পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ফারুক হোসেন (৪৭) গুলীবিদ্ধ হয়। তাকে চোখ বেঁধে পুলিশ তার পায়ে গুলী করে মিডিয়া কর্মীদের ফোন দিয়ে বলেন, জামায়াত-শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী গুলীবিদ্ধ হয়েছে। পরে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিনিয়তই পুলিশ এ রকম ঘটনা ঘটিয়ে একই রকম নাটক সাজিয়ে মিডিয়াতে প্রচার করেছে।

শেয়ার করুন