দেশে চলমান গুম ও অপহরণের ঘটনা সরকারের জন্য লজ্জাজনক। সরকার এখন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অপহরণ ও গুম ইস্যুতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এসব কথা বলেন। বিশিষ্ট আইনজীবী মইনুল হোসেন বলেন, একটি সরকার নির্বাচিত হোক কিংবা অনির্বাচিত- জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার প্রাথমিক কাজ। কিন্তু বর্তমানে দেশে অসুস্থ রাজনীতি চলছে, যে কারণে গুম, হত্যা ও অপহরণের মতো ঘটনাগুলো একের পর এক সংঘটিত হচ্ছে। সরকার বিচার বিভাগ ছাড়া অন্যসব প্রতিষ্ঠানকে অচল করে রেখেছে। দেশে এখন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই। তবে আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব আছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড় বড় কমিশনের আশায় পুল, সেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি নিয়েই ব্যস্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছাত্র রাজনীতির নামে তরুণ শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি দুর্নীতির প্রসারের কারণেই অপরাধের প্রসার ঘটছে। সরকার দেশ থেকে অপরাধ দূর করার ঘোষণা দিলেও বর্তমানে পুরো দেশকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র’ করে তুলেছে। রাষ্ট্র পরিচালনামূলক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকার পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত নন। বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, গত দুই দশকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী সব পেশায় দলীয়করণ হয়েছে। আর সে কারণেই রাজনীতিবিদদের মধ্যে এখন শুধু জনগণের পক্ষে শক্তিশালীভাবে কাজ করে যাওয়ার কেউ নেই। এ সমাজে যে যেভাবে পারছে দুর্নীতি করছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বলেন, অপরাধীরা র্যাব ও পুলিশের নামে এখন দিনদুুপুরে প্রকাশ্যে গাড়ি-মাইক্রোবাসযোগে মানুষ উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি এই ভেবে যে এ ধরনের গুম ও অপহরণ কাজে যাদের ভাড়া করা হচ্ছে, উচ্চ মহল থেকে হয়তো অভয় দেওয়া হচ্ছে যে তাদের কিছু হবে না।
ব্যারিস্টার মইনুল রাখেন_ কোনো অপহৃত ব্যক্তির পরিবারকে তার নিরাপত্তার জন্য কেন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইতে হবে? তারা ফিরে আসার জন্য কেন প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করতে হবে? এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার কথা। কারণ তারা জনগণের বেতনভুক কর্মচারী। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া তাদেরই দায়িত্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। আমরা পুলিশের কাছ থেকে এটি আশা করি না। আমরা মনে করি, পুলিশ সদস্যরা আমাদের বন্ধু। মইনুল হোসেন মনে করেন, দেশের সব মানুষকে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে গুম, হত্যা ও অপহরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বেঁচে থাকার তাগিদ থেকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের কারণে জনমনে আতঙ্ক কাজ করছে। সে কারণেই নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ এখন রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ প্রতিরোধ আরও বাড়বে বলে আমার ধারণা। সে ক্ষেত্রে সরকার তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে অসুবিধায় পড়বে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এগুলো থামাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সমগ্র দেশে নৈরাজ্য চলছে। অথচ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ফেরিডুবিতে যাত্রীদের মৃত্যুর কারণে পদত্যাগ করেন। সেখানে আমাদের মন্ত্রীরা এ ভয়াবহ অবস্থায়ও আরামে দিন কাটাচ্ছেন।







