ধানমণ্ডি মাঠ: উত্তপ্ত শুনানিতে বিব্রত বিচারক

0
287
Print Friendly, PDF & Email

সোমবার শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির বেঞ্চ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

বিচারকের বিব্রতবোধে বিচারাধীন মামলা সাধারণত প্রধান বিচারপতি দপ্তরে যায়। সেখান থেকে তা যাবে অন্য কোনো বেঞ্চে।

এই মামলায় এক বিচারকের বিব্রতবোধের কথা অন্য বিচারক জানানোর পর আবেদনকারীর আইনজীবী মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে ফেরত দেয়ার আর্জি জানান, যেন তারা স্বাধীনভাবে অন্য কোনো আদালতে যেতে পারেন।

আদালত এরপর রিট আবেদনের অনুলিপি ও সঙ্গে দেয়া আইনের কয়েকটি বই ফেরত দেয়।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ফিদা এম কামাল। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, ইকবাল কবির লিটন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব মাঠটি বন্ধ করে তাতে স্থাপনা তৈরি করায় তার বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন ও কয়েকজন ক্রীড়াবিদ আন্দোলনে নামেন।

এর মধ্যে মাঠটি উন্মুক্ত করতে আদেশ চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনসহ ছয়জন।

এনিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ধানমণ্ডি মাঠটি উন্মুক্ত করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।

তার দুদিন পর হাই কোর্টে মাঠ উন্মুক্তের আদেশ চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি শুরু হয়।

অন্য একটি মামলা থাকার পরও আদালতে আসার কারণ বিচারক জানতে চাইলে ফিদা এম কামাল বলেন, “আপনারা শুনতে না চাইলে খারিজ করে দেন, আমরা আপিল বিভাগে যাব।”

এই পর্যায়ে উচ্চস্বরে আইনজীবী ও বিচারক উভয়ে পরস্পরের উদ্দেশে কথা বলতে থাকেন।

বিচারক ওই আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি যেভাবে কথা বলেছেন। সেটা কিন্তু ঠিক না। এটা আদালত। শুনতে না চাইলে খারিজ করে দেন মানে কী? আমরা তো শুনছি ।”

এভাবে শুনানি এগিয়ে চলার এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, “আমার ব্রাদার বিব্রতবোধ করছেন।”

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “শুনানির এক পর্যায়ে ‘হট টকে’ এক বিচারক শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এখন তারা চাইলে অন্য কোনো আদালতে যেতে পারবে।”

আদালত থেকে বেরিয়ে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আইনজীবীর নিকট আদালত জানতে চান, এ ব্যাপারে তো আলাদা একটি রায় রয়েছে। আপনারা এরপরও কেন এখানে নতুন রিট নিয়ে এসেছেন?

“জবাবে তিনি বলেন, এটা একটা অন্য রকম মামলা। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ দেয়া ওই রায়ে খেলাধুলার কাজে ব্যবহৃত ছাড়া অন্য সব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়। যে রায় আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। সেই রায় অমান্যের অভিযোগে বিবাদীদের বিরুদ্ধে অবমাননার রুলও হয়েছে।”

গত সোমবার রিট আবেদনটি দায়েরের পরদিন এই দুই বিচারপতির বেঞ্চে এর ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল এই মামলায় শুনানি করতে চান উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে শুনানি এই সপ্তাহে চলে আসে।

শেয়ার করুন