সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে হত্যা করেছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সিরাজুল ইসলাম (৪৫)। বাবা মৃত বাবুর আলী সরদার। বাড়ি দেবহাটা উপজেলার চিনেডাঙা গ্রামে। তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলা এলাকায় সিরাজুলের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন বলে তারা জানতে পারে। আজ ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে অভিযানে বের হয় পুলিশ। ভোর চারটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য পাঁচ-ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এভাবে ১০-১৫ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় সিরাজুলকে উদ্ধার করে পুলিশ। দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তির ছেলে মনিরুল ইসলাম ও মেয়ে ফাতেমা বেগম দাবি করেন, তাঁদের বাবা একজন সবজি ব্যবসায়ী। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে তিনি কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে তাঁদের বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ সকালে তাঁরা বাবার নিহত হওয়ার খবর জানতে পারেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন জানান, নিহত সিরাজুলের নামে আওয়ামী লীগ নেতা আবু রায়হান হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটারগান ও তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।






