এবার হ্যাকিং ঝুঁকিতে জাহাজ শিল্প খাত

0
228
Print Friendly, PDF & Email

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও প্রযুক্তি কোম্পানির পর হ্যাকারদের লক্ষ্য এখন জাহাজ শিল্প খাত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড৭-এর জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী মূল্যবান পণ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজে নিয়োজিত জাহাজের ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপকভাবে। র্যাপিড৭-এর জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্সে এ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। খবর এনডিটিভির।

বর্তমানে ব্যবসা খাত থেকে শুরু করে তথ্য আদান-প্রদানসহ নানামুখী যোগাযোগ রক্ষার জন্য সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে ইন্টারনেট। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা হামলা চালাচ্ছে সমুদ্রপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজে। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই হ্যাকাররা জাহাজের পণ্য ছিনিয়ে নিচ্ছে বা জিম্মি করে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। জাহাজে সাইবার হামলার জন্য হ্যাকাররা প্রথমে সংশ্লিষ্ট জাহাজের দিকনির্দেশনামূলক কম্পিউটারে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার প্রবেশ করায়। এতে জাহাজের ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যায়। যার কারণে দিকনির্দেশনা ঠিক করতে পারেন না আক্রান্ত জাহাজের নাবিকরা। ফলে হ্যাকাররা তাদের ভুল নির্দেশনায় নিয়ে যায়। এরপর জিম্মি করে মুক্তিপণ বা জাহাজের মালপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। বিশ্বব্যাপী শতকরা ৯০ ভাগ পণ্যই সরবরাহ করা হয় সমুদ্রপথে।

এদিকে জাহাজ শিল্প খাতে সাইবার হামলার দিক থেকে সোমালিয়ার হ্যাকাররা সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলে র্যাপিড৭-এর জরিপের ফলাফলে উল্লেখ করা হয়। দেখা যায়, বেশির ভাগ জাহাজেই দেশটির সাইবার অপরাধীরা সোমালিয়ার জলদস্যুদের সঙ্গে মিলে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এর কারণে ২০১৮ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহ কাজে নিয়োজিত জাহাজের নিরাপত্তাজনিত ব্যয় দাঁড়াবে ১৯০ কোটি ডলার। এদিকে যুক্তরাজ্যের তেল ও গ্যাস খাতকে সাইবার হামলার থেকে মুক্ত রাখার জন্য এরই মধ্যে প্রতি বছর গড়ে মোট ৬৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মারিটাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ পরিচালনায় নাবিকেরা মূলত তিন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। এগুলো হচ্ছে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস), মেরিন অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) এবং ডিজিটাল নটিক্যাল চার্ট দেখার জন্য বিশেষ একটি পদ্ধতি ইলেকট্রোনি চার্ট ডিসপ্লে অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ইসিডিআইএস)। কিন্তু এ তিন ক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলে মারিটাইমের জরিপে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে র্যাপিড৭-এর জরিপ দেখা যায়, তেল ও গ্যাস খাতের পর্যবেক্ষণে ব্যবহূত মোট এক লাখ ডিভাইস ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত। এসব ডিভাইসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। কিন্তু বর্তমান জাহাজ শিল্প খাতকে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে তেল ও গ্যাস পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলোর পাশাপাশি জাহাজের দিকনির্দেশনায় ব্যবহূত যন্ত্রাংশের নিরাপত্তার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলে জানান র্যাপিড৭-এর জরিপ দলের প্রধান মার্ক স্কোলোজার।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন জাহাজের নাবিকরা সোমালিয়া অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় এআইএস সিস্টেম বন্ধ রাখেন, যাতে সোমালিও হ্যাকাররা জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা না পায়। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে উল্লেখ করেন সাইবারকিল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা লার্স জেনসেন। আর এ সমস্যার সমাধানের জন্য জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

সম্প্রতি আঘাত হানা হার্টব্লিড বাগ ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী ছোট-বড় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো নির্ধারণই করতে পারেনি যে তাদের সাইবার ব্যবস্থা হার্টব্লিড বাগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জাহাজ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত।

শেয়ার করুন