চট্টগ্রামে সাত কারখানা বন্ধ

0
297
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রামের সাতটি পোশাক কারখানা। এর মধ্যে তিনটি কারখানা বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই পরিচালকের। ফলে বেকার হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পোশাক শ্রমিক। এভাবে একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘোষণায় উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের গার্মেন্ট মালিকরা। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের রিপোর্টের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকার একই ভবনে অবস্থিত মেনস অ্যাপারেলস, ডে অ্যাপারেলস, ডে ফ্যাশন ও বায়েজিদ ড্রেসেস এবং চকবাজারে একই ভবনে অবস্থিত আরএসআই অ্যাপারেলস, কেন্ট অ্যাপারেলস ও শাহচান অ্যাপারেলস বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ডে অ্যাপারেলস ও ডে ফ্যাশনের চেয়ারম্যান বিজিএমইএ পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব এবং অন্য পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ আরএসআই অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

দীর্ঘদিনের শ্রম-সাধনায় প্রতিষ্ঠিত কারখানা হঠাৎ বন্ধ ঘোষণায় শ্রমিক উত্তেজনার আতঙ্কে থাকা মালিকরা কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অ্যাকর্ডের রিপোর্টের ভিত্তিতে এ মাসের শুরুতে আতুরার ডিপো এলাকায় একই ভবনের চারটি কারখানা আকস্মিক বন্ধের ঘটনায় তীব্র শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। এ সময়ে শ্রমিকদের হামলায় কারখানাগুলোর প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এতে একদিকে কারখানা মালিককে দীর্ঘদিনের ব্যবসা হঠাৎ গুটিয়ে নিতে হয়েছে, অন্যদিকে বেকার হয়েছে অন্তত তিন হাজার শ্রমিক। বন্ধ হওয়ার তালিকায় রয়েছে আরো অনেক কারাখানা। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে চট্টগ্রামের গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিকরা।

গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের এই কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে বিজিএমইএ সূত্র জানায়। তবে এখন পর্যন্ত কয়টি গার্মেন্ট পরিদর্শন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বিজিএমইএর কাছে নেই। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ কর্মকর্তারা জানান, বায়াররা সংশ্লিষ্ট কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ করেই পরিদর্শনে আসে। এই পরিদর্শন বিজিএমইএকে অবহিত করা হয় না।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী কারখানা বন্ধের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তার অনেক দায়বদ্ধতা থাকে। কারখানার শ্রমিকদের বেতন, পাইপলাইনে থাকা পণ্যের বিপরীতে ব্যাংক লোন ও অর্ডার বাতিলের বিষয়টি জড়িত থাকে। এ অবস্থায় একটি কারখানা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া মানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া।’

নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পোশাকশিল্পে এখন কঠিন সময় চলছে। যেসব কারখানায় পরিদর্শন এখনো হয়নি তাদের অর্ডার পেতে সমস্যা হবে। এসব কিছু রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে।’ তিনি জানান, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিদর্শন শেষে রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে বাংলাদেশের পোশাক খাত আসলে কোন দিকে যাচ্ছে।

হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া গার্মেন্ট মালিকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত উল্লেখ করে ডে অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স বায়ারদের পক্ষ হয়ে কারখানা পরিদর্শনে এসেছে। তারা যেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে, সেটা বন্ধ করতে বলছে। তিনি বলেন, ‘কারখানা বন্ধ না করেও সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়। এ কথা বলার মতো কেউ নেই। ফলে আমরা উদ্বিগ্ন।’

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বিজিএমইএ চট্টগ্রামের লেবার অ্যান্ড ফায়ারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ন ম সাইফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ধ হওয়া সাতটি কারখানার মধ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্ধ হয়েছে চকবাজার ও আতুরার ডিপো এলাকার একটি করে কারখানা। বাকিগুলো এই দুই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পড়ে যাওয়ায় সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।’

আ ন ম সাইফুদ্দিন বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার জন্য অ্যাকর্ড কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না। আর অ্যালায়েন্সের রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্ধ হওয়া কারখানাটির শ্রমিকদের দুই মাস বেতনের অর্ধেক পরিশোধ করবে।

শেয়ার করুন