দুলাভাইয়ের যৌন নির্যাতনের শালিকার মৃত্যু

0
319
Print Friendly, PDF & Email

ষোড়সী শালিকাকে বাগান বাড়িতে কয়েকদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে একাধিকবার পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই তরুনী অসুস্থ্য হলে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসায় সুস্থ্য না হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। অবশেষে সব কিছুই জায়েজ করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি না নিয়েই তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এসময় পুলিশ খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌছে নিহত তরুনীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র এবং পুলিশ জানিয়েছেন, নিহত তরুনী ৬ মাসের অন্তস্বত্তা ছিল এবং তার উপর পাশবিক নির্যাতনের আলামত পাওয়াগেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জেলার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ এর ষোড়সী কন্যা দেবহাটার কুলিয়া গ্রামের আসাদুল চেয়ারম্যানের ছেলে দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন শাওন এর বাড়িতে থাকতো। সেখানে শাওনের বন্ধু কুলিয়া গ্রামের মাওলা বক্স গাজীর ছেলে তুহিন ও আবু তালেব এর ছেলে আরিফ প্রতি নিয়তই কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি দোলাভাই শাওনকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি। এক পর্যায়ে শাওনের সম্মতিতেই তারই শালিকাকে তিন বন্ধূ মিলে ব্যবহার করতো। অভিযোগ রয়েছে দিনের পর দিন এভাবেই ব্যবহার করায় ষোড়সী কন্যা অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে বিষয়টি তাদেরকে জানানোর পর গর্ভপাত ঘটানোর প্রতিশ্র“তি দিয়ে শাওনের বাগানবাড়িতে নিয়ে যায় ষোড়সীকে। সেখানে কয়েকদিন আটকে রেখে বেপরোয়া পাশবিক নির্যাতন করা হয়। এঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ষোড়সী। গত বুধবার বিকেল থেকে চেয়ারম্যান আসাদুলের আপন ভগ্নিপতি স্থানীয় সবুর ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। এতে ষোড়সী কন্যা পর্যায় ক্রমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবশেষে রুগীর অবস্থা বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনার পথে রুগির মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতারের চিকিৎসক মৃত রুগী ভর্তি না করেই ফেরত পাঠান। অবস্থা বুঝে ময়না তদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে অতি গোপনে লাশ নিয়ে ধর্ষক দোলাভাই শাওন ও তার দুই বন্ধু তুহিন, আরিফ মিলে লাশ পাঠিয়ে দেন সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামে শ্বশুর আব্দুল মজিদের বাড়িতে। কাউকে কিছুই না জানিয়ে গতকাল দুপুরে দাফনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের এএসপি মনিরুজ্জামানসহ সঙ্গীয় ফোর্স সেখানে পৌছে ময়না তদন্তের লক্ষ্যে লাশ সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে। সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি তদন্ত শেখ নাসির উদ্দীন কর্তব্যরত ডাক্তারদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত ষোড়সী কন্যার পেটে ৬ মাসের বাচ্চা ছিল। একই সাথে তার উপর শারিরিক নির্যাতন হয়েছে বলে জানান। এবিষয়ে সদর হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র স্বীকার করে বলেছেন আজ শনিবার রিপোর্ট দেয়া হবে। এদিকে সর্বশেষ খবর রাত ৮ টায় জানাগেছে, ধর্ষক দোলাভাই দেলোয়ার হোসেনের মা দেবহাটা উপজেলা মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীনকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।

শেয়ার করুন