বাবলুকে মহাসচিব করে স্বস্তিতে এরশাদ

0
200
Print Friendly, PDF & Email

জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করার পর থেকে বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পার্টির নেতারা বলছেন, সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তি বাবলুকে মহাসচিব করার পর থেকে এরশাদ এখন নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন। বর্তমানে এরশাদ তার ছেলেকে নিয়ে কক্সবাজারে সময় কাটাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদে রদবদল করা হয়। পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা মোতাবেক এক আদেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করা হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর ছিলেন। আর জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সরকার ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে।

সরকারের চাপে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করা হয়েছে বলে সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠে। আর পার্টির চেয়ারম্যান বরাবরই বলেছেন, দলকে গতিশীল করতে মহাসচিব রদবদল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাকে ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে সরকার কব্জায় নিয়েছে এরশাদকে। ইচ্ছা থাকলেও তিনি সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। গত সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে সিএমইচ হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে সরকারি দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে আসছিল। মাঝেমধ্যে সরকার বিরোধী বক্তব্য আর অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে তার উপর থেকে সরকারের সুদৃষ্টি সরে যায়। যে কারণে ২০০৮ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একবার মামলা হয়েছিল। শিক্ষাগত যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে ওই মামলাটি হয়েছিল। এরশাদের বিশেষ অনুরোধে ওই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এবার আবারো সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুদক অবৈধ সম্পদের তদন্ত করছে।

সরকারের চাপে তুলনামূলক ভাল অবস্থানে থাকা ও রওশন এরশাদের আস্থাভাজন জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করা হয়েছে । সরকারের সাথে সম্পর্ক খুব একটা ভালো না থাকায় রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় চাইলেই চেয়ারম্যান কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। যে কারণে এরশাদের বিপক্ষে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কিছুদিন জাতীয় পার্টি ফের বিভক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন দলের নেতারা।

কিছুদিন আগে এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে সরে দাঁড়ানো কাজী জাফর সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম শীর্ষ নিউজকে বলেন, অবশ্যই সরকারের চাপে বাবলুকে মহাসচিব করা হয়েছে। এরশাদ নিজে সরকারের রাহুগ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জিয়া উদ্দিন বাবলুকে মহাসচিব করে বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন এরশাদ। তিনি এখন কক্সবাজার ভ্রমণে ব্যস্ত। এটাই প্রমাণ করে তিনি কতটা স্বস্তিতে রয়েছেন।

এরশাদ সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘কারো চাপে নয় বরং চেয়ারম্যানের ইচ্ছানুযায়ী দলের মহাসচিব পরিবর্তন করা হয়েছে।’

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় শীর্ষ নিউজকে বলেন, কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়; চেয়ারম্যান স্যার কক্সবাজারে বেড়াতে গেছেন। ছেলে এরিখের স্কুল ছুটি থাকায় তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। মঙ্গলবার তিনি ঢাকা থেকে কক্সবাজার গেছেন। শনিবার ঢাকায় ফিরবেন।

আর এ বিষয়ে মোবাইলে রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন